ঢাকা, শনিবার 21 July 2018, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চক্রান্ত বন্ধ করে ১৬ হাজার টাকা মজুরি ঘোষণার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: প্রকৃত মজুরি কমিয়ে দেয়ার চক্রান্ত বন্ধ করে ১৬ হাজার টাকা মজুরি ঘোষণার দাবি করেছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র।
গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেত্তোরা এই দাবি জানায়। গার্মেন্ট টিইউসি’র সভাপতি এডভোকেট মন্টু ঘোষ-এর সভাপতিত্বে এবং শ্রমিকনেতা সাদেকুর রহমান শামীমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন,  বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমীন, সহ-সভাপতি জিয়াউল কবির খোকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ এমএ শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম মিন্টু, দপ্তর সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, শ্রমিকনেতা হেলালউদ্দিন, রীনা আক্তার, ফারজানা আক্তার, শারমিন আক্তার সনিয়া প্রমুখ। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ১২টি গার্মেন্ট শ্রমিক সংগঠনের জোট গার্মেন্ট শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহবুবুর রহমান ইসমাইল।
সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন মজুরি বৃদ্ধির নাম করে গার্মেন্ট শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি কমিয়ে দেয়ার চক্রান্ত চলছে। এই কাজে মালিকদের সাথে হাত মিলিয়ে সরকারও লিপ্ত হয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি শ্রমিক বিদ্বেষি ভূমিকা পরিহার করে অবিলম্বে ১৬ হাজার টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণার দাবি জানান। তিনি হুঁশিয়ারি উ”চারণ করে বলেন, সরকার শ্রমিকের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত হলে দেশের শ্রমিক মেহনতি মানুষ তার সমুচিত জবাব দেবে। তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে ১৬ হাজার টাকা ঘোষণা না হলে, বর্তমান বাজার দর বিবেচনা করে আরও বেশি মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামবে। কমরেড সেলিম অধিকার আদায়ে শ্রমিকশ্রেণির মজবুত ঐক্য গড়ে তোলার জন্য সমবেত হাজারো শ্রমিকের প্রতি আহ্বান জানান।
শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি কমিয়ে দেয়ার মালিক ও সরকারের যৌথ চক্রান্তের প্রতিবাদে, মজুরি বোর্ডে উভয়পক্ষের প্রস্তাবিত মজুরি প্রত্যাখ্যান এবং অবিলম্বে ১৬ হাজার টাকা মজুরি ঘোষণার দাবিতে আজ এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, মজুরি বোর্ডে মালিক প্রতিনিধির ৬ হাজার ৩৬০ টাকা এবং শ্রমিক প্রতিনিধির ১২ হাজার ২০ টাকার প্রস্তাবনা বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিক ও দেশবাসীর কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিজিএমইএ প্রমাণ করেছে যে, তারা সাহিত্যের শায়লক চরিত্রের প্রতিভূ হয়েছে। তারা চরম শোষণ ও নিপীড়ণের পথ পরিহার করে শিল্পে সুষ্ঠু এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ চায় না। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শ্রমিক প্রতিনিধি ইতোমধ্যে নিজেই বলেছেন, তিনি তিনি ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে গিয়ে প্রকারান্তে শ্রমিকদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে মালিকদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন। তারা বলেন, দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সাথে মজুরির প্রস্তাবনা কোনোভাবেই সামাঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গার্মেন্টস শিল্পাঞ্চলে বস্তি বা টিনশেডের প্রতিটি ঘরের ভাড়া ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। সেখানে শ্রমিকদের খাদ্য, চিকিৎসা, সন্তান প্রতিপালন, শিক্ষাসহ কোনোরকমে বেঁচে থাকার মত মজুরি মালিক এবং শ্রমিকপক্ষ প্রস্তাব করেনি। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ