ঢাকা, রোববার 22 July 2018, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চৌগাছা বেড়গোবিন্দপুর বাওড় মৎস্যজীবীদের সংবাদ সম্মেলন

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা: বাওড় মৎস্য প্রকল্পের অধীন যশোরের চৌগাছা উপজেলার বেড়গোবিন্দপুর সরকারি বাওড়ের অধীন মৎস্যজীবিরা সন্ত্রাসী হামলা ও হুমকি-ধামকি দেয়ার প্রতিবাদে এবং নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টা প্রেসক্লাব যশোরে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মৎস্যজীবি মাহাবুবুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, আমাদের মৎস্যজীবি সমিতিতে ২ শ ২জন মৎস্যজীবি রয়েছে। বাওড়টির দুর্নীতিবাজ ম্যানেজার ইমদাদুল হক বাওড়টিকে কতিপয় মৎস্যজীবি নামধারী লোকজনের কাছে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকায় লিজ দিয়ে দিতে চাচ্ছেন। বাওড়টি লিজ দিলে আমাদের মত সাধারণ মৎস্যজীবীরা ওই বাওড়ে আর নামতে পারবে না। এ কারনে আমরা মৎস্যজীবীরা গত বৃহস্পতিবার যশোরের ডিসি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করি এবং ডিসি মহোদয়কে স্মারকলিপি প্রদান করি। এই স্মারকলিপি প্রদানের পর বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমরা স্মারকলিপি প্রদানের পর গত রোববার চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান ধুলিয়ানি থেকে ফুটবল খেলা দেখে চৌগাছা ফেরার পথে বাওড়ের পাশের গ্রাম ফতেপুর মালোপাড়ায় নিজের গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়িয়ে যে সকল মৎস্যজীবী ডিসির নিকট স্মারকলিপি দিয়েছে তাদের ডাকতে বলেন। স্থানীয়রা আমাদের ডেকে নিয়ে আসলে তিনি বলেন, এই বাওড়ে আগামী মাসে ৬০ লক্ষ টাকার মাছ ছাড়া হবে। তোমারা কেউ বাওড়ে মাছ ধরতে যাবা না। যারা বাওড়ে নামবে তাদের লাশ ভেসে থাকবে। তার এ কথার প্রতিবাদে মৎস্যজীবিরা বিক্ষুব্ধ হলে উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান মৎস্যজীবি মনোরঞ্জনের গালে চড় মারেন। এসময় অন্য মৎস্যজীবিরা উত্তেজিত হয়ে তাকে ঘিরে ধরলে উত্তেজিত মৎস্যজীবিদের কাছ থেকে উদ্ধার করতে চেয়ারম্যানের গানম্যান সিংহঝুলি ইউপির মাজালি ওয়ার্ডের সদস্য খন্দকার বাবুল এসএম হাবিবের লাইসেন্স করা বন্দুক দিয়ে ফাঁকাগুলি করে মৎস্যজীবিদের সরিয়ে দিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয় চেয়ারম্যান মৎস্যজীবিদের গালিগালাজ ও মারার আগে থেকেই তার পোষ্য বাহিনীর ক্যাডাররা বিভিন্ন সময়ে মৎস্যজীবি বাদল, ঝোড়ো, নূর মোহাম্মদসহ বিভিন্নজনকে মারধর করেছে। আমরা সাধারণ মৎস্যজীবিরা এসবের প্রতিবাদ করলেই তাদের অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ