ঢাকা, শনিবার 21 July 2018, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুরবানির ঈদকে ঘিরে খামারিরা পার করছেন ব্যস্ত সময়

রংপুর অফিস : কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে রংপুর বিভাগের ছোট বড় ১লাখ ১০ হাজার খামারি ৫ লাখের বেশি গরু মোটা মোটাতাজাকরণ করতে এখনব্যস্ত সময় পার করছেন।
কুরবানির ঈদের বাজার ধরতে ভালো দাম পাওয়ার আশায় নিজেদের গচ্ছিত স্বল্প পুঁজির বিনিয়োগ করে কুরবানির বাজার ধরার জন্য গবাদিপ্রাণী পালন করছেন। আর প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর সুস্থ সবল গরু পালনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয় এবং খামারিদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
কুরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতাদের মন আকর্ষণ করতে এবং বেশি লাভের আশায় রংপুর মহানগরী ও জেলার রংপুর সদর উপজেলাসহ বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা, মিঠাপুকুর এবং পীরগঞ্জ উপজেলায় গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের কার্যক্রম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। কুরবানীর ঈদে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার গরুকে ক্ষতিকারক স্টেরয়েট ট্যাবলেট খাইয়ে মোটাতাজাকরণের মাধ্যমে বাজারজাত করণের মিশন হাতে নিয়েছে প্রায় ৬ হাজার মওসুমী ব্যবসায়ী ও খামারী বলে জানা গেছে। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী খামারীরা ক্ষতিকর পদার্থ গরুকে খাওয়াচ্ছেন না। প্রশিক্ষণ লব্ধজ্ঞান দিয়েই তাঁরা স্বাস্থ্য সম্মতভাবে স্বাভাবিক নিয়মে গরু মোটাতাজা করছেন। তবে প্রাণিস¤পদ অধিদপ্তর সূত্র স্বীকার করছে এক শ্রেণির মওসুমী ব্যবসায়ীরা গরুকে মোটাতাজা করতে স্টেরয়েট জাতীয় ওষুধ খাওয়াচ্ছেন। পীরগঞ্জ উপজেলা প্রাণীস¤পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জে দুগ্ধ খামার রয়েছে ২ হাজার ১৬৫টি। এসব খামারে ষাঁড় বলদ গাভী আছে প্রায় ১৮ হাজার। ছাগল ১০ হাজার ৮শ, ভেড়া প্রায় ১ হাজার ৮শ সহ মোট প্রায় ৩১ হাজার। এছাড়াও অন্যান্য প্রাণি রয়েছে ২ হাজার। জানা গেছে, খামারী ছাড়াও মওসুমী ব্যবসায়ী রয়েছে ৬ হাজারের ওপর। এসব ব্যবসায়ীরা প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার গরুকে ওষুধ খাইয়ে মোটাতাজা করে বাজারজাত করণের প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে। ব্যবসায়ীরা কুরবানীর ঈদের ৪ থেকে ৫ মাস আগে গরু ক্রয় করে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য খাইয়ে মোটাতাজা করে। এসব গরুর গোশত খেলে মানব দেহে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। বেশকটি খামার ও ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে জানা গেছে ক্ষতিকর স্টেরয়েটর জাতীয় ওষুধ খাইয়ে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। এই জাতীয় ওষুধ গরুর দেহে অধিক মাত্রায় পানি ধারণের ক্ষমতা বৃদ্ধিপায়। এতে গরুর শরীর ফুলে ফেপে ওঠে এবং গরুক স্বাস্থ্যবান দেখায়। এছাড়া গরু দ্রুত মোটাতাজা হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এ কারণে গরুর হৃদপি- ও যকৃৎ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাণীস¤পদ অফিস থেকে গরুকে এ জাতীয় ওষুধ খাওয়াতে নিষেধ করা সত্ত্বেও এক শ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ী ও খামারী কুরবানীর ঈদকে সামনে রেখে এসব ক্ষতিকারক ওষুধ ব্যবহার করছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এ জাতীয় ওষুধ ভারত থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চোরাই পথে দেশের ভিতরে নিয়ে আসে চোরাকারবারীরা। এসব প্রকল্পে স্বাভাবিক খাদ্য খাইয়ে গরু মোটাতাজা করা হয় বলে দাবী করেছে প্রাণি স¤পদ অধিদপ্তর। প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মাসুদার রহমান জানান, স্টেরয়েট জাতীয় ঔষধ সেবনের ফলে গরুর চর্বি মাত্রাধিকভাবে বেড়ে যায়। চর্বি মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া এসব গরুর গোশত খাওয়ার ফলে মানব দেহের লিভার দুর্বল ও কিডনির সমস্যা হতে পারে।
রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট এলাকার গরু খামারী আলাল মিয়া জানান, গত বছর তিনি ৯টি গরু পালন করেছিলেন। সে সময় তার বেশ লাভ হয়েছিল। এ বছর তিনি ১১টি গরু পালন করছেন। এ বছরও লাভ হবে বলে আশাবাদ তাঁর। খামারী ময়নাল মিয়া বলেন, রোজার ঈদের পর থেকেই তিনি ৬টি গরু মোটাতাজাকরণ শুরু করেছেন। নিয়মিত খইল, কুঁড়া ও ভূষি খাওয়াচ্ছেন কুরবানির বাজার ধরার জন্য।
রংপুর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেরেছ, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ১ লাখ ১০ হাজার ৫২০টি গরুর খামার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে সবেচেয়ে বেশি খামার রয়েছে রংপুর জেলায় ৩৩ হাজার ১৫৫টি। স্থানীয় সরকারী প্রাণি চিকিৎসকদের সহযোগিতায় এ বছর রংপুর বিভাগের আট জেলায় কুরবানিযোগ্য প্রায় ৫ লাখ ৬৭ হাজার প্রাণী মোটাতাজাকরণ হচ্ছে। এর মধ্যে ছাগল ও ভেড়া ১ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি এবং গরু, মহিষ, বলদ, ষাঁড় ও গাভী প্রায় ৩ লাখ ৯১ হাজার। কুরবানি উপলক্ষে খামারীরা ঘাস, গমের ভূষি ও ভুট্টা ভাংঙ্গা খাওয়াচ্ছেন গরুর স্বাস্থ্য ভাল করার জন্য।
রংপুর জেলা গরু খামারী সমিতির সদস্য চৌধুরী হোসেন জানান, তারা খইল, কুড়া ও ভূষির মাধ্যমে মোটাতাজা করণ করে যাচ্ছেন। কেউ কেউ বেকারত্বের অভিশাপ ঘোঁচাতে, আবার কেউ সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে এসব খামার গড়ে তুলেছেন
রংপুর বিভাগীয় প্রাণী সম্পদের উপপরিচালক ডক্টর মাহবুবুর রহমান জানান, ঈদে ক্রেতারা যাতে সুস্থ সবল গরু পেতে পারে সেদিক লক্ষ্য রেখেই খামারীদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ