ঢাকা, শনিবার 21 July 2018, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচন ২০১৮

রাজশাহী : গতকাল শুক্রবার রাজশাহীতে মেয়র নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী বুলবুল ও আ’লীগ প্রার্থী লিটন জনসংযোগ করেন -সংগ্রাম

# পোলিং এজেন্টদের বাড়ি থেকে কেন্দ্রে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা চাই -বুলবুল

# নির্বাচনের সময় তালিকা করে আটক করা পুলিশের বিষয় -লিটন

রাজশাহী অফিস : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চয়তা দিতে হবে তার যে ১৪০০ পোলিং এজেন্ট থাকবে- তারা নিজ বাড়ি থেকে ৩০ (জুলাই) ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে। সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, তিনি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান। আর নির্বাচনের সময় সন্দেহভাজনদের তালিকা করে আটক করাটা পুলিশের বিষয়।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী চেম্বার ভবন মিলনায়তনে এক গোলটেবিল বৈঠকে মেয়র প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। প্রথম আলো আয়োজিত ‘কেমন নির্বাচন চাই’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে চারজন মেয়র প্রার্থীসহ রাজশাহীর সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রথম আলোর যুগ্ম বার্তা সম্পাদক সোহরাব হাসানের উপস্থাপনায় গোলটেবিল বৈঠকে লিটন ও বুলবুল ছাড়াও মেয়র প্রার্থী হাবিবুর রহমান ও মুরাদ মোর্শেদ বক্তব্য রাখেন। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল অভিযোগ করেন, ‘রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো আলমত নেই। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। ভোটাররা নির্বিঘেœ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন কি না তার পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, একজন মেয়র প্রার্থী নগরের সব জায়গা দখল করে পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার টাঙিয়ে দিয়েছে। অন্য কোনো প্রার্থীর জন্য এগুলো টাঙানোর কোনো জায়গা রাখেনি। তারপরও ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। আমাদের কোনো অভিযোগ আমলেও নেয়া হচ্ছে না। কর্মীদের গ্রেফতার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেয়ার অভিযোগ তুলে বুলবুল বলেন, নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পরে আমাদের কর্মীদের নামে সাতটা মামলা হয়েছে। ওসিদের টেলিফোন করলে বলে উপরের নির্দেশ। তিনি বলেন, ‘আমার ১৪০০ পোলিং এজেন্টকে নিজ বাড়ি থেকে ভোট কেন্দ্র যাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এজেন্টরা যদি ভোট কেন্দ্রে যেতে না পারে তা হলে নির্বাচন করে আমাদের কোন লাভ নেই। ফলে ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকবেন কি না- সেটি নিয়ে এখন সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের যদি কোনো ঘটনা ঘটে তবে এর দায় নির্বাচন সচিব, রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে নিতে হবে।’
অন্যদিকে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল আবেগ ও ক্ষোভ থেকে অনেক কিছু বলছেন। কখনো বলছেন, এ নির্বাচন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের নির্বাচন; কখনো বলছেন, সরকারের চেহারা উন্মোচনের নির্বাচন। আবার এটাও বলছেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলছি, আমাদের পক্ষ থেকে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হোক বা কোনো অনিয়ম হোক; এমন কোন কাজ আমরা করতে দেব না। আমাদের কর্মীদেরকে ইতোমধ্যেই কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে, অতি উৎসাহী হয়ে কারও কিছু করার দরকার নেই; যাতে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হয়। লিটন আরও বলেন, পুলিশের আটকের বিষয়ে আমার কোন করণীয় নেই। নির্বাচনের সময় পুলিশ সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করে তাদের আটক করে থাকে- এটি পুলিশের বিষয়। কেউ যদি পায়ে পাড়া দিয়ে আমাদের সঙ্গে তর্কে আসে, যুদ্ধে আসে বা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে আসে তা হলে তার অভিযোগ আমরা দিবই। এ ছাড়া কোনো কাজ আমরা করিনি। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, রাজশাহী চেম্বারের পরিচালক সাদরুল ইসলাম, সংঙ্গীত শিল্প মনিরা রহমান, রাজশাহী উইমেন চেম্বারের চেয়াম্যান রজিটি নাজনীন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ