ঢাকা, রোববার 22 July 2018, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরে যমুনার চরে আখের বাম্পার ফলন

এম, এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ): শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা চরে বাণিজ্যিক ভাবে আঁখ চাষ করে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। প্রতি বছরের ন্যায় চলতি বছরেও আঁখের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুুেঠছে। তাই যমুনা চরের বিভিন্ন এলাকায় আঁখ চাষের দিকে ঝুঁকছে কৃষকরা।
তুলনামুলকভাবে আঁখ চাষ বেশি লাভজনক, পাশাপাশি অধিক আয় এবং সাথী ফসলও ফলানো যায় বলে জানান যমুনা চরের কৃষকরা। সরেজমিনে ঘুরে যমুনা চরের সোনাতনী ইউনিয়নের ছোট চাঁনতারা, বড় চাঁনতারা, শ্রীপুর, সোনাতনী, রতনদিয়া, বড়পাখিয়া,  গালা ইউনিয়নের গালার চর, বাঙালা  ও কৈজুরী ইউনিয়নের বাট দিঘুলিয়া চর, ঠুটিয়ার চর ঘুরে আঁখ ক্ষেত লক্ষ করা যায়। এসব আঁখ যমুনা নদীর পশ্চিম পাড়ে ঠুটিয়া মোনাকোষা ঘাটে পাইকারী আড়তে বিক্রি করা হয়ে থাকে।
শাহজাদপুর উপজেলা ছাড়াও আশেপাশের এলাকা থেকে যমুনা চরের এই আঁখ নিতে আসেন নৌকা পথে। বিভিন্ন হাট-বাজারে পাইকারী ও খুচরা বক্রি হয় যমুনা চরের আঁখ। এই যমুনা চরে বিগত কয়েক বছর ধরে আঁখ চাষীরা ফলন ভাল পাওয়ায় দিন দিন এই চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।  যমুনা চরের চাষী সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি প্রথমে ২ বিঘা জমিতে আঁখ চাষ করেন, পরে ফলন ভাল হওয়ায় এখন ৫ বিঘা জমিতে আঁখ চাষ করছেন। তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়,তারা শুধ যমুনা চরেই নয় উপজেলার সর্বত্র আঁখচাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে সব ধরনের উদ্যোগই নিচ্ছে। তার পরেও আখের দাম অন্য ফসলের তুলনায় কম থাকায় সেটা হতাশা প্রকাশ করেছে কৃষকরা। বেশ কয়েকজন আখ চাষীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এক একর (৩ বিঘা) জমিতে আখ চাষ করতে খরচ হয় প্রায় ৪০-৪৫ হাজার টাকা এক একর জমিতে সর্বোচ্চ ফলন হলে ৬’শ থেকে ৭’শ মন আখ সংগ্রহ করা যায়। প্রতি মন আখ বিক্রি করা হয় ১৫০ টাকা দরে। তবে মূল্য আরও বেশি হলে চাষীদের জন্য ভাল হয়। যমুনা চরের কৃষকরা আরো জানান, বর্তমান সময়ে যমুনা চরের কৃষি জমি থেকে বছরে (বাদাম, ডাল জাতীয় ফসলসহ) ২ ধরনের ফসল উৎপাদন করা যায়। কিন্তু আখ একটি দীর্ঘমেয়াদী ফসল।
এটিতে সময় লাগে প্রায় এক বছর। যে জমিতে থেকে বছরে ২টি ফসল উৎপাদন করেও বেশি টাকা আয় করা যায়।
সেখানে আখ থেকে তেমন টাকা পাওয়া যায় না। তাই তাঁরা কর্র্তপক্ষকে আঁখের মূল্য বৃদ্ধি করার উপর জোর দাবী জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ