ঢাকা, রোববার 22 July 2018, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আগামী ১৬ আগস্ট থেকে খুলনার জোড়াগেটে কুরবানির পশুর হাট শুরু

খুলনা অফিস : খুলনা নগরীর জোড়াগেট কুরবানির পশুর হাট পরিচালনার জন্য খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাট পরিচালনা করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে। এ ব্যাপারে ১৮ জুলাই কেসিসির পশুহাট পরিচালনা কমিটির সভা নগরভবনে অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৯ জুলাই হাটের দরপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। কিন্তু কোনো পক্ষ থেকে দরপত্র দাখিল না করায় বিগত বছরের ন্যায় এবারও কেসিসি নিজস্ব উদ্যোগে জোড়াগেট কোরবানির পশুরহাট পরিচালনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার হাটের ব্যয় কমানোর প্রস্তাবকে সামনে রেখে হাট পরিচালনা কমিটি এগুচ্ছে। আগামী ২৫ জুলাই কেসিসির বিশেষ সভায় কুরবানির পশুরহাট পরিচালনার জন্য কমিটি গঠনসহ নানা বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ঈদের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত জোড়াগেট কুরবানির পশুরহাট চলবে। সে মতে কেসিসি দরপত্র আহ্বান করেছে। এ জন্য দরপত্র দাখিলের জন্য তিন দফা সময় নির্ধারণ করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। দরপত্র দাখিলের প্রথম দফা ছিল ২ জুলাই, দ্বিতীয় ডাক ছিল ১১ জুলাই। তৃতীয় ডাক ছিল ১৯ জুলাই। কিন্তু এ তিনটি তারিখে দরপত্র আহ্বান করেও কোনো সাড়া পায়নি কেসিসি। এবার বিট মূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি ৪০ লাখ ২৯ হাজার ৪১৫ টাকা। গতবারের চেয়ে এবার বিটমূল্য বেশি ধরা হয়েছে ৩৬ লাখ টাকা। কোনো সিডিউলও জমা না পড়ায় পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাট পরিচালনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেসিসি।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, কুরবানির পশুর কেনাবেচার জন্য প্রতিবছর নগরীর জোড়াগেট পাইকারি কাঁচাবাজারে পশুর হাট বসায় কেসিসি। আগে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হাট পরিচালনা করতো। ২০০৯ সাল পর্যন্ত হাট থেকে কেসিসির সর্বোচ্চ আয় ছিল ৪৭ লাখ টাকা। ২০১০ সালের পর থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাট পরিচালনার উদ্যোগ নেয় কেসিসি। সেই থেকে হাটের মাধ্যমে কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছে কেসিসি।

কেসিসির বাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সামসুজ্জামান মিয়া স্বপন জানান, জোড়াগেট পশুর হাট পরিচালনার জন্য পর পর তিন দফা দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে এবার কেউ সাড়া দেয়নি। এ চিন্তা থেকে পূর্ব প্রস্তুতির জন্য ১৮ জুলাই হাট বাজার স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কুরবানির পশুরহাট পরিচালনা কিভাবে করা হবে তার সুপারিশমালা গ্রহণ করা হয়। এ সুপারিশমালা আগামী ২৫ জুলাই কেসিসির বিশেষ সভায় উপস্থাপন করা হবে। ওই সভায় সকল সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি জানান। এ সভায় হাট পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাজার স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান মনি। তিনি আরও বলেন, জোড়াগেট পাইকারি কাঁচা বাজারে কুরবানির পশুরহাট শুরু হওয়ার অনেক আগেভাগেই এবার পশু বিক্রেতারা তাদের নিজ নিজ জায়গা নির্ধারণে তৎপর হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এবার হাটের ব্যয় কমানোর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। বাজার নীতিমালা অনুযায়ী হাট পরিচালনার জন্য আয়ের ১০ ভাগ ব্যয় করা যাবে। তবে বাজার অবকাঠামো উন্নয়নে আয়ের ৪৫% ব্যয় করা যাবে। এ জন্য এবার পূর্ত বিভাগকে চিঠি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া নিরাপত্তা প্রহরী বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্ষা মওসুম শেষের দিকে হাট শুরু হওয়ায় অনেকটা কাদামুক্ত পশুর হাট পেতে পারে গ্রাহকরা। যা বেচাবিক্রি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে অনেকে মনে করেন। এছাড়া এবার নদীর পাড়ের পরিবেশ বিগত বছরগুলোর চেয়ে অনেক ভাল। যা পশু ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষের জন্য সুবিধা হবে।

কেসিসির প্যানেল মেয়র-১ আনিছুর রহমান বিশ্বাষ বলেন, হাট পরিচালনা কমিটির সভায় বিগত বছরগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে এবারও একই সুপারিশ করা হয়েছে। তবে হাট পরিচালনা আর হাট উন্নয়ন এ দু’টি খাত ভিন্ন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ দু’টি খাতকে এক করে ফেলে। এ জন্য পরে ঝামেলা হয়। এবার এ খাত দু’টিকে আলাদা করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ