ঢাকা, শনিবার 21 July 2018, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মাগুরায় দিনের বেলায় ঘটছে চুরির ঘটনা রক্ষা পাচ্ছে না বিচারক ॥ পুলিশের বাসাও

মাগুরা সংবাদদাতা : মাগুরায় ঘটছে দিনে দুপুরে চুরির ঘটনা। চোরেরা  শহরের বাসা বাড়ি টার্গেট করে দিনের বেলায় চুরি করে র্নিবিঘ্নে পালিয়ে যাচ্ছে। বেশকিছু দিন ধরে চুরির এ ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কোন কুল কিনারা করতে পারছে না। দরজা হ্যাজবোল্ড ও তালা ভেঙ্গে ঘরের আলমারীতে রাখা স্বর্ণনিয়ে যাচ্ছে। তারা  ছাড়া অন্য কোন মালামাল নিচ্ছে না বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানায়। এ চুরি থেকে রক্ষা পাচ্ছে না বিচারক ও পুলিশের বাসাও। ১৫ জুলাই মাগুরা প্রেসক্লাবের ৩য় তলায় সাধারণ সম্পাদক এর কক্ষে চুরির ঘটনা ঘটে।
মাগুরা শহরের হাসপাতাল পাড়ায় উপাধাক্ষ্য মোহম্মদ আলীরবাড়ির তিন তলার ভাড়াটিয়া জেলা প্রশাসকের অফিসের কর্মচারি জাহিদুল ইসলামের ভাড়া বাসার দরজার তালা ও হ্যাজবল্ড ভেঙ্গে বাসার আলমারীতে রাখা মোট ৭ ভরি স্বর্ণ ও নগদ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। একই দিনে শহরের স্টেডিয়াম পাড়া এলাকায় একটি বাসা থেকে স্বর্ণ চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানান।
শহরের জেলা পাড়ার বাসিন্দা সৈয়দ ইকবাল আমীন টিপু জানান, বুধবার বেলা ১১ টার সময় নিজ বাসায় তালা লাগিয়ে মেয়ের স্কুলের অভিভাবক মিটিংয়ে যান তার স্ত্রী। দুপুর ১ টায় মিটিং শেষে বাসায় ফিরে দরজা খোলা দেখতে পান। রুমের ভিতর ঢুকে কাগজপত্র বিছানার উপর ছড়ানো ছিটানো দেখতে পাই। এ সময় চোরেরা আলমারীতে রাখা ১০ভরি স্বর্ণ চুরি করে নিয়ে যায়। স্বর্ণ চুরিই তাদের মুল টার্গেট ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বাসায় অন্যান্য দামী মালামাল থাকলেও ১০ ভরি স্বর্ণ ছাড়া অন্য কিছু খোয়া যায়নি তার বলে তিনি জানান।
পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পাশে গত ১৫ জুলাই রাতের কোন এক সময় মাগুরা প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক এর কক্ষে চুরির ঘটনা ঘটে। জানালার লক খুলে গ্রিল কেটে ভিতরে প্রবেশ করে। ভিতরে থাকা সকল আলমারী ভেংঙ্গে ফেলে তারা। তবে একটি দামী ক্যামেরা খোয়া গেছে প্রেস ক্লাবের ।
এর কয়েকদিন আগে জেলা পাড়ার ব্যাংক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের বাসায়  ১২ টার দিকে একই ভাবে ১৩ ভরি র্স্বন চুরি হয়। বাসার ৩য় তলায় রান্নার কাজে ব্যাস্ত থাকায় মাত্র আধা ঘন্টার মধ্যে এ চুরি সংঘঠিত হয়। যার কোন সন্ধান করতে পারে নি পুলিশ। খোয়া যাওয়া স্বর্ণ উদ্ধারে পুলিশের কোন অগ্রগতি না থাকায় মাল ফেরত পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন বলে  জানালেন এই পরিবার। এ সময় তিনি আরো জানান, তার বাসা সংলগ্ন ফেরদৌস হুজুরের বাড়ি ২০১৬ সালে দুপুর বেলায় ২য় তলার একটি ফ্লাটে একই ভাবে চুরি ঘটনা ঘটে।
মাস দুয়েক আগে মাগুরা জেলা জজ আদালতে কর্মরত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শ্রীমতি শম্পা বসু ও সহকারী জজ রোমানা রোজীর বাসায়ও চুরির ঘটনা ঘটে। দুইটা বাসায় দুপুরের সময়ে চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়। সহকারী জজ রোমানা রোজীর বাবা মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) আহসান হাবিব।  
রোজার ঈদের পর শহরের হাসপাতাল এলাকায় ডাক্তার আব্দুস সালাম এর বাসা থেকে আলমারীতে রাখা তার স্ত্রীর ২৫ ভরি স্বর্ণ চুরির ঘটনা ঘটে।
মাগুরা সদর থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বুধবারের  চুরির ঘটনার অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যমে আটক করা সম্ভব হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ