ঢাকা, শনিবার 21 July 2018, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশে বিশ্বমানের শিক্ষার খোঁজে

তারা কেউ এসেছেন যুক্তরাজ্য থেকে, কেউ বা দক্ষিন আফ্রিকা থেকে আবার কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা বা ভূটান থেকে, কেউবা সুদূর মরিশাস থেকে। মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন আর বৈশ্বিক শান্তির খোঁজে ২১তম ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন স্টুডেন্টস কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেল-২০১৮-তে যোগ দিতে তারা এসেছিলেন বাংলাদেশের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। টেকসই উন্নয়ন আর বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে গেলে সবার আগে প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা। সেই মানসম্মত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল ফর টোটাল কোয়ালিটি অ্যান্ড এক্সেলেন্স ইন এডুকেশন। বাংলাদেশে সংস্থাটির প্রতিনিধি বাংলাদেশ সোসাইটি ফর টোটাল কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট। গত ৩-৬ মে বিএসটিকিউএম ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস আশুলিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন স্টুডেন্টস কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেল’ নামের এই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সম্মেলন।
প্রধান অতিথি হিসেবে  এ সম্মেলনর উদ্বোধন করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সমাজের বাতিঘর হচ্ছে শিক্ষা। সুতরাং বাতিঘর যদি মানসম্মত না হয় তাহলে সমাজ সঠিকভাবে আলোকিত হয় না। আর সমাজ আলোকিত না হলে দেশ রাষ্ট্র কিংবা পৃথিবী- কোনো কিছুই আলোকিত হবে না। তাই আমাদেরকে সর্বাগ্রে মানসম্মত শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে । বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ড. মো. সবুর খান বলেন, নিজের উন্নয়ন ঘটাও।
 বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক  তৈরি করো। আর নিজের ওপর আস্থা রেখে পড়ালেখা করো। নিজের উন্নয়ন ঘটাতে পারলেই বিশ্বের উন্নয়ন ঘটবে। তোমাদের নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমেই সমৃদ্ধ হবে আগামীর পৃথিবী।
চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক কনভেনশনে প্রায় ৬০টি স্টুডেন্টস কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেলের কেস স্টাডি ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত মানবিষয়ক ১৩টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এছাড়াও ৪৩টি দল পোস্টার ও শ্লোগান, ৩৯টি দল কোলাজ, ২৯টি দল স্কিট, ৩৩টি দল বিতর্ক, ২৮টি দল কোয়ালিটি কুইজ এবং ১৬টি দল কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। বিস্তারিত কর্মসূচিই বলে দেয় একটুকুও ফুরসত্ ছিলনা কারো জন্য। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সবাইকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে নানা আয়োজন, মেধা অন্বেষণ আর প্রতিযোগিতা নিয়ে।
সম্মেলনে বিশ্বের নয়টি দেশের প্রায় পাঁচ’শ বিদেশী শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুল কলেজের পাঁচ’শ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বলা বাহুল্য, হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় চারদিন মুখর ছিল ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস। সেখানেই কথা হয় মনাসিংহে রাংকোথে কাপিলা, ঊষা নিয়েপানে, ঈষাণ মেহার্জান, গায়ত্রী আগরওয়াল, ইয়াশ যুব রাজেশ, নিশিকা স্বর্ণা, অদিত কুমার, নীল মেধানশ, দিনেশ হারি, জেপিএজে জয়াসিংহে আপিসখা সিংহে প্রমুখ বিদেশী শিক্ষার্থীর সঙ্গে।
নয়নাভিরাম সুবজ বাংলাদেশ আর ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাস দেখে দারুণ উচ্ছস্বিত ছিল এই শিক্ষার্থীরা।
সমাপনী দিনের শেষ সময়টুকু সত্যিই আনন্দমুখর হয়ে উঠে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। একে একে মঞ্চে পবেশনা নিয়ে আসে নেপাল, ভূটান, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও মরিশাস। সবশেষে আসে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পর্দা নামে ২১তম ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন স্টুডেন্টস কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্কেল-২০১৮ আসরের। ইতোমধ্যে ঘোষণা দেয়া হয় ২২ তম আসরের যার স্বাগতিক দেশ হবে ভারত। বিদায় বেলায় সবারই চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। তবে তা ক্ষণিকের জন্য। পরক্ষণেই সেলফি তোলা ও নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি বিনিময়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠে সবাই। দলের অভিভাবক শিক্ষকরা তাড়া দেন-চলো, চলো, ফ্লাইট মিস হয়ে যাবে! শিক্ষার্থীরা গাড়িতে উঠতে থাকে আর পরস্পরকে বলতে থাকে- দেখা হবে বন্ধু, ফেসবুকে-টুইটারে!
-শামসুর রহমান

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ