ঢাকা, রোববার 22 July 2018, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় হজ্জের ভূমিকা

আহমদ মনসুর : হজ্জ ইসলামরূপ প্রাসাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রোকন বা স্তম্ভ। হজ্জে রয়েছে ঈমানি উদ্দীপনার বিরাট উৎস। এর ঐতিহাসিক পটভূমি সম্পর্কে প্রতিটি মুসলমান কমবেশি অবগত। কুফর ও শিরক পরিবেষ্টিত সমাজের সকল বাধা লংঘন করে মূর্তি পূজারী ও তাগুতী শক্তির ধারক রাষ্ট্র ক্ষমতাকে উপেক্ষা করে খালেস ঈমান ও তাকওয়াভিত্তিক একটি জাতি পয়দা করতে হজরত ইবরাহিম (আঃ) আল্লাহর মহব্বতকে অবলম্বন করে  দাঁড়িয়ে ছিলেন নমরূদের সামনে। হজরত ইবরাহিম (আঃ)- এর সে ত্যাগের ইতিহাস, ঈমানের দৃঢ়তা প্রদর্শনে অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়ার ইতিহাস,প্রাণ প্রিয় পুত্রের জবেহর ইতিহাস, ইসমাইলের ধৈর্যের ইতিহাস জাতিকে নতুন করে স্মরণ করবার প্রয়োজনে এবং বান্দাহর মনে খোদায়ী প্রেমের আবেগ ও উচ্ছাস জাগ্রত করার করার জন্য ; মুসলমান জাতির দেহে মজবুতি ও  অন্তরে ঈমানি ঐক্যের জোয়ার সৃষ্ট করার জন্য প্রতিবছর দূর দূরান্ত থেকে তৌহীদের প্রেমে পাগল পতঙ্গ প্রায় মুমিনের দল ছুটে আসে ইবরাহিম (আঃ)-এর প্রতিষ্ঠিত খানায়ে কাবায়, পবিত্র মক্কায়। পৃথিবীর বিভিন্ন কোন থেকে আগত মুসলমান সমবেত ভাবে ঐ ইবাদতে লিপ্ত হয়। ঐ কাজ গুলি করে যা তাঁদের নেতা জাতির পিতা ও পথ প্রদর্শক হজরত ইবরাহিম (আঃ) করেছিলেন।
“মাঝে মাঝে মানুষ তার রবের প্রতি সুতীব্র আকর্ষণ অনুভব করে এবং তাঁর প্রেমে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। তখন সে তার আবেগ উচ্ছাস শান্ত ও তৃপ্ত করার অবলম্বন খুঁজতে শুরু করে। অবশেষে সে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, হজ্জই হচ্ছে একমাত্র উপায় এবং বায়তুল্লাহ্ই হচ্ছে নেই অবলম্বন। (হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা।)
আল্লাহ প্রেমে উদ্বেলিত মানুষগুলি দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে আল্লাহর কাছে ধরা দিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে। আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাহদেরকে  সওয়াব ও কল্যাণে বিভূষিত করেন। হজ্জে রয়েছে মুমিনের জন্য প্রচুর কল্যাণ। বয়তুল্লাহর নির্মান শেষে হজরত ইবরাহিমের প্রতি আল্লাহর যে নির্দেশ এসেছিল তাতে কল্যাণের খোশ খবরী দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছেঃ “এবং মানুষের সভায় আপনি হজ্জের ঘোষণা দিন। তখন তারা পায়ে হেঁটে এবং দুর্বল উটে চড়ে এসে হাজির হবে। যে উটগুলি দূরান্তের পথ অতিক্রম করে আসবে। যেন তারা তাদের কল্যাণ সমূহ প্রত্যক্ষ করতে পারে” -লিাইয়াশহাদু মানাফেয়া লাহুম। (হজ্জ-২৭-২৮) মানুষ এসে দেখুক যে এই হজ্জব্রত উদ্যাপনে তাদের জন্য কী কী কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
এখানে বর্ণিত  ‘মানাফেয়া’ একটি অনির্দিষ্ট জ্ঞাপক শব্দ। এ শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে হজ্জের কল্যাণের ব্যাপকতার দিকে ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে । হজ্জ পালনের মধ্য দিয়ে মানুষ কী এবং কেমন কল্যাণ লাভ করে তা একমাত্র হজ্জে আগমন কারী অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন মুমিনরাই অনুভব করতে পারে। তবে বাহ্যিক দৃষ্টিতে যে কল্যাণ সমূহ অনুধাবন করা যায় সে গুলিও কম নয়।
একজন মুমিন একটা সময়ের জন্য আত্মীয় স্বজন, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা বাণিজ্য ত্যাগ করে দীর্ঘ সফরের কষ্ট স্বীকার করে হজ্জব্রত পালন করতে পারে তখনই যখন তার অন্তর আল্লাহভীতি  ও ভালবাসায় পূর্ণ হয়। তাই হজ্জের প্রথম ও প্রধান কল্যাণ হল, এই হজ্জব্রত পালনের মাধ্যমে হাজী সাহেবরা অন্তরে নতুন করে অর্জন করে হৃদয়ের সজীবতা, প্রেমের উষ্ণতা এবং ঈমানের দৃঢ়তা । ফলে তিনি আল্লাহর কাছে যে প্রার্থনা জানায় তা আল্লাহ কবুল করেন। এ ব্যাপারে রসুল (সঃ) বলেনঃ “ হজ্জ ও ওমরাহকারী আল্লাহর মেহমান । সে তার মেযবান আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তিনি তা কবুল করেন। সে তাঁর কাছে মাগফেরাত চাইলে তিনি তাকে মাগফেরাত দান করেন।” (ইবনে মাযাহ)
হজ্জ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মুসলিম মিল্লাত ইবরাহিম (আঃ)-এর সাথে তাদের সম্পর্ক নবায়ন করে। অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াবার জন্য আল্লাহর পথে মনপ্রাণ কোরবানি করার জজবা লাভ করে হজ্জ পালনের মাধ্যমে। প্রকৃত পক্ষে হজ্জ হল ইসলামী উম্মাহ তথা গোটা ইনসানিয়াতের অস্তিত্ব রক্ষার ও সত্য সফলতার পথে অগ্র যাত্রার মহান রক্ষা কবচ।
এহরাম বাঁধার পর থেকে হাজীদেরকে একটি বিশেষ দোয়া পাঠ করতে হয়। সাড়ে চার হাজার বছর আগে আল্লাহর খলিলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিলঃ“ মানুষের সভায় আপনি হজ্জের ঘোষণা দিন। তখন তারা পায়ে হেটে এবং দুর্বল উটে চড়ে এসে হাজির হবে।” খলিলুল্লাহর সে ডাকে সাড়া দিয়ে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মুসলমান খানায়ে কাবায় এসে উচ্চ কন্ঠে সমবেত স্বরে ঘোষণা দেয় , “প্রভু হে! আমি  এসেছি, হে আল্লাহ! আমি হাজির হয়েছি। কেউ তোমার শরীক নেই, আমি কেবল তোমার আহ্বানে এসেছি। সব তারিফ প্রশংসা তোমার জন্য। কোন কিছুতেই কেউ তোমার শরীক নেই।” এ যেন আল্লাহর তরফ থেকে হজরত ইবরাহিম ডাকছেন। আর হাজীরা সম্মুখে অগ্রসর হচ্ছেন আর জওয়াব দিচ্ছেন, “প্রভু হে! আমি হাজির।” এ ভাবে তলবিয়া পাঠের মাধ্যমে গোটা মিল্লাত যেন শরিক হচ্ছে হজরত ইরাহিম ও হজরত ইসমাইলের সময় হতে প্রচলিত ইসলামী আন্দোলনের সাথে। মুসলিম জাতি শক্তিশালী ঈমান নির্ভেজাল প্রেম ও নজীরবিহীন ত্যাগ ও কোরবানির ইবরাহিমী আদর্শ অনুসরণের মধ্য দিয়ে সমাজের বদ্ধমূল সংস্কার , অসত্য ও খোদাদ্রোহীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণার অনুপ্রেরণা লাভ করে।
পৃথিবীর বিভিন্ন ভূখণ্ডে বিভিন্ন পরিবেশে ইসলামী উম্মাহর অধিবাস হওয়ার ফলে  স্বভাবতই তাদেরকে অনুকুল প্রতিকুল বিভিন্ন সমস্যা ও পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। কখনো তাদের জীবনে থাকে গতি, সজীবতা ও প্রাণচাঞ্চল্য। কখনো আবার জীবনে নেমে আসে সীমাহীন নির্জীবতা অবসাদ ও হীন্মন্যতা। কখনো শিকার হয় সংঘাত সংঘর্ষের এবং নিপীড়ন নির্যাতনের। কখনো বা মোকাবেলা করতে হয় তাহজীব- তমদ্দুন বা সভ্যতা সংস্কৃতির মত গুরুতর সমস্যার কিংবা বৈষয়িক ও রাজনৈতিক প্ররোচনা ও প্রলোভনের। জীবন কখন হয় সম্পদ প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ ; আবার কখনো হয় চরম দৈন্য ও দারিদ্র পীড়িত। কখনো তাদের উপরে চেপে বসে কোন স্বৈরাচারী বাদশাহ ও জালিম শাসক। কখনো বা তাদের ভাগ্য নিয়ে পৈশাচিক খেলায় মেতে ওঠে রাজনৈতিক পাকা খেলোয়ার দল। এমনি ধরনের আরো অসংখ্য সমস্যা জটিলতা ও প্রতিকুলতা  আসে তাদের ব্যক্তি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে। 
এই সকল সমস্যা,  জটিলতা ও প্রতিকুলতকে সফল ভাবে মোকাবেলার জন্যই প্রয়োজন ঈমানের সেই ছাই চাপা নিভু নিভু স্ফুলিঙ্গকে বার বার উস্কে দেয়া ।হজ্জ  ইশক ও মুহব্বতের শীর্ণ ধারাকে ছল ছল কল কল রবের ছন্দময় ও বেগবান ঝর্ণা ধারায় রূপান্তরিত  করে  এবং উম্মাহর প্রতিটি সদস্য ও শ্রেণীকে ত্যাগ, কোরবানি ও আনুগত্য এবং আত্মসমর্পণের ইবরাহিমি চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে তোলে। বলা বাহুল্য যে, খলিলুল্লাহ ইবরাহিমের স্মৃতি ধন্য পুণ্য ভূমির জিয়ারত ও হজ্জ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই শুধু সম্ভব উম্মাহর জীবনে এই আমূল পরিবর্তন ও মহাবিপ্লব সাধন।” (আরকানে আরবাআ)
হজ্জের মাস বিশ্ব ইসলামী পুনর্জাগরণের মৌসুম। এ এমন এক পবিত্র অনুষ্ঠান যেখানে আলমে ইসলামের তথা দুনিয়ার সকল সামর্থবান মুসলমান একত্রিত হয়ে হজ্জের বিভিন্ন কল্যাণ লাভের সাথে সুযোগ লাভ করে গোটা উম্মাহকে এক ও অভিন্ন প্লাট ফর্মে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা গ্রহণের এবং বিভিন্ন জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা ও মত বিনিময়ের মাধ্যমে সঠিক কর্ম পন্থা নির্ধারণের।
হজ্জের প্রভুত কল্যাণের রূপ বিভিন্ন ভাবে দেখা যেতে পারে। সময় ও সুযোগের বিভিন্ন ধারায় কল্যাণের নিত্য নতুন রূপ ও বৈচিত্র ধরা দেয় মুমিনের কাছে। কল্যাণের একটি বিশেষ রূপ বিশ্বমুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠা।
হজ্জের জন্য বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন জাতির অসংখ্য মানুষ সম্মিলিত হয় খানায়ে কাবাতে,  আরাফাতে। সেখানে লক্ষ লক্ষ জনতার ভাষা জাতি বর্ণ, বংশ ও গোত্রের কৃত্রিম বৈশিষ্ট চূর্ণ হয়ে একাকার হয়ে যায়। সমগ্র মানুষের সমন্বয়ে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী একটি বিরাট  বিশ্ব  জামায়াত রচিত হয়। বিশ্ব সম্মেলনের এই বিরাট জামায়াত কেন্দ্রীয় ভাবে গ্রহণ করতে পারে মুসলিম জাহানের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের উপযুক্ত সিদ্ধান্ত। এ কথা ঠিক যে স্থান থেকে স্থানান্তরে গমন এবং একের পর এক বিভিন্ন আহকামে সদা ব্যস্ততা ও নিমগ্নতা হচ্ছে হজ্জের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবুও ইমাম ফকীহগণ  ইচ্ছা করলে হজ্জের আহকাম শেষ হওয়ার পরে একটা উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করে এই বিশ্ব সম্মেলনে মুসলিম জাহানের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের বিভিন্ন পথ বের করে নিতে পারেন।
পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতির  মহাসম্মেলন বহুবার হয়েছে। আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন জাতির সম্মেলন হয় যুদ্ধের ময়দানে এক অপরের গলা কাটবার ফন্দি বের করার  জন্য। অথবা সন্ধি সম্মেলনে বিজিত দেশগুলিকে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার জন্য কিংবা বিশ্ব জাতি সম্মেলনে এক একটি জাতির বিরুদ্ধে ধোঁকা ও প্রতারণার ষড়যন্ত্র , জুলুম ও বেইমানীর জাল ছড়াবার জন্য। অথবা পরের ক্ষতি সাধন করে নিজদের স্বার্থ উদ্ধার করার মতলবে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর লীগ অব নেশনস এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘ গঠন বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যর্থ ফসল। এ সংগঠন বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় নির্যাতিত মুসলমানের জন্য কোন কাজেই আসেনি। বরং তারা  ভেটো প্রদানের ক্ষমতা সংরক্ষণ করে বার বার তা প্রয়োগ করেছে মুসলমানদের  স্বার্থের বিরুদ্ধে। আজ যখন গোটা মুসলিম জাতি পৃথিবীর বিভিন্ন কোনে নির্যাতিত নিষ্পেষিত ,ইহুদী খ্রীষ্টানদের হাতে চরম ভাবে লাঞ্ছিত,যখন সন্ত্রাসবাদের নামে গোটা মুসলিম জাহানের উপর চলছে ধ্বংস যজ্ঞ, তখন বিশ্বসংস্থাগুলি নিশ্চুপ। এহেন পরিস্থিতিত হজ্জের মতো একটি বিশ্ব সম্মেলনকে কাজে লাগিয়ে মুসলিম জাতি তাদের মঙ্গল ও কল্যাণের পথ তৈরী করে নিতে পারে অতি সহজেই। কল্যাণ লাভের এই সুযোগ বার বার প্রতি বছর ঘুরে আসে মুসলমান জাতির সামনে । এই বিরাট বিশ্বসম্মেলনকে কাজে লাগাবার জন্য বিশ্বমুসলিম সমাজের ওলামা, ফোকাহা , বুদ্ধিজীবীগণ  ঐক্যবদ্ধ ভাবে চিন্তা ভাবনা করে যুগোপযুগী একটি আধুনিক পন্থা বের করতে পারেন।
এই সম্মেলনে  গৃহীত সিদ্ধান্ত অতি সহজেইএকই সময় হাজীগণের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে গোটা পৃথিবীতে। তা ছাড়া আরাফার বক্তৃতা হতে পারে মুসলিম জাতির জন্য পথ প্রাপ্তির সহজ উৎস। এভাবে এক বিরাট কল্যাণ প্রাপ্তির রাজপথ খুলে দিতে পারে পবিত্র হজ্জ সম্মেলন।
হজ্জ শুধুমাত্র একটি স্বাভাবিক ইবাদতই নয়,বরং বিশ্বব্যাপী একটি জিহাদের প্রস্তুতি। হজ্জ উম্মাহর জীবনে নতুন চেতনার উন্মেষ, নতুন শক্তির উদ্ভোধন এবং নতুন ভাবে আধ্যাত্মিকতার স্ফুরণ ঘটাতে এক কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। বোখারী শরীফে হজ্জকে অভিহিত করা হয়েছে শ্রেষ্ঠতম জিহাদ বলে। হজরত আয়েশা (রাঃ) রেওয়ায়েত করেন,রসুল (সঃ) বলেছেনঃ হজ্জের প্রস্তুতি নাও এবং উপকরণ সংগ্রহ কর কেননা তাও এক প্রকার জিহাদ।
হজ্জ একটি বার্ষিক বিশ্বমুসলিম সম্মেলন। এ সম্মেলনে হাজির হয়ে মুসলিম উম্মাহর সদস্যগণ ইসলাম বিরোধী জাতি সমূহের অনৈসলামিক প্রভাব থেকে নিজেদের রক্ষা বুহ্য তৈরী করতে পারে। হজ্জ হচ্ছে  মুসলিম সমাজের কল্যাণ লাভের  একটি উত্তম উপায়। হজরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ (রঃ) লিখেছেনঃ হজ্জের একটি উল্লেখ যোগ্য উদ্দেশ্য হল সাইয়েদেনা ইবরাহিম (আঃ) ও সাইয়েদেনা ইসমাইল (আঃ)-এর উত্তরাধিকার সম্পদের যথাযথ হিফাজত। কেননা এরা দুজনে মিল্লাতে হানিফা বা তওহীদী উম্মাহর ইমাম ও পুরোধা। এইমিল্লাতে হানিফাকে দুনিয়ায় বিজয়ী শক্তি রূপে প্রতিষ্ঠিত করাই ছিল রসুলুল্লাহ (সঃ)এর আবির্ভাবের উদ্দেশ্য। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনঃ “এটা তোমাদের পিতা ইবরাহিমের মিল্লাত”, তাই আমাদের জন্য একান্ত অপরিহার্য যে, অমরা মিল্লাতের ইমাম থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে যা লাভ করেছি যথা দশটি স্বভাব সুন্নত ও হজ্জের বিধান ও ক্রিয়াকর্ম সে গুলির যথাযথ হিফাজত করতে। আজ আমাদের সুন্নতে ইবরাহিম কে অনুসরণ করে হজ্জ পালনের মাধ্যমে বিজয়ী শক্তি হিসেবে দুনিয়ায় আবির্ভুত হতে হবে।
হজ্জের একটি অর্থনৈতিক কল্যাণের দিকও রয়েছে।  একটি বিরাট অর্থনৈতিক লেন দেন সম্পাদিত হয় হজ্জকে কেন্দ্র করে। হজ্জ মানুষকে সচ্ছলতা প্রদান করে। আল্লাহর রসুল (সঃ) বলেনঃ “হজ্জ ও ওমরাহ পর পর করতে থাক। কারণ হজ্জ ও ওমরাহ উভয়ই দারিদ্র,  অভাব এবং গোনাহ গুলিকে এমন ভাবে দূর করে দেয় যমন আগুনের ভাট্টি লোহা ও সোনা চাঁদির ময়লা দূরকরে দেয়।”
 এই হজ্জ আমাদেরকে পাপ থেকে পবিত্র করুক ,জালেমের  বিশ্বব্যাপী নির্যাতনের হাত থেকে মুসলিম জাহানকে রক্ষা করুক এবং আমাদেরকে অর্থনৈতিক সাফল্য প্রদান করুক এটাই হোক মুসলিম জাতির কামনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ