ঢাকা, রোববার 22 July 2018, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গজাম মুখপাত্র ইমরান সরকারকে আমেরিকা যেতে দেওয়া হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার : গণজাগরণ মঞ্চের (গজাম) মুখপাত্র ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইমরান এইচ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করে এমিরেটাস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে উঠার পর সেখান থেকে তাকে নামিয়ে আনা হয়। পরে আর তাকে বিমান উঠতে দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে দুটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি আমেরিকায় যাত্রা করছিলেন। ইমরান এইচ সরকার গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।
ইমরান এইচ সরকার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে ইয়থ ভিজিটর লিডারশিপ প্রোগ্রাম ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আরেকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি আমেরিকা যাচ্ছিলেন। এমিরেটাস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার যাওয়ার কথা ছিল। এজন্য তিনি বিকেল ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বোর্ডিং পাশ নিয়ে তিনি ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। নির্দিষ্ট সময়ে তিনি বিমানের ভেতরে নিজ আসনে বসলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে সেখান থেকে ডেকে বের করে নিয়ে আসেন। পরে তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় নিয়ে আমেরিকা যাওয়ার কারণ নিয়ে কথা বলেন। এরমধ্যে বিমান ছেড়ে যায়। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে উপরের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র যাত্রা বাতিল করা হয়েছে বলে জানায়।
ইমরান এইচ সরকার বলেন, তারা সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ জানাতে পারেনি। পরবর্তীতে আমাকে পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ইমিগ্রেশন বাতিল করার একটি আবেদনে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। এতে রাজি না হলে পাসপোর্টে ডিপারচার অংশে কলম দিয়ে কেটে দিয়ে তাকে ছাড়া হয়।
ইমরান বলেন, ‘আমার সঙ্গে যা করা হলো তা একটি অগণতান্ত্রিক আচরণ, নিপীড়নমূলক। আমি একটি ভালো কাজে যাচ্ছিলাম। কিন্তু নজীরবিহীনভাবে আমাকে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পর আবার ফিরিয়ে আনা হয়। আমার বিরুদ্ধে কোনও মামলা বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও নেই। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকলে ইমিগ্রেশনের সময় তারা আটকাতো। এরকম নজিরবিহীন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’
ইমরান এইচ সরকার শুক্রবার রাতেই তার ফেসবুক পেইজে এই ঘটনা নিয়ে একটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন। তাতে বলা হয় যে, 'আমেরিকান সরকারের ট.ঝ. উবঢ়ধৎঃসবহঃ ড়ভ ঝঃধঃব এর আমন্ত্রণে অহিংস আন্দোলন, লিডারশিপ, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে আজ ৪ সপ্তাহের জন্য আমার আমেরিকা যাবার কথা ছিল। আমি বোর্ডিংসহ ইমিগ্রেশন শেষ করে বিমানে উঠার সময় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাকে বাধা দিয়েছে। যদিও আমার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কিংবা মামলা নেই। ইমিগ্রেশন শেষ করার পর এ ধরনের বাধার ঘটনা নজিরবিহীন।' আমি সরকারের এই অগণতান্ত্রিক এবং স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।
তিনি আরও লেখেন,সরকারের কীসের এতো ভয় আমি জানতে চাই। ১৯৫৭ সালে পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধুও একই প্রোগ্রামে আমেরিকা গিয়েছিলেন। অথচ তৎকালিন পাকিস্তান সরকার বাধা দেয়নি। আমাদের অবস্থা কি এখন পাকিস্তান আমলের চেয়েও খারাপ???
সরকারের এই নোংরা আচরণে নাগরিক হিসেবে লজ্জিত ছি!!!
এদিকে যোগাযোগ করা হলে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কেউ আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে পুলিশের বিশেষ শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ইমরানকে আটকানোর নির্দেশনা ছিল। তার বিরুদ্ধে আমেরিকা গিয়ে দেশবিরোধী বক্তব্য প্রচারের শঙ্কা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ