ঢাকা, রোববার 22 July 2018, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নগর জীবনে নতুন ব্যবসা প্রাইভেট জেনারেটর সার্ভিস

আখতার হামিদ খান : আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে মানুষের প্রতিটি কাজই সহজ থেকে সহজতর হচ্ছে। রেডিও, টেপ, টিভির মাধ্যমে যেমন মানুষ অবসর সময়টুকুকে বিনোদনমুখর করে তুলছে ঠিক তেমনি দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল হচ্ছে মুহূর্তের মধ্যেই। একদিন বাজার করেই কেউ কেউ সপ্তাহ জুড়ে টাটকা খাবার খাচ্ছে ‘ফ্রিজ’ নামক যন্ত্রটির সাহায্য নিয়ে। সময় ও শারীরিক কষ্ট এ দুটো থেকেই পরিত্রাণ পেতে মানুষ কাপড় কাঁচার দায়িত্বভারটি ছেড়ে দিচ্ছে ‘ওয়াশিং মেশিন’- এর উপর। প্রচণ্ড গরম থেকে শরীরকে রক্ষা করতে এখন কেবল বৈদ্যুতিক পাখা (ফ্যান)-ই একমাত্র ভরসা নয়; সামর্থ্যবানরা ব্যবহার করছে এয়ার কন্ডিশনার (এসি)। কম্পিউটার নামক যন্ত্রটির মাধ্যমে হিসাবরক্ষণ অনেক সহজ হয়েছে মানুষের জন্য। আর তাইতো নানা বিষয়ে উপযোগী এই যন্ত্রটি কেবল অফিস-আদালত বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই নয়, ব্যক্তিগতভাবেও ব্যবহৃত হচ্ছে মানুষের ঘরে ঘরে। আধুনিক বিজ্ঞানের আরও একটি বিস্ময়কর আবিষ্কার হল ’ইন্টারনেট’। ইন্টারনেটের বর্ণিল জগতে যারা প্রবেশ করতে পেরেছে তাদের কাছে পৃথিবীটা যেন হাতের মুঠোয় এসে গিয়েছে। উপরোক্ত এতব সুবিধাভোগ করতে যে শক্তিটি সর্বপ্রথম ও প্রধান উপাদান হিসেবে প্রয়োজনীয় তা হচ্ছে বিদ্যুৎ শক্তি। বিদ্যুৎ শক্তি ব্যতীত উপরোক্ত সুবিধাদি ভোগের কল্পনাই করা যায় না। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের দেশের উৎপাদিত বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহারকারীদের চাহিদা মেটাতে পারছে না। ক্রমাগত চাহিদা যেমন বাড়ছে সে তুলনায় বিদ্যুতের যোগান বাড়ছে না। ফলে লোডশেডিং-এর মাধ্যমে সে ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। বর্তমান সময়ে সারাদেশে বিদ্যুতের চাহিদার পরিমাণ প্রায় তিন হাজার দুইশত মেগাওয়াট যা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। আমাদের দেশে চাহিদার সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না এটা যেমন ঠিক, তেমনি বিদ্যুতের সুষ্ঠু বিতরণ বা ব্যবহারও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না এটাও তেমনি ঠিক। অভিজ্ঞজনরা মনে করেন আমাদের দেশের অনেক এলাকায় মিটার বিহীন বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক। তাছাড়া ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে উপযুক্ত বিল প্রদান হতে বিরত থাকা এবং বিদ্যুৎ চুরির পরিমাণও অনেক। কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা নিঃসন্দেহে কমে যাবে এবং বর্তমান উৎপাদিত বিদ্যুতেই আরও বেশি গ্রাহককে সেবা প্রদানে সম্ভব হবে। বিদ্যুতের সংস্পর্শে প্রতিটি মুহূর্ত কাটাতে অভ্যস্ত মানুষ ‘লোডশেডিং’-এর সময়টুকু অত্যন্ত বিরক্তিকরভাবে অতিক্রম করে। লোডশেডিং-এর সময়টুকু অতিবাহিত করার ক্ষেত্রে শহর এবং গ্রামের মাঝে বেশ ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। গ্রামের মানুষ এ সময় বাঁশের চটি বা তালপাতার তৈরি হাতপাখা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে সামনের আঙিনায় অথবা কোনো খোলা মাঠে। গ্রামে রয়েছে গাছ-গাছালি আর নির্মল শীতল বাতাস। এসময় কেউবা কাটায় পুকুর ঘাটে গল্প করে। কিন্তু শহরের চিত্র ভিন্ন। শহরে ঘন বসতি, পর্যাপ্ত গাছপালা নেই, নেই খোলা মাঠ, এরই মাঝে আবার যানবাহনের কালো ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে বায়ু, রয়েছে বড় বড় কল-কারখানার উত্তাপ। সব মিলিয়ে শহরের আবহাওয়া মানুষ বাসের প্রতিকূল প্রায়। লোডশেডিং সময়টুকুতে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে যদি সকলেই নিজ ভবনের ছাদে উঠে তাতে মোটামুটি একটি বাজারের মত অবস্থা দাঁড়ায়। স্বল্প জায়গায় অনেক মানুষ একত্রি হওয়ায় উত্তাপ আরও বেড়ে যায়। আর এজন্যই শহরের অধিকাংশ মানুষ লোডশেডিং সময়টুকুকে মোকাবেলা করতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। লোডশেডিং সময়টুকুতে বিদ্যুতের যোগান দিতে সামর্থবানদের কেউ কেউ ব্যবহার করে থাকে ‘রিচার্জএবল ব্যাটারি’, কেউ কেউ ব্যবহার করে আইপিএস (IPS)। আবার বিভিন্ন এপার্টমেন্ট বা বহুতল বিশিষ্ট ভবনের মালিকগণ ব্যক্তি উদ্যোগে জেনারেটরও ব্যবহার করে থাকেন। এসব তো গেল বেশি আয়ের লোকজনের কথা। স্বল্প আয়ের লোকজনদের জন্যও রয়েছে ভিন্ন ব্যবস্থা। লোডশেডিং সময়টুকুও তাদের সেবা দিতে শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ‘প্রাইভেট জেনারেটর সার্ভিস সেন্টার’। এসব প্রতিষ্ঠান মাসিক হারে নির্ধারিত টাকার বিনিময়ে লোডশেডিং সময়টুকুতে সেবা প্রদান করে থাকে।
যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান
মহল্লারকোন একটি বাসা বা দোকানে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে জেনারেটর বসানো থাকে। বিভিন্ন ক্ষমতাসম্পন্ন এসব জেনারেটর ডিজেলের মাধ্যমে চলে। জেনারেটর থেকে তার নিয়ে প্রতিটি গ্রাহকের বাসায় সংযোগ দেয়া হয়। এক্ষেত্রে রাস্তায় ব্যবহৃত ল্যাম্পপোস্ট, টেলিফোনের খুঁটি বা বিদ্যুতের খুঁটির সাহায্য নেয়া হয়। এই কাজের জন্য নির্ধারিত লোক নিয়োগ করা থাকে। যখনই বিদ্যুৎ চলে যাবে তৎক্ষণাৎ জেনারেটর চালু করতে ২৪ ঘণ্টার জন্যই পর্যায়ক্রমে লোক নিয়োগ করা থাকে।
উল্লেখ্য যে, এভাবে প্রাইভেট জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিপণনের কোন সরকারি অনুমোদন বা নীতিমালা না থাকলেও সরকারের নীরব সমর্থন লক্ষণীয়। এ পর্যন্ত যতগুলো প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে তাদেরকে কোন প্রকার সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা হুমকির মুখোমুখি পড়তে হয়নি বলে তারা জানান। এসব ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এমন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সরেজমিন তদন্ত করে যেসব তথ্য পাওয়া যায় তা নি¤েœ উল্লেখ করা হলÑ
দৃশ্যপট-১
মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের আওতাভুক্ত ২৬১/৩-বি, মধ্য পীরেরবাগ-এই হোল্ডিং নম্বরে ‘ট্রায়াঙ্গল সার্ভিসেস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা পরিচালনা করেন তিন বন্ধু- নূরুল মোস্তফা (রুমি), ফিরোজ ইফতেখার ও সাদিকুর রহমান। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি সার্বক্ষণিক কর্মচারী নিয়োগের মাধ্যমে তারা এ প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে থাকেন। নিজ নিজ অফিস সময়ের বাইরে বাকি সময়ের অধিকাংশই তারা ব্যয় করেন প্রতিষ্ঠানটিতে। প্রথমত তাদের ব্যবসা ছিল ‘লোকাল ফোন’ সার্ভিস এবং পিএবিএক্স টেলিফোন লাইন সংযোগ। বেশ কয়েক মাস পূর্বে তারা ‘ট্রায়াঙ্গল ইমার্জেন্সি পাওয়ার সাপ্লাই’ নামক নতুন সেবাদান প্রকল্প শুরু করেন। তাদের সেবাদানের মান দেখে মুগ্ধ হয়ে এলাকার প্রায় সকলেই সাড়া দেন এবং তাদের জেনারেটর সার্ভিস চলতে থাকে। ১৫ কি. ভোল্টের একটি জেনারেটর এবং তা স্থাপন ও পরিচালনার আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে তাদের বিনিয়োগ করতে হয়েছে দুই লক্ষাধিক টাকা। এই প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা পেতে হলে সংযোগ ফি দিতে হবে ২৫০ টাকা। সংযোগের তার প্রতিষ্ঠান নিজেই সরবরাহ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি ৪টি প্যাকেজের ভিত্তিতে সংযোগ দিয়ে থাকে।
প্যাকেজ-১ ঃ ২টি লাইট ও ২টি ফ্যানের জন্য মাসিক ফি ৩০০ টাকা।
প্যাকেজ-২ ঃ ২টি টিউব ও ১টি ফ্যানের জন্য মাসিক ফি ২০০ টাকা।
প্যাকেজ-৩ ঃ ১টি লাইট ও ১টি ফ্যানের জন্য মাসিক ফি ১৫০ টাকা এবং
প্যাকেজ-৪ ঃ ১টি লাইট অথবা ১টি ফ্যানের জন্য মাসিক ফি ১০০ টাকা।
প্রতিষ্ঠানের জেনারেটর থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫টি বাড়িতে সংযোগ দেয়া সম্ভব।
দৃশ্যপট-২
৫৬ নম্বর কল্যাণপুর প্রধান সড়ক, ঢাকা-১২০৭- এই হোল্ডিং নম্বরে রয়েছে ‘শাহীন ইলেকট্রনিক্স’ নামের একটি দোকান। এখানে মূলতঃ অডিও ও ভিসিডি ক্যাসেট বিক্রি ও রেকর্ডিং করা হয়। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী মেরামত করা হয়, এছাড়াও এখান থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য মাইক ভাড়া দেয়া হয়। এই দোকানটির পাশেই একটি ১০ কি. ভোল্টের জেনারেটর বসান হয়েছে যেখানে থেকে আশপাশের বেশ কতগুলো বাসায় লোডশেডিং এর সময়টুকুতে বিদ্যুতের যোগান দেয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে সেবা পেতে হলে কোন প্রকার সংযোগ ফি দিতে হবে না। তবে নিজ বাসা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তার কিনে দিতে হবে গ্রাহককেই। মাসিক ফি হিসেবে প্রতিটি টিউব লাইটের জন্য ১০০ টাকা এবং প্রতিটি ফ্যানের জন্য ১২০ টাকা হারে প্রদান করতে হয়।
দৃশ্যপট-৩
৮৯২, শেওড়াপাড়া- এই হোল্ডিং নম্বরে সিন্ডিকেট কম্পিউটারস্ নামে একটি দোকান রয়েছে। এখান থেকে দেশ-বিদেশে ফোন করার ব্যবস্থা ছাড়াও কম্পিউটার কম্পোজ ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আবু সাঈদ শামীম। এখান থেকে সেবা পাওয়া যাবে সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত এগারটা পর্যন্ত। অন্য সময়টুকু এই প্রতিষ্ঠান জেনারেটর চালু করে না। আর এজন্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এই প্রতিষ্ঠানের মাসিক ফি কিছুটা কম নেয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানে সংযোগ ফি নেয়া হয় ২০০ টাকা। মাসিক ফি হিসেবে প্রতিটি টিউবের জন্য ৫০ টাকা, ফ্যান ১০০ টাকা এবং টিভি ১০০ টাকা হারে নেয়া হয়।
দৃশ্যপট-৪
মতিঝিল থানার অন্তর্ভুক্ত ১৬ নং খিলগাঁও বাগিচা- এই হোল্ডিং নম্বরের বাড়িটির নিচেই রয়েছে একটি ‘ফাস্ট ফুড’ দোকান। দোকানের পাশেই রয়েছে একটি জেনারেটর যেখান থেকে মহল্লার মানুষদের সেবা দান করা হয়। পিন্টু নামের একজন পরিচালিত এই জেনারেটরের সেবা পেতে কোন সংযোগ ফি দিতে হবে না। তবে নিজ বাসা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তার কিনে দিতে হবে গ্রাহককেই। মাসিক ফি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে দিতে হবে প্রতিটি লাইট অথবা ফ্যানের জন্য ২০০ টাকা করে।
দৃশ্যপট-৫
কাফরুল থানার অন্তর্গত ৯০৬ নং ইব্রাহিমপুরÑ এই হোল্ডিং নম্বরের বাড়ি থেকে একটি জেনারেটর পরিচালনা করেন মো. হারুন মিয়া। এখান থেকে নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত বারটা পর্যন্ত সেবা দেয়া হয়। এখানে সংযোগ ফি রাখা হয় ১০০ টাকা এবং মাসিক ফি হিসেবে প্রতিটি লাইটের জন্য ১০০ টাকা ও প্রতিটি ফ্যানের জন্য ২০০ টাকা হারে রাখা হয়।
দৃশ্যপট-৬
মিরপুর থানাধীন ৩৯৯ নং দক্ষিণ পাইকপাড়া- এই হোল্ডিং নম্বরের একটি দোকানের নাম ‘আনোয়ার ইলেক্ট্রিক’। দোকানটিতে যাবতীয় ইলেক্ট্রিক সামগ্রী মেরামত করা হয়। দোকানটির পাশেই মো. আনোয়ার হোসেন কর্তৃক একটি জেনারেটর পরিচালিত হচ্ছে। পাশের মহল্লায় ২৯০ নং ঝিলপাড় মোড়ে রয়েছে ‘সঞ্চয়ই শক্তি সমবায় সমিতি’ নামে তরুণদের একটি সমিতি। এলাকার তরুণদের দ্বারা পরিচালিত এই সমিতিটির মোট আটটি ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্পের একটি হচ্ছে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ প্রকল্প। এখান থেকে ২টি প্যাকেজে সেবাদান করা হয়।
প্যাকেজ-১ ঃ ২টি লাইট ও ১টি ফ্যানের জন্য মাসিক ফি ২০০ টাকা, এক্ষেত্রে সংযোগ ফি ৪০০ টাকা।
প্যাকেজ-২ ঃ ১টি লাইট অথবা ১টি ফ্যানের জন্য মাসিক ফি ১০০ টাকা, এক্ষেত্রে সংযোগ ফি ২০০ টাকা।
সুবিধা এবং অসুবিধা
প্রাইভেট জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণের সুবিধা ও অসুবিধা দুই-ই রয়েছে। প্রধান প্রধান অসুবিধার মধ্যে রয়েছে জেনারেটরের বিকট আওয়াজ। এছাড়াও টেলিফোন/বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে থাকা জেনারেটরের তার থেকে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে প্রতিষ্ঠানটি এর দায়ভার কতটুকু গ্রহণ করবে সে প্রশ্ন তো থেকেই যায়। গ্রাহকদের অভিযোগ হচ্ছে অধিকাংশ এলাকায় এসব জেনারেটর মহল্লার প্রভাব বিস্তারকারী মাস্তানদের দ্বারা পরিচালিত হয়। স্বল্প আয়ের লোকদের মাঝে মাঝে নানা সমস্যা থাকলেও মাসের ১ তারিখে ফি পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। তাছাড়া কোন এসোসিয়েশন না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের ইচ্ছামত ফি ধার্যকরণ ও আদায় করা হয়। অপরদিকে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ তাদের অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন তাদের সমস্যার কথা। তাদের মতে অনেকে ঠিকমত মাসিক ফি পরিশোধ করে না, আবার এলাকার প্রভাবশালীদের বাসায় বিনামূল্যে লাইন সংযোগ না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। এসব লোকেরা মাসিক বিলও পরিশোধ করে না। সবশেষে যে কথা না বললেই নয় তা হলো স্বল্প আয়ের লোকদের জন্য লোডশেডিং সময়টুকুতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে প্রাইভেট জেনারেটর সার্ভিস নিঃসন্দেহে একটি ভাল উদ্যোগ। এটি সময়ের দাবি এবং যুগোপযোগী একটি ব্যবসা এবং পাশাপাশি একটি সেবাদান প্রকল্প। নগরবাসীর মধ্যে এর প্রতি ব্যাপক সাড়া ও সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে। তবে মালিকদের পক্ষ থেকে সকলের সমন্বয়ে একটি এসোসিয়েশন গড়ে তুলতে পারলে এবং শহরের সর্বত্র একই নীতিমালার ভিত্তিতে ফি গ্রহণ করা হলে এই সার্ভিসটি ব্যাপক প্রশংসা অর্জনে সক্ষম হবে বলে সর্বসাধারণের বিশ্বাস। এর জন্য সরকারি ভূমিকাও জরুরি। নগরবাসীর উপকারার্থে উৎসাহী এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকার নির্ধারিত নীতিমালা ও তার টানানোর ব্যাপারে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হলে তা যেমন ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধাজনক হবে ঠিক তেমনি নগরবাসীও লোডশেডিং এর সময়টুকু অস্বস্তিকর পরিস্থিতির হাত থেকে রেহাই পাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ