ঢাকা, শনিবার 21 July 2018, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আমাদের লক্ষ্য কাঙ্ক্ষিত জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা -কাদের সিদ্দিকী

স্টাফ রিপোর্টার: কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, জাতীয় ঐক্যের চেষ্টা অনেক দিন ধরেই করছি। তবে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা নয়। আমাদের লক্ষ্য সরকার এবং বিএনপির সমদূরত্বে থেকে কাক্সিক্ষত জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। আমরা বি. চৌধুরী আর ড. কামাল হোসেনের কার্যকর নেতৃত্ব চাই। এটা ফ্রন্ট হোক বা জোট হোক, তার প্রধান হবে বি. চৌধুরী। নির্বাচনের পর সরকার গঠন করলে সরকার প্রধান হবেন ড. কামাল হোসেন।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীর প্রতিক, কাদের সিদ্দিকীর ভাই ও দলের নেতা প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকী, দলের নেতা আমিনুল ইসলাম তারেক, শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, আজাদ সিদ্দিকী প্রমুখ।
চারদলীয় যুক্তফ্রন্টে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আছে কিনা এমন প্রশ্নে কাদের সিদ্দিকী বলেন, যুক্তফ্রন্ট এখনও প্রেস কনফারেন্স করে নাই, কিংবা প্রকাশ্যে কোনো আলোচনাও করে নাই। আমি এখনও বলতে পারি না আমি আছি কি-নাই।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ছাত্রলীগ দিয়ে গু-ামি মাস্তানি করিয়ে আপনার ক্ষমতা দীর্ঘায়ু করতে পারবেন না। শক্তি দিয়ে কেউ কোনোদিন টিকে থাকতে পারে না। প্রভাবমুক্ত জাতীয় নির্বাচনের উপায় নির্ধারণে সব দল শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে জাতীয় সংলাপ প্রয়াজন। সব পেশার লোককে ডেকে সুষ্ঠু ও সামাজিক পরিবেশ তৈরি করুন।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, যে ছাত্রলীগ আগে ছিল জনসাধারণ ও ছাত্রদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার, সেই ছাত্রলীগ এখন গু-ামিতে ব্যস্ত। তারা এখন হাতুড়ি নিয়ে সাধারণ ছাত্রদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। শিক্ষকরাও রক্ষা পাচ্ছে না এসব লাঞ্ছনা থেকে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত কয়েকদিন ধরে একটি কথা বলছেন, সেটা হলো ‘জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নেই।’ এটা তো গণতন্ত্রেরও কথা। এটা হলে তো জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এটাই চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এটা করলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু তারা তো এটা করেন না। প্রধানমন্ত্রী এখন যে কথা বলছেন, ৫ জানুয়ারি তার লেশ মাত্র ছিল না এবং দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী দেশ বাঁচান, অবিলম্বে জাতীয় সংলাপ আয়োজন করুন। তাতে দেশবাসির অনেক উৎকণ্ঠার অবসান হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে আমরা নির্বাচনে যাবো।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দেয়া হয় এবং আইয়ুব খান যখন খুব কঠোর তখনও বিদেশ থেকে আশা আইনজীবীরা বঙ্গবন্ধুর পক্ষে লড়েছেন। আজ খালেদা জিয়ার জন্য বাইরের আইনজীবীরা কেন লড়তে পারবেন না। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার মামলা সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলন কেন ভারত গিয়ে করতে হবে এটা আমি মানতে পারছি না।
তিনি বলেন, সত্তরোর্ধ্ব সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে এতিমের টাকা চুরির অপরাধে কারাগারে রাখা যা এ দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী বলছেন, মন্ত্রীরা চোর। বিদেশী বন্ধুদের সম্মাননার সোনা চুরি যাওয়া তার উজ্জ্বল প্রমাণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপদ ভল্ট থেকে টাকা পাচার, এমনকি ভল্ট থেকে সোনা চুরি, ডেসটিনি- হলমার্ক কেলেঙ্কারি, শেয়ার কেলেঙ্কারি এসব ঘটনা উন্নয়নের গতি প্রকৃতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ ছাড়া উন্নয়নের নামে লুটপাট চলছে।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে যদি রক্তের গঙ্গা বয়, তার প্রতিকার কী এটা আমাদের ভেবে দেখতে হবে, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমার তো মনে হয় না যে এটার প্রতিকার আওয়ামী লীগ বা বিএনপির হাতে আছে।
লিখিত বক্তব্যে কাদের সিদ্দিকী বলেন, লক্ষ্য প্রাণের বাংলাদেশ আজও কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। এত আত্মত্যাগের পরেও একটি স্বাধীন দেশের বতর্মান দুর্দশার জন্য দায়ী শুধু নেতৃত্বের ব্যর্থতা। দেশে আজ প্রকৃত গণতন্ত্র নেই, রাজনীতি নেই, সুশাসন নেই, স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই। সংবাদপত্র ও ইল্ট্রেনিক মিডিয়ার স্বাধীনতা নেই, নেই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা। সর্বোপরি নেই কথা বলার অধিকার ও স্বাধীনতা। এমনকি স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর সরকারি প্রভাবমুক্ত অবাধ নির্বাচনের আশা এখনও সুদূর পরাহত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ