ঢাকা, রোববার 22 July 2018, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভাঙনে রাজাপুর গ্রামের মানচিত্র পাল্টে যাচ্ছে

খুলনা সংবাদদাতা : প্রতিবছরই ভাঙছে ভৈরব নদের উত্তরপাশ। নদের পাড়ে বাঁধ না থাকায় অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে নদী পাড়ের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গত এক যুগে ভাঙনে বিলীন হয়েছে বেঙ্গল ফিস, জনতা রাইস মিল, বরফ কল, অয়েল মিলসহ অর্ধশতাধিক বড় স্থাপনা। নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে খেয়াঘাট জামে মসজিদসহ বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি। এ অবস্থায় ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে উপজেলার মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, ভৈরব নদের একপাড়ে খুলনা মহানগরী, অন্যপাড়ে রূপসা উপজেলা। একপাড়ে শহর থাকায়, সেখানে শক্ত বেড়িবাঁধ রয়েছে। ভৈরবের অন্যপাড়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন শিল্প কারখানা। কিন্তু নদী ভাঙনের কবলে পড়ে অনেক প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে গেছে। বছরের পর বছর ধরে এমন ভাঙন চললেও ভৈরব নদের উত্তর পাড়ে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি কোনোদিনও।
ভৈরব নদীর উত্তর পাড়েই রাজাপুর গ্রাম। রাজাপুর খেয়াঘাটে ৫০ বছর ধরে নৌকা চালাচ্ছেন মাঝি আবুল হোসেন। তিনি বলেন, এক সময় নদীর ১৫০ গজ পর্যন্ত মানুষের ঘরবাড়ি, বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিলো। ভাঙতে ভাঙতে নদী এখন মানুষের দুঃখে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় নদী ভাঙলে ব্যবস্থা নিতে শোনা যায়, কিন্তু গত ৫০ বছরে ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখিনি।
নদী পাড়ের নর সুন্দর চিত্তরঞ্জন শীল জানান, দুই বছর আগে যেখানে দোকান ছিলো সেখানে এখন শুধু পানি আর পানি। গত এক যুগে একাধিকবার দোকান পাল্টানো লেগেছে তার।
ভৈরব নদ পাড়ের আইচগাতী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী জুলু বলেন, গত এক যুগে বেঙ্গল ফিস, জনতা রাইস মিল, বরফ কল, অয়েল মিলসহ অর্ধ শতাধিক স্থাপনা ভাঙনে বিলীন হয়েছে। বার বার দাবি জানালেও ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না পানি উন্নয়ন বোর্ডকে। যার কারণে প্রতিবছরই ইউনিয়নের মানচিত্র ছোট হচ্ছে।
ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বাবুল বলেন, ভাঙতে ভাঙতে রূপসা উপজেলার শোলপুর গ্রামটিই এখন নদীর ভেতরে চলে গেছে। ওই গ্রামের ৯০ ভাগ মানুষই তাদের বসতভিটা হারিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক আগে থেকেই ভৈরব নদের ভাঙনের প্রবণতা ছিলো এবং এখনো আছে। নদের ওপারে শহর থাকায়, সেখানে বড় বড় প্রকল্প এবং বিভিন্ন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়। কিন্তু এ পাড়ের গরীব মানুষগুলোর বিষয়েই যতো নির্লিপ্ততা। বিষয়টি নিয়ে সবাই ক্ষুব্ধ। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
আইচগাতী ও রাজাপুর গ্রামের স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরই নদীর পানির উচ্চতা বাড়ছে। আগে শ্রাবণের জোয়ারে গ্রামের ভেতর পানি যেত, এখন আষাঢ়েই নদীর পানির উচ্চতা কয়েকগুণ বেড়েছে। এ অবস্থায় ভাঙন প্রতিরোধের সঙ্গে উঁচু করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ জরুরী।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ভৈরবের উত্তর পাড়ে বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এখন সমীক্ষা যাচাই চলছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ