ঢাকা, রোববার 22 July 2018, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সবচেয়ে বড় দুর্নীতি হচ্ছে হাইব্রিড তুলা বীজ কেনার ক্ষেত্রে

মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা সদর সংবাদদাতা : সবচেয়ে বড় দুর্নীতি হচ্ছে হাইব্রিড তুলা বীজ কেনার ক্ষেত্রে। এই বীজ মূলত দেশের সুপ্রীম সীড ও লালতীর কোম্পানীর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে। এবার ইস্পাহানী এগ্রো হাইব্রিড তুলা বীজ চাষীদের কাছে তুলা ইউনিট কার্যালয়ের মাধ্যমে বিক্রি করবে। হাইব্রিড তুলা বীজ প্রতি কেজির দাম হলো ২ হাজার ৩৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা। সারা বাংলাদেশে ওই নির্ধারিত দামেই তুলা বীজ বিক্রি হয়।
পাশাপাশি সরকারিভাবে দেশে উৎপাদিত বীজও ২২ টাকা দরে চাষীদের কাছে বিক্রি করা হয়। নিয়ম অনুয়ায়ী ১৭টি তুলা ইউনিট কার্যালয় থেকে চাষীরা বাকিতে চাহিদা মত তাদের বীজ ও কীটনাশক সংগ্রহ করে। সেই সঙ্গে সরকারি নির্ধারিত দরে ইউরিয়া প্রতি কেজি ১৬ টাকা, ট্রিপল সুপার পটাশিয়াম ২২ টাকা ও পটাশ ১৫ টাকা করে চাষীদেরকে বিনামূল্যে দেয়া হয়। তুলা উৎপাদনের পর বিক্রির সময় ইউনিট কার্যালয় থেকে চাষীদের কাছ থেকে ওই বীজ ও কীটনাশকের দাম কেটে নেয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা তুলা উন্নয়ন বোর্ড জোন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তুলা চাষীরা ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে ১২ হাজার ৬০৪ জন চাষী ৪ হাজার ৫৬ হেক্টর জমিতে, ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ১১ হাজার ৮৪০ জন চাষী ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে ১০ হাজার ২২৪ জন চাষী ৩ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে, এছাড়া ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ১১ হাজার ৪৮৬ জন চাষী ৪ হাজার ১৬২ হেক্টর জমিতে তুলার আবাদ করে। গত চারটি অর্থ বছরে ১৬ হাজার ২৯৩ হেক্টর জমিতে তুলা আবাদ করতে ৭৩ হাজার ৩১৮ দশমিক ৫ কেজি হাইব্রিড বীজ প্রয়োজন হয়েছিলো। যার দাম ১৭ কোটি ২২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭৫ টাকা।
আন্দুলবাড়ীয়া তুলা ইউনিট কার্যালয়ের আওতাধীন তুলা চাষী গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে সালাউদ্দিন, কোমর আলীর ছেলে তৈয়েব আলী ও ঘুগরাগাছী গ্রামের মঙ্গল আলীর ছেলে সোলায়মান অভিযোগ করে বলেন, ইউনিট কার্যালয় থেকে বীজ, সার ও কীটনাশক কেনাবেচার সময় কার্যালয় থেকে বিশেষ করে বীজ ওজনে কম দিয়ে রেজিষ্টার খাতায় ওজনের পরিমান বেশী লেখা হয়। যখন উৎপাদিত তুলা ইউনিট কার্যালয়ের মাধ্যমে জিনারদের কাছে বিক্রি করা হয় তখন রেজিষ্টার খাতায় লেখা ওজনে অতিরিক্ত অংশের দামও কেটে রাখার কারণে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সকল দুর্নীতি করলেও  তুলা ইউনিট কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন লেনদেনের কারণে জোন কার্যালয় থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়না। আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থের কারণে চাষীরা তুলা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে।  অভিযোগ রয়েছে হাইব্রিড বীজ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বীজ বিক্রির ওপর কমিশন দেয়া হয়। কিন্তু সেটা চাষীদের ঋণের মাধ্যমে দেয়া বীজের সঙ্গে সমন্বয় না করার কারনে চাষীরা ঠকছে আর লাভবান হচ্ছে কয়েকজন ইউনিট কর্মকর্তা। তবে এটা অস্বীকার করেছে প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড.আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, চাষীদের দেয়া এ অভিযোগ সঠিক নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ