ঢাকা, রোববার 22 July 2018, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিষাদময় ইতিহাসের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ‘জিনজিরা প্রাসাদ’

স্মৃতিবিজড়িত জিনজিরা প্রাসাদ -সংগ্রাম

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : বিষাদময় ইতিহাসের করুণ পরিনতির সাথে জড়িয়ে আছে ‘জিনজিরা প্রাসাদ’ এর নাম। বাংলার ইতিহাসের অনেক বিয়োগান্তক ও বেদনাবিধুর ঘটনারও সাক্ষী এই প্রাসাদ। নবাব সরফরাজ খানের (১৭৩৯-১৭৪০) পতনের পর তার মা, স্ত্রী, বোন, পুত্রকন্যা এবং তার হারেমের কয়েকজন নারীকে এ প্রাসাদে অন্তরীণ রাখা হয়। ১৭৫৪ সালে হোসেন কুলি খানের হত্যাকাণ্ডের পর এ প্রাসাদে তার পরিবারের সদস্যদেরও বন্দীজীবন যাপন করতে হয়। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর আলীবর্দী খানের স্ত্রী শরীফুন্নেসা, মেয়ে ও নবাব সিরাজের মা আমেনা বেগম, সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রী লুৎফুন্নেসা বেগম ও তার শিশুকন্যা কুদসিয়া বেগম ওরফে উম্মে জোহরাকে মীরজাফর পুত্র মীরনের নির্দেশে জিনজিরা প্রাসাদে বন্দী রাখা হয়। সিরাজের পতনের পূর্ব পর্যন্ত ষড়যন্ত্রকারীরা ঘষেটি বেগমকে ব্যবহার করলেও সিরাজের পতনের পর আর তাকে কোনো সুযোগই দেয়া হয়নি। অন্তরীণ করা হয় পলাশী যুদ্ধের অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী আলীবর্দী খানের মেয়ে ও নবাবের খালা ঘসেটি বেগমকেও। আমেনা বেগম ও ঘষেটি বেগম দু’জনই পিতার রাজত্বকালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। অবশেষে একদিন পরিচারিকাদের সাথে একই নৌকায় তাদেরকেও ঢাকার এই প্রাসাদে পাঠানো হয়। 
বেশ কিছুদিন বন্দী জীবন যাপন করার পর ১৭৬০ সালে গ্রীষ্মের কোনো এক সন্ধ্যায় ঢাকার বর্তমান কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা প্রাসাদ থেকে আগের স্থানে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আমেনা বেগম ও পলাশীর ষড়যন্ত্রকারী ঘষেটি বেগমসহ নবাব পরিবারের অনেককে নৌকায় ওঠানো হয়। নৌকা যখন বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর সঙ্গমমূলে ঢাকাকে পেছনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছিল তখন মীরনের নিযুক্ত ঘাতক বাকির খান নৌকার ছিদ্রস্থান খুলে দিয়ে নৌকাটি ডুবিয়ে দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই নবাবের মা আমেনা বেগম ও খালা ঘসেটি বেগমসহ নৌকার আরোহী পরিচারিকাদের সবাই ডুবে মারা যায়। বলা হয়ে থাকে নৌকার ৭৩ জন আরোহির সবার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে লর্ড ক্লাইভের হস্তক্ষেপে শরীফুন্নেসা, লুৎফুন্নেসা বেগম ও উম্মে জোহরাকে মুর্শিদাবাদে পাঠানো হয়। ইংরেজ কোম্পানি সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সামান্য বৃত্তির ওপর নির্ভর করে তাদেরকে জীবনধারণ করতে হয়। নবাবের মৃত্যুর দীর্ঘ ৩৪ বছর পর লুৎফুন্নেছা ১৭৯০ সালে ইন্তেকাল করেন। ইতিহাস ঘেরা জিনজিরা প্রাসাদ: শায়েস্তা খান পরবর্তী অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী ‘জিনজিরা প্রাসাদ’। ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরায় অবস্থিত ইতিহাসের বেদনাবিধুর ঘটনারও সাক্ষী এটি। জানা যায়, বাংলার মোগল সুবেদার দ্বিতীয় ইব্রাহিম ১৭ শতকের শেষার্ধে জিনজিরা প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। পুরান ঢাকার বড় কাটারা প্রাসাদ দুর্গের দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদীর প্রান্ত ঘেঁষেই বড় কাটারার আদলে এই জিনজিরা প্রাসাদ নির্মিত হয়। প্রমোদকেন্দ্র হিসেবে নির্মিত হলেও পরে সেখানে বাস করতেন মোগল সুবেদার মুর্শিদকুলি খান। ১৭০৩ সালে তার রাজস্ব প্রশাসন দফতর মকসুদাবাদে স্থানান্তরের পূর্ব পর্যন্ত প্রাসাদটি তার আবাসস্থল ছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে ঢাকা সফরকালে তিনি এই প্রাসাদেই অবস্থান করতেন। ঢাকার নায়েব নাজিম নওয়াজিশ মুহাম্মদ খানের প্রতিনিধি হোসেন কুলি খানের পারিবারিক আবাসস্থলও ছিল এই প্রাসাদ। চারদিকে পানির মধ্যে কয়েক একর জমির ওপর নির্মিত প্রাসাদটি দেখতে অনেকটা দ্বীপের মতই ছিল।
মুর্শিদাবাদ নিযামতের শেষ বছরগুলিতে সংঘটিত বেদনাবিধুর ঘটনার নীরব সাক্ষী ছিল জিনজিরা প্রাসাদ। নবাব সরফরাজ খানের (১৭৩৯-১৭৪০) পতনের পর তাঁর মাতা, স্ত্রী, ভগ্নি, পুত্রকন্যা এবং তাঁর হারেমের কতিপয় মহিলাকে এ প্রাসাদে অন্তরীণ রাখা হয়। মুর্শিদাবাদের রাজপথে হোসেন কুলি খানের হত্যাকান্ডের (১৭৫৪) পর এ প্রাসাদে বসবাসরত তাঁর পরিবার পরিজনকেও বন্দিজীবন যাপন করতে হয়।
অদৃষ্টের এ এক নির্মম পরিহাস যে সর্বশেষ পলাশী যুদ্ধের সাথে স্থানটির নাম জড়িয়ে আছে। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পলাশী নামক স্থানে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধের মাধ্যমেই বাংলা নবাবদের শাসনকাল শেষ হয়, বাংলা বিহার উড়িষ্যার অধিপতির পতন হয়। যার ফলে ভারতবর্ষে পরবর্তী দু’শ বছর ব্যাপী ইংরেজদের শাসনকাল সূচনা হয়। রাজ্যহারা নবাব সিরাজদ্দৌলার স্ত্রী লুৎফুন্নেছা এবং তাঁর শিশুকন্যাকে মীরজাফর পুত্র মীরনের নির্দেশে ঢাকার এ প্রাসাদেই বন্দী করে রাখা হয়। সিরাজের পতনের পূর্ব পর্যন্ত ষড়যন্ত্রকারীরা ঘষেটি বেগমকে ব্যবহার করলেও সিরাজের পতনের পর আর তাকে কেনো সুযোগই দেয়া হয়নি। এ সময় সিরাজের মা আমেনা বেগম, খালা ঘষেটি বেগমসহ পরিবারের  অন্যান্য সবাইকে ঢাকার জিনজিরা প্রাসাদে বন্দী করে রাখা হয়। এরপর এই প্রাসাদ থেকে নিয়ে গিয়ে আমেনা বেগম ও ঘষেটি বেগমকে ধলেশ্বরী নদিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, বাংলার মুঘল সুবেদার দ্বিতীয় ইব্রাহিম খান ১৭ শতকের দিকে জিনজিরা প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। সে সময় (১৬৮৯-১৬৯৭) তাঁর প্রমোদকেন্দ্র হিসেবে প্রাসাদটি পরিচিত ছিল। এর চারপাশে খনন করা হয়েছিল পরিখা। বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছিল প্রাসাদটি। নদীর ওপর একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে কাটরার কাছেই ঢাকা শহরের সঙ্গে এর সংযোগ স্থাপন করা হয়েছিল। প্রাসাদস্থলটি তখন চারপাশে নদী দিয়ে বেষ্টিত ছিলো। এ কারণেই এর নামকরণ করা হয়েছিল দ্বীপের প্রাসাদ।
প্রখ্যাত ব্রিটিশ লেখক জেমস টেইলর তার ‘টপোগ্রাফি অব ঢাকা’ বইতে নবাব ইব্রাহিম খাঁকে জিনজিরা প্রাসাদের নির্মাতা বলে উল্লেখ করেছেন। ইতিহাসবিদরা বলেন, জিনজিরা প্রাসাদের সঙ্গে অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলার ইতিহাসের এক বিষাদময় স্মৃতি জড়িত। নবাব সিরাজউদ্দৌলার মা, স্ত্রী ও শিশু কন্যা এক সময় এই জিনজিরা প্রাসাদে বন্দী ছিলেন। ইতিহাসবিদ নাজির হোসেনের কিংবদন্তি ঢাকা গ্রন্থে বলা হয়, নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরিবারকে দীর্ঘ ৮ বছর জিনজিরা প্রাসাদে বন্দী করে রাখা হয়। মোগল শাসকদের অনেককে এই দুর্গে নির্বাসন দেয়া হয়েছিল। ৪০০ বছরের পুরাতন ধ্বংসপ্রায় এই প্রাসাদটি বাংলার বহু উত্থান পতনের সাক্ষী।
প্রাসাদের অবস্থান: ইতিহাস বিখ্যাত জিনজিরা প্রাসাদের আদিরূপ প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রাসাদটির দুইটি অংশ পৃথকভাবে টিকে রয়েছে। এর একটি পূর্বাংশের তিনতলা সমান একটি স্থাপনা। এটি অনেকটা ফাঁসির মঞ্চ বা সিঁড়িঘর বলে মনে হয়। প্রাসাদের মূল তোরণটির ভগ্নাংশ এ অংশের সাথে সংযুক্ত রয়েছে। ভগ্ন কয়েকটি কক্ষবিশিষ্ট অপর অংশটিও জীর্ণ অবস্থায় টিকে রয়েছে। সোয়ারীঘাট সংলগ্ন বড় কাটরা প্রাসাদ বরাবর বুড়িগঙ্গার ওপারে জিনজিরা। জিনজিরা-জাজিরার অপভ্রংশ, যার অর্থ আইল্যান্ড বা দ্বীপ। এ দ্বীপে ১৬২০-২১ খ্রিস্টাব্দে জিনজিরা প্রাসাদ ‘নওঘরা’ নির্মাণ করেছিলেন তৎকালীন সুবেদার নওয়াব ইব্রাহিম খাঁ। আজ থেকে প্রায় ৪০০ বছর আগে শহর থেকে জিনজিরার মধ্যে চলাচলের জন্য একটি কাঠের পুল ছিল। পুরো প্রাসাদ ও এর আশপাশ মালিকি ও তত্ত্বাবধায়ক পরিবারের পূর্বপুরুষ হাজী অজিউল্যাহ ব্রিটিশ আমলে ১৪ শতক জমি সাফ কবলা মূলে খরিদসূত্রে মালিক। ওয়ারিশসূত্রে বর্তমান মালিক ও পরিবার প্রধান হলেন জাহানারা বেগম এবং হাজী অজিউল্যাহ ও তার শ্বশুর। বর্তমানে এটার মালিকানায় জাহানারা বেগমের ছয় সন্তান।
একদা এটা ছিল নির্জন গ্রাম, যার নাম হাওলি বা হাবেলী। বর্তমানে ঘিঞ্জি বসতি। ছোট গলিপথে একটু এগোতে একটা প্রবেশ তোরণ। তোরণের দুই পাশে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে আবাস গড়ে তোলা হয়েছে। চার দিকে দোকানপাট, ঘরবাড়ি, অট্টালিকা প্রবেশ অনেক কষ্টসাধ্য। স্থানীয়রা এটিকে ‘জিনজিরা প্রাসাদ’ বা ‘হাওলি নওগড়া’ নামেই চেনেন।
প্রাসাদের নির্মাণশৈলী: চার দিকে সুনীল জলরাশির মাঝখানে একখ- দ্বীপ ভূমি জিনজিরা। নারিকেল-সুপারি, আম-কাঁঠালসহ দেশীয় গাছগাছালির সবুজের সমারোহে ফুলে ফুলে শোভিত অপূর্ব কারুকার্যখচিত মোগল স্থাপত্যশৈলীর অনুপম নিদর্শন জিনজিরা প্রাসাদ। এ প্রাসাদটির নির্মাণশৈলী বড়কাটরার আদলে হলেও কক্ষ ও আয়তন অনেক কম। পশ্চিমাংশে দু’টি সমান্তরাল গম্বুজ, মাঝ বরাবর ঢাকনাবিহীন অন্য একটি গম্বুজ ও পূর্বাংশ দোচালা কুঁড়েঘরের আদলে পুরো প্রাসাদের ছাদ। প্রাসাদের পূর্বাংশে ছাদ থেকে একটি সিঁড়ি নিচে নেমে গেছে। মোগল স্থাপত্যের অপূর্ব কারুকার্যখচিত তোরণ প্রাসাদকে দুই ভাগ করে অপর প্রান্তে খোলা চত্বরে মিশেছে। প্রাসাদ তোরণের পূর্বাংশেই ছিল সুড়ঙ্গপথ। ব্রিটিশ-পাকিস্তান আমল থেকে দেখে এলেও অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কেউ ঢুকতে সাহস করত না এই সুড়ঙ্গ পথে। পশ্চিমাংশের অন্ধকার কুঠরি। স্থানীয়রা এ প্রাসাদকে হাবেলী নগেরা বা হাওলি নগেরা বলে। এ প্রাসাদের তিনটি বিশেষ অংশ আজো আংশিক টিকে আছে। তাহলো প্রবেশ তোরণ, পৃথক দু’টি স্থানে দু’টি পৃথক প্রাসাদ, একটি দেখতে ফাঁসির মঞ্চ ও অজ্ঞাত অন্যটি প্রমোদাগার। কয়েক একর জমির ওপর এ প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়েছিল অবকাশযাপন ও চিত্তবিনোদনের প্রান্তনিবাস হিসেবে।
স্থানীয়দের মতে মোগল আমলে লালবাগ দুর্গের সঙ্গে জিঞ্জিরা প্রাসাদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার জন্য বুড়িগঙ্গার তলদেশ দিয়ে একটি সুড়ঙ্গ পথ তৈরি করা হয়েছিল। এপথে মোগল সেনাপতি ও কর্মকর্তারা আসা-যাওয়া করতো। লালবাগ দুর্গেও এমন একটি সুড়ঙ্গ পথ রয়েছে। ইতিহাস দ্বারা প্রমাণিত না হলেও জনশ্রুতি রয়েছে এই সুড়ঙ্গ পথে যে একবার যায় সে আর ফিরে আসে না।
বাংলাপিডিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, জিনজিরা প্রাসাদে ছিল মূল প্রাসাদ ভবন, সুবিস্তৃত দ্বিতল হাম্মাম, দক্ষিণের সদরে প্রহরীকক্ষসহ দ্বিতল প্রবেশ ফটক এবং অষ্টকোণী পার্শ্ববুরুজ। পলেস্তারাবিশিষ্ট দেয়ালঘেরা কক্ষগুলো ছিল আয়তাকার এবং ওপরে কুঁড়েঘর আকৃতির চৌচালা খিলানাকার ছাদ। বাইরের দেয়াল ছিল সুপ্রশস্ত ও ভিত্তিমূল গভীর। প্রাসাদটির নির্মাণকৌশল বড় কাটারার আদলে হলেও এর মোট আয়তন ও কক্ষ ছিল ছোট কাটারার চেয়েও অনেক কম। চারদিকে পানির মধ্যে কয়েক একর জমিতে নির্মিত প্রাসাদটি দেখতে অনেকটা দ্বীপের মতো ছিল। ইতিহাসবিদদের ধারণা, অবকাশ যাপনকেন্দ্র বা প্রমোদ কেন্দ্র ‘কস -ই-জাজিরা’র নামের অপভ্রংশ থেকেই আজকের জিনজিরার নামকরণ হয়েছে। ২০০৩ সালে প্রকাশিত বাংলাপিডিয়ায় প্রাসাদটির ধ্বংসাবশেষের চিত্র তুলে ধরে উল্লেখ করা হয়েছে, মূল প্রাসাদের সাতটি কক্ষ এখনও ভগ্নপ্রায় অবস্থায় টিকে আছে।
কীভাবে যাবেন: জিনজিরা প্রাসাদ একটি ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি যা বাংলাদেশের ঢাকা শহরের বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে কয়েকশ’ গজ দূরে অবস্থান। দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে সড়ক পথে প্রথমে রাজধানীতে আসতে হবে। গাবতলী কিংবা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে নেমে সদরঘাটগামী বাসে উঠতে হবে। সদরঘাটে যাওয়ার পর নৌকা কিংবা ট্রলারে চেপে বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে ওপারে গেলেই দেখা পাবেন জিনজিরা প্রাসাদের। ট্রেন যোগে আসলেও রাজধানীর কমলাপুর ট্রেন স্টেশন থেকে একই উপায় অবলম্বন করতে হবে। আর যারা নদীপথে ঢাকায় আসেন তাদের জন্য সবচেয়ে সহজ জিনজিরা প্রাসাদে যাওয়া। লঞ্চ থেকে সদরঘাটে নেমেই নদীর ওপারে জিনজিরা প্রাসাদ। বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে সোয়ারীঘাট সংলগ্ন বড় কাটরায় গিয়ে খোঁজ করলেই নির্দেশনা পাওয়া যাবে। রাজধানীতে যারা থাকেন তারা ছুটির দিনে পরিবার পরিজনসহ ঘুরে আসতে পারেন বাংলার ইতিহাসের অন্যতম স্মৃতিবিজড়িত স্থান জিনজিরা প্রাসাদ থেকে। নদীপথে যেতে এডভেঞ্চারও হবে আবার স্বচক্ষে দেখার সুযোগও হবে এ ঐতিহাসিক স্থানটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ