ঢাকা, শনিবার 21 July 2018, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫, ৭ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চাষী প্রশিক্ষণ উদ্বুদ্ধকরণ ও দরপত্র আহ্বান নিয়েও ফাঁকি

মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা সদর সংবাদদাতা : ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে চুয়াডাঙ্গা জোনে ৪৫টি মাঠ দিবসে ৪০ জন চাষীর পিছনে উপকরণসহ খরচ হয় ৯ লাখ টাকা। ওই অর্থ বছরে ১২টি প্রশিক্ষণে ৩৬০ জন ও ৯টি উদ্বুদ্ধকরণসভা ৩০ জন করে ২৭০ জন অংশগ্রহনকারী চাষীর পিছনে উপকরণসহ খরচ হয় ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
চুয়াডাঙ্গা সদর তুলা ইউনিটের তুলা চাষী সুমুরদিয়া গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে শিপন আলী, সিএন্ডবি পাড়ার মরহুম আতর আলীর ছেলে বাবু, ভিমরুল্লাহ গ্রামের পটলের ছেলে খোকা, আলুকদিয়া তুলা ইউনিটের পীরপুর গ্রামের এলাহী বক্স মালিতার ছেলে আব্দুল মতিন দুদু, গোকুলখালী হুদাপাড়ার রেজাউল করিমের ছেলে জিনারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ফলন বৃদ্ধির জন্য চাষী প্রশিক্ষণ, মাঠ দিবস ও উদ্বুদ্ধকরণসভায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারী চাষীদের কাছ থেকে কৌশলে ২/৩টি শিটে উপস্থিতিতির স্বাক্ষর নিয়ে আরো মাঠ দিবস, প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণসভা না করে ওই স্বাক্ষরগুলো ব্যবহার করে এরা ওই খাতে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করে নিচ্ছে। তাছাড়া প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণসভায় কলম ও প্যাড এবং খাবারসহ বিভিন্ন জিনিস কেনার সময় ভুয়া ভাউচার ব্যবহার করেও টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন তুলা ইউনিট কর্মকর্তা অভিযোগ করেছে। টাকা আত্মসাৎ প্রসঙ্গে স্টোর কাম মাঠ কর্মী (অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবরক্ষক) শয়েন চন্দ্র বর্মন বলেন, প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড.আব্দুস সালাম যেটা বলেন আমি সেই মোতাবেক কাজ করি। সে ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম হলেও আমার কিছুই করার নেই। তাছাড়া এ সব সন্ধান করে কোন লাভ নেই। আমরা যা করি তার প্রমাণ করা যাবে না। জানা যায়, এই কার্যালয়ে কোন প্রকার দরপত্র আহবান ছাড়াই সার ও কীটনাশক কেনা হয় পছন্দের ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। খন্ড খন্ড কোটেশনের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে তাদেরকে সরবরাহ আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু নিয়ম হলো কার্যালয় থেকে কোটেশন তৈরি করে ওটা তুলা উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ড, জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে টাঙ্গিয়ে দিতে হবে। পরবর্তীতে সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীরা ওই কোটেশন অনুয়ায়ী নিয়মতান্ত্রিকভাবে দরপত্র দাখিল করবে। তারপর কম দরদাতাকে তাদের সার ও কীটনাশক সরবরাহের আদেশ দেয়া হবে। কিন্তু এ নিয়ম কোন সময়ই মানা হয়নি। কোটেশন টাঙ্গানোর জন্য এ কার্যালয়ে নেই কোন নোটিশ বোর্ড।  অনিয়ম করে প্রত্যেক বছরেই সার ও কীটনাশক সরবরাহের আদেশ দেয়া হচ্ছে চুয়াডাঙ্গার মেসার্স বিশ্বাস ট্রেডার্স, মিমপেক্স এগ্রো, মেসার্স হাসিব ব্রাদার্স ও টোটাল এগ্রো নামের প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে। অভিযোগ রয়েছে টোটাল এগ্রো প্রতিষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গার প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড.আব্দুস সালামের ভাই চাকরি করার কারনে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ কমিশন নিয়ে সেখান থেকে বেশীভাগ কীটনাশক সরবরাহ নেয়া হয়। অবশ্য ভাই টোটাল এগ্রো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে বিষয়টি স্বীকার করে প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড.আব্দুস সালাম বলেন, কমিশন নিয়ে নয়, কিছু কিছু কীটনাশক ওই প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা হয়। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গার মেসার্স বিশ্বাস ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী শাকিল ও মেসার্স হাসিব এন্ড ব্রাদার্সের স্বত্তাধিকারী হাসিব বলেন, কার্যালয়ের নিয়ম মেনে কোটেশন অনুযায়ী দরপত্র দাখিল করে তারা কীটনাশক সরবরাহের আদেশ পায়। তারা দাবী করে এ কার্যাদেশ পেতে তাদের কোন অনিয়মের আশ্রয় নিতে হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ