ঢাকা, শনিবার 21 July 2018, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় প্রাথমিকে নীতিমালা ভেঙ্গেই ‘ডেপুটেশন বাণিজ্য’

খুলনা অফিস: খুলনা মহানগরীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে শিক্ষক বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা ভেঙে মৌখিক ডেপুটেশনে কয়েকজন শিক্ষককে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এতে শিক্ষা কর্মকর্তারা জড়িয়ে পড়ছেন আর্থিক লেনদেন, তদবির ও বদলি বাণিজ্যে। এ কারণে শিক্ষকদের পোস্টিংকৃত মূল বিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হলেও শিক্ষা প্রশাসন থাকছেন নির্বিকার।
জানা যায়, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক আদেশে মহানগরীর ১৮ জন শিক্ষককে একই সাথে সমন্বয় বদলি করা হয়। যে সকল বিদ্যালয়ে শিক্ষক অনুপাতে শিক্ষার্থী অনেক বেশি সেইসব স্থানে নতুন পদ সৃষ্টি করে শিক্ষকদের বদলি করা হয়। যাতে ওইসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। কিন্তু খুলনা সদর থানা শিক্ষা অফিসার সরকারি নীতিমালা ভেঙ্গে ওই সব শিক্ষকদের মৌখিক ডেপুটেশনে পূর্বের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে এনেছেন। এছাড়া কয়েকজন শিক্ষককে পূর্বের বিদ্যালয় ও বদলিকৃত নতুন বিদ্যালয়ের বাইরে সুবিধামত কর্মস্থলে ডেপুটেশনে বদলি করা হয়েছে। এই ডেপুটেশনের পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। বদলি ও ডেপুটেশনের ভয় এবং ‘ম্যানেজ’ করে তা ঠেকানোর কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে সুসম্পর্ক থাকা কয়েকজন শিক্ষক ও থানা-জলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কয়েক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। তথ্য অনুযায়ী, ডেপুটেশন বদলিতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠলে মন্ত্রণালয় এ ধরনের কর্মকা- বন্ধ করে দেয়। নীতিমালা অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ব্যতীত কোনো শিক্ষা কর্মকর্তা ডেপুটেশনে শিক্ষকদের বদলি করতে পারবেন না। জানা যায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে খুলনা সদরের ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আফরোজা আক্তার ও মাজেদা খাতুন ববিতাকে সমন্বয় বদলিতে পূর্বের বিদ্যালয় থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের দৌলতপুর মহসিন বালিকা সরকারি বিদ্যালয়ে যোগদান করতে বলা হয়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে সেখানে যোগদানের পরদিনই থানা শিক্ষা অফিসার মৌখিক নির্দেশে তাদেরকে পূর্বের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু পূর্বের বিদ্যালয়ে তাদের পদ কর্তন হওয়ায় একজন শিক্ষক পুনরায় অন্যত্র বদলি হয়েছেন।
একইভাবে কয়লাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাজনিয়া সুলতানাকে সমন্বয় বদলিতে নেয়া হয়েছে শিপইয়ার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কিন্তু থানা শিক্ষা কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে তিনি বর্তমানে কাজ করছেন বানরগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ