ঢাকা, শনিবার 21 July 2018, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় কালকিনি পৌরসভার মেয়রকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা

মাদারীপুর সংবাদদাতা : নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় হামলা চালিয়ে কালকিনি পৌরসভার মেয়র এনায়েত হোসেন হাওলাদারকে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে মারাত্মক আহত অবস্থায় মেয়র এনায়েত হোসেনকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহত মেয়র ও তার পরিবারের সদস্যরা জানায়, শনিবার রাতে মেয়র এনায়েত হোসেন ঘুমিয়ে থাকলে একটি মাইক্রোবাস ও ২টি মোটরসাইকেল যোগে ১০ থেকে ১২ জন মুখোশপড়া দুর্বৃত্তরা বাড়ির পেছনের গেইট ভেঙ্গে প্রবেশ করে। এ সময় তারা মেয়রের ঘুমানো কক্ষের জানালা ভেঙ্গে ঘুমন্ত মেয়রকে রাম-দা দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে মেয়র তাৎক্ষণিকভাবে তার বিছানায় থাকা শর্ট গান দিয়ে গুলী করে।
পরে দুর্বৃত্তরা কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে কালকিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার মাথায় ও হাতে অস্ত্রের আঘাতে সামান্য জখম হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কালকিনি উপজেলা চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান শাহীন, মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার দেব, কালকিনি থানার অফিসার ইনচার্জ কৃপা সিন্দু বালা, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মীর মামুনুর রশীদ, সরদার লোকমান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট ওবাইদুর রহমান সোহেল তালুকদারসহ হাজার হাজার গ্রামবাসী।
আহত মেয়র এনায়েত হোসেন হাওলাদার জানান, ‘পূর্ব পরিকল্পিতভাবে খুনের উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে আমার কাছে সর্টগান থাকায় দুর্বৃত্তরা মারাত্মক কিছু করতে পারেনি। তবে এই ঘটনার সাথে আমার প্রতিপক্ষরা জড়িত বলে সন্দেহ করছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃপা সিন্ধু বালা জানান, ঘটনার পর তাৎক্ষণিক আমরা মেয়রের বাড়ী সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করেছি। মেয়রের পরিবার থেকে মামলা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া কালকিনি উপজেলায়ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, কালকিনি পৌর মেয়র এনায়েত হোসেন হাওলাদারের বিরুদ্ধে পৌর পরিষদের ৮ জন কাউন্সিলর দুর্নীতির অভিযোগ এনে অনাস্থার অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গেলো সোমবার সকালে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জয়েন সেক্রেটারী এম. ইদ্রিস সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল দুই পক্ষের কাছ থেকেই তথ্য প্রমাণ হাজির সাপেক্ষে তদন্ত করে। হয়ত তদন্তে মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণে ইতিবাচক ফলাফল না পাওয়ার আশংকায় প্রতিপক্ষরা এ ঘটনা ঘটাতে পারে বলে মেয়র আশংকা প্রকাশ করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ