ঢাকা, শনিবার 21 July 2018, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় বিড়ি-সিগারেটের মূল্য তালিকা থাকলেও পণ্যের নেই

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীতে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি হচ্ছে সিগারেট। মুদি দোকান থেকে শুরু করে সকল টি স্টলে পণ্য তালিকা না থাকলেও রয়েছে সিগারেটের মূল্য তালিকা। জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা বলছেন, সম্পূর্ণ আইন অমান্য করে ভিন্ন আঙ্গিকে ধূমপানের বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। যা দন্ডনীয় অপরাধ।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী নগরীতে প্রায় ৪ হাজার মুদি এবং টি স্টলের লাইসেন্স রয়েছে। তবে লাইসেন্সবিহীন রয়েছে প্রায় ৮ হাজার। এ সকল দোকান বা স্টলে মূল্য তালিকার নামে দেয়া হচ্ছে সিগারেটের বিজ্ঞাপন। এক্ষেত্রে প্রশাসন ও জেলা টাস্কফোর্স কমিটির নীরবতাকেই দায়ি করছেন খুলনার নাগরিক সমাজ। ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য (ব্যবহার) (নিয়ন্ত্রণ) আইন (সংশোধন) ২০১৩ এর ৫ ধারা’র (ক) বলা হয়েছে, প্রিন্ট বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, বাংলাদেশে প্রকাশিত কোনো বই, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, পোস্টার, ছাপানো কাগজ, বিলবোর্ড বা সাইনবোর্ডে বা অন্য কোনোভাবে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করিবেন না বা করাইবেন না; এবং এ আইনের একই ধারার (ক) বলা হয়েছে, তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়স্থলে (পয়েন্ট অব সেল্স) যে কোনো উপায়ে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করিবেন না বা করাইবেন না। কিন্তু কোম্পানিগুলো এ আইন অমান্য করে তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করছে নানা কৌশল। যা বেআইনী। অনেকগুলো সিগারেট এর নাম এবং দাম সম্বলিত ফেস্টুন তৈরি, স্টিকার তৈরি করছে এবং ন্যায্য মূল্যে সিগারেট বিক্রির নিশ্চয়তা দিয়ে তৈরি করছেন প্যানা ফেস্টুন। এ ফেস্টুন বা স্টিকার দোকানের সামনে এবং প্রকাশ্যে সাজিয়ে রাখছে কোম্পানি। যাতে দূর থেকে ধূমপানের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই কৌশলে কোম্পানি তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া রয়েছে, অনেকগুলো সিগারেটের খালি মোড়ক সাজিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা। রয়েছে কোম্পানির নিজস্ব রং এবং বিশেষভাবে তৈরি স্টল এবং শোকেস। প্রচারণায় এমন ফেস্টুনে নিশ্চিত করা হয়ে থাকে যে, সেখানে সিগারেট বিক্রয় হয় এবং কোন কোন কোম্পানি বা ব্র্যান্ডের সিগারেট সেখানে রয়েছে।
হাজী মহসিন রোড এলাকার স্টলের মো. শোভন জানান, কোম্পানি থেকে এসব ব্যবস্থা করে। আর বিজ্ঞপন না দিলে মানুষ জানবে কি করে এখানে সিগারেট রয়েছে। সিগারেটের মূল্য তালিকা থাকা মানে সেখানে সিগারেট পাওয়া যায়।
নিউমার্কেট এলাকার মুদি দোকানদার রিপন জানান, কোম্পানির লোক টাঙিয়ে দিলে কি করবো। খারাপ কি। এ ফেস্টুনে লেখা থাকে ‘ন্যায্য মূল্যে সিগারেট বিক্রি হয়’। আর মুদি দোকানে এতো মালামাল থাকে সবের তালিকা করা সম্ভব হয় না।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন জানান, প্রকাশ্যে ধূমপান এবং বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ। সে কারণে সুকৌশলে সিগারেটের বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে। একমাত্র প্রশাসনই পারে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার কো-অর্ডিনেটর এডভোকেট মো. মোমিনুল ইসলাম জানান, আইনের সাথে এক ধরনের প্রতারণা করছে এ কোম্পানিগুলো। আমি মনে করি জেলা প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে এসব হচ্ছে। এক্ষেত্রে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির নীরবতাও রয়েছে।
খুলনা জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য এবং বেসরকারি সংস্থা সিয়ামের নির্বাহী পরিচালক মাসুম বিল্লাহ জানান, মোবাইল কোর্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে এবং কোম্পানিগুলোকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
খুলনা জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং খুলনার সিভিল সার্জন এএসএম আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমরা জেলা প্রশাসককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জন্য বলেছি। আগামী মাসের প্রথম দিকে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবো। জেলা টাস্কফোর্স কমিটির কোনো দুর্বলতা নেই। তাছাড়া সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনেরওতো দায়িত্ব রয়েছে এ বিষয়ে নজর দেয়ার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ