ঢাকা, রোববার 22 July 2018, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ৮ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিটিভি ক্যামেরাম্যান আলতাফ হত্যার ৪ বছর পরে কঙ্কাল উত্তোলন

মোঃ আতিকুর রহমান, (ঝালকাঠি): বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সিনিয়র ক্যামেরাম্যান আলতাফ হোসেন’র মরদেহ দাফনের ৪ বছর ৩ মাস পরে কবর থেকে কঙ্কাল উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে রাজাপুর উপজেলার কানুদাসকাঠি পারিবারিক গোরস্থান থেকে কঙ্কাল উত্তোলন করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ২ টায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাখাওয়াত হোসেন এর নেতৃত্বে কঙ্কাল উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোঃ আসাদুজ্জামান, অফিসার ইন চার্জ (প্রশাসন) মোঃ শামসুল আরেফিন, ওসি (তদন্ত) হারুন অর রশিদ। আলতাফ হোসেন’র স্ত্রী ছবি আক্তার সাবিনা বাদী হয়ে হত্যা ঘটনার ৩ বছর ৭ মাস পরে ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতে নালিশী অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত রাজাপুর থানার ওসিকে এজাহার রেকর্ডের নির্দেশ দেয়। মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী ছবি আক্তার সাবিনা উল্লেখ করেন, রাজাপুর উপজেলার কানুদাসকাঠি গ্রামের মৃত. তাছেন উদ্দিনের পুত্র বিটিভি ক্যামেরাম্যান আলতাফ হোসেনের সাথে ২০১১ সালের ২৭ জুলাই ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্দ হন। বিবাহের পর তাঁদের এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। স্থানীয় জাহিদুল ইসলাম লিটন ওরফে সাদু হাওলাদার (৪০), মোঃ রেজোয়ান হাওলাদার (৪২), মোঃ মুজাম্মেল হাওলাদার (৪৫), মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (৪৮) এদের সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিলো। অপরদিকে ক্যামেরাম্যান আলতাফ হোসেনের দুটি বিবাহের কারনে ১ম সংসারে ২ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তান আছে। ১ম সংসারের কন্যা লাইজু আক্তারের সাথে জাহিদুল ইসলাম লিটনের অবৈধ সম্পর্ক ছিলো। এই সুযোগে জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে উল্লেখিতরা আলতাফকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঢাকার বাসায় পরিকল্পনার কথা টের পেয়ে রাজাপুরের কানুদাসকাঠি গ্রামের পৈত্রিক বাড়ি এসে ওঠে আলতাফ। ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী সকাল ৮ টার দিকে একটি সাদা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এসে উল্লেখিতরা আলতাফকে অসুস্থতার কথা বলে তার প্রথম সংসারের স্ত্রী ও সন্তানেরা পার্শ্ববর্তি কাটাখালী বাজারে আছে বলে জানায়। তারা বাড়িতে আসবে না, আপনি আমাদের সাথে চলেন বলে ধরাধরি করে ভ্যান গাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর থেকে আলতাফ’র আর কোন খোঁজ মিলেনি। ওই বছরের ৬ মার্চ জাহিদুল ইসলাম এসে আলতাফ’র ২য় স্ত্রী ছবি আক্তার সাবিনার কাছে জানায়, আলতাফ বয়স্ক মানুষ, কত দিন আর বাঁচবে। এরমধ্যে আবার একটি সন্তানও নিলি। এখন তোর কি হবে। জমি-জমা সব তো আমাদের লিখে দিছে। পরের দিন অর্থাৎ ৭ জুলাই আলতাফকে মৃতাবস্থায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে। মাইকিং করে বিকেলে জানাজা ও দাফনের কথা বললেও সকাল ৮ টায় নিয়ে এসে ৯ টার মধ্যেই তাড়াহুড়া করে দাফন কাজ সম্পন্ন করে। কৌশলে প্রথম স্ত্রীর সাথে যোগ সাজসে ব্যাংকে জমানো টাকা ও জমি আত্মসাত করে।  গত রোববার ১৫ জুলাই-১৮ আদালতে বিষয়টি অবহিত করার পর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজা আলতাফ হোসেন’র মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দেন। মামলার বাদী ছবি আক্তার সাবিনা জানান, আমার স্বামিকে হত্যা করার পর থেকে আমাকে ও আমার সন্তানকে নানাভাবে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে আসামীরা। আমরা তাঁদের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনও করতে পারছি না।
বাদীর পিতা বেলায়েত হোসেন জানান, জামাইকে হত্যা করার পর আমাদেরকে স্বপরিবারে উৎখাতের চেষ্টা, চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করছে। তাদের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারি না। কয়েকদনি পূর্বে দুটি ছাগলকেও মেরে ফেলেছে তারা। আমাদের জীবন যে কোন সময় আসামীদের হাতে শেষ হয়ে যেতে পারে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
রাজাপুর থানার ওসি মোঃ শামসুল আরেফিন জানান, আদালতের নির্দেশক্রমে কবর থেকে কঙ্কাল উত্তোলন করা হয়েছে। দাফনের ৪ বছর ৩ মাস পরে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কিছু হাড্ডি এবং মাথার খুলি ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশে কবর খুড়ে কিছু হাড্ডি ও মাথার খুলি পাওয়া গেছে। এগুলো পরীক্ষার জন্য মহাখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ