ঢাকা, রোববার 22 July 2018, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন মেয়র নির্বাচন ২০১৮

রাজশাহী : গতকাল শনিবার রাজশাহীতে মেয়র নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী বুলবুল ও আ’লীগ প্রার্থী লিটন জনসংযোগ করেন -সংগ্রাম

ধানের শীষের গণসংযোগে বুলবুল
সরকারি প্রার্থীর পরাজয়
নিশ্চিত জেনেই বিএনপি’র
লোকদের গ্রেফতার চলছে
রাজশাহী অফিস : রাজশাহী সিটি নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীর নিশ্চিৎ পরাজয় জেনে বিএনপি নেতাকর্মীদের রাতদিন গণগ্রেফতার শুরু করেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে ধানের শীষের ভোট আরো বেড়ে যাচ্ছে দেখে ভীত হয়ে সরকার দলীয় প্রার্থীর নির্দেশে গ্রেফতার করছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।
তিনি গতকাল শনিবার সকালে নগরীর ৩নং ওয়ার্ডের বহরমপুর, দাসপুকার, ডিঙ্গাডোবা ও কড়াইতলা এলাকায় গণসংযোগ করেন। এসময় তিনি বলেন, সরকার তার মনোনীত প্রার্থীকে খুলনা ও গাজীপুর সিটির ন্যায় জয়ী করার জন্য রাজশাহীতে একই কায়দা অবলম্বন শুরু করেছে। রাজশাহীতে কোনভাবেই  জোর করে ভোট প্রদান করতে দেয়া হবে না। জীবন দিয়েও হলেও  সে অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। বুলবুল বলেন, নির্বাচন কমিশনকে বার বার অভিযোগ করেও কোন লাভ হচ্ছে না। সরকার দলীয় প্রার্থী প্রতিনিয়ত নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন। কোটি কোটি টাকা খরচ করছেন। নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা প্রদান করছেন। তিনি আরো বলেন, নেতাকর্মীদের গণ-গ্রেফতার ও ভয়ভীতি দেখানো বন্ধ না করলে রাজশাহীকে অচল করে  দেয়া হবে। আর এর দায়ভার নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ কমিশনারকে নিতে হবে তিনি বক্তৃতায় উল্লেখ করেন। নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরী করতে নির্বাচন কমিশনকে তিনি অনুরোধ করেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমশিনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার আহবান জানান তিনি। সেইসাথে অতি উৎসাহী পুলিশকে থামানোর জন্য আরএমপি কমিশনারকে আহবান জানান। তিনি বলেন, বিএনপি মাঠে আছে এবং নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্য়ন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকবে এবং বিজয়ী হবে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ৬০ হাজার ভোটে সরকার দলীয় প্রার্থীকে পরাজীত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মিথ্যা প্রচার করে কোল লাভ নেই। জনগণ এই সরকার ও আওয়ামী লীগের চরিত্র সম্পর্কে জানেন। সরকারের ঘৃণ্য আচরণে জনগণ অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। এই নির্বাচনে তারই প্রতিফলন ঘটাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করবে এবং জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেবন। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু, উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সভাপতি শওকত আলী, তানোর পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি ওয়াজির আলী, সাবেক সহ-সভাপতি আনসার আলী, রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, বর্তমান  সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, জেলা যুবদলের সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, মহানগর স্বেচ্চাসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, ৩নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি হাসেম আলী, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহিন আহম্মেদসহ ওয়ার্ডের বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারাণ সম্পাদক, সমাজসেবক, বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং সহস্রাধিক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

নৌকার জনসংযোগে লিটন
নির্বাচন বাঞ্চাল করতে
অপপ্রচার চালাচ্ছে বিএনপি
রাজশাহী অফিস : আওয়ামী লীগ মনোনীত  মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার শুরুর দিন থেকেই প্রচারের পাশাপাশি আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, বিষোদগার, নির্বাচনে কমিশনে লিখিত অথবা মৌখিক অভিযোগ দায়ের করে আসছে। মিডিয়া বা গোলটেবিল বৈঠক সবখানে মনের মাধুরী মিশিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা। বিএনপির যিনি প্রার্থী, সে সর্বদিক দিয়ে ব্যর্থ। ভোটারদের সামনে যাওয়ার মুখ নাই। সেজন্য নির্বাচনকে বাঞ্চাল করার জন্য অথবা প্রশ্নবিদ্ধ করা অথবা নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য এইরকম নানাবিধ চিন্তা মাথায় রেখেই এ সমস্ত কথা বলছে।
গতকাল শনিবার নগরীর ২০নং ওয়ার্ডে গণসংযোগের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। লিটন আরো বলেন, নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রেখেছি। ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণ থাকবে, রাখা হবে। তবে কেউ যদি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অশান্ত করার অপচেষ্টা করে, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিহত করবে। তিনি এরপর সুলতানাবাদ, কাশেমীরা মাদ্রাসা, নতুনপাড়া, মুনসি ডাংগা, বোয়ালিয়া পাড়া এলাকায় বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চান তিনি। গণসংযোগের সময় মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আসলাম সরকারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকার বিভিন্ন মোবাইল দোকানসহ অন্যান্য দোকানগুলোতে গিয়ে স্বাধীনতা ও উন্নয়নের প্রতীক নৌকার মার্কায় ভোট চান। বিকেলে তিনি ২১নং ওয়ার্ডের শিরোইল কাঁচাবাজার এলাকায় এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত শিরোইল বাস স্ট্যান্ড, মহলদারপাড়া, বিহারীপাড়া ও খুলিপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করেন।

রাজশাহীতে নৌকার পক্ষে
আচরণবিধি ভঙ্গের বিভিন্ন
অভিযোগ বিএনপি’র
রাজশাহী অফিস : রাজশাহীতে নৌকার পক্ষে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ করেছে বিএনপি। গত বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার এই বিধি ভঙ্গের অভিযোগ করে রিটার্নিং অফিসে লিখিত চিঠি দেয়া হয়।
অভিযোগসমূহের মধ্যে রয়েছে, গত ১৯ জুলাই নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে নৌকা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থণা করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দারা ও সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল। গত ২০ জুলাই রাতে রাজশাহী মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইনুল ইসলাম হারু, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা শিবলী, রাজপাড়া থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম আপেলকে কোন মামলা ও ওয়ারেন্ট ছাড়া আটক করা হয়। ২১ জুলাই আনুমানিক ভোর ৫টায় রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ওয়ায়েস করনী ডায়মন্ড, ২৬নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইফতিয়ার মাহমুদ বাবুকে এবং দুপুর ১.২০টায় ৬নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি গোলাম নবী গোলাপকে কোন মামলা ও ওয়ারেন্ট ছাড়া আটক করা হয়। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এবং অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত (মাস্টাররোল) কর্মচারীদেরকে জোরপূর্বক, ভয়ভীতি প্রদর্শণ, হুমকি প্রদান করে নৌকার পক্ষে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম চালাতে বাধ্য করা হচ্ছে। রাজশাহীর এবং বহিরাগত কুখ্যাত সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী লোক দিয়ে সমগ্র শহরে ব্যাপকভাবে বিএনপি কর্মীদেরকে লাঞ্ছিত, ভয়ভীতি প্রদর্শণ, লিফলেট কেড়ে নেয়া ও অফিস ভেঙে ফেলা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ বিভাগের মধ্যে একটি বিশেষ অঞ্চলের পোষাকধারী এবং সাদা পোষাকে আইশৃংখলা বাহিনী ব্যাপকহারে গণ-গ্রেফতার, নেতাকর্মীদের বাসায় তল্লাসী, ভয়ভীতি এবং হুমকি প্রদান অব্যাহত রয়েছে। চিঠিতে এ পর্যন্ত দায়েরকৃত কোন অভিযোগের বিচার বা ব্যবস্থা গ্রহণ না করার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এতে গণগ্রেফতার বন্ধ, সন্ত্রাসীদের আক্রমণ প্রতিহত ও নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের প্রতিকার করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ