ঢাকা, সোমবার 23 July 2018, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাকিস্তানে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা : বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ ও সন্ত্রাসবাদী হামলার মধ্যেই সাবেক প্রধান বিচারপতি নাসিরুল মুলকের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচনকালীন কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে আগামী ২৫ জুলাই পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ নির্বাচন করার জন্য বিচারপতি মুলকের নেতৃধীন কেয়ারটেকার সরকারের ৬ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রী পরিষদ গত ১ জুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একটি অন্তবর্তী সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করে গেলেও বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ ও নির্বাচনী সমাবেশে সন্ত্রাসবাদী হামলা পরিস্থিতিকে অনেকটাই জটিল করে ফেলেছে। তাই পাকিস্তানের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন শঙ্কাও বেশ দানা বেধে উঠেছে। যা সাধারণ পাকিস্তানীদের বেশ ভাবিয়ে তুলেছে।
নির্বাচন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ), পাকিস্তান পিওপল পার্টি (পিপিপি) এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পাকিস্তানের এই তিনটি রাজনৈতিক খুব জোড়ালো ভাবেই দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়েছে। প্রধান দলগুলো নিরলসভাবে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তারা নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে ক্রমেই প্রত্যয়ী হয়ে উঠছেন। নির্বাচনী ফলাফল যা-ই হোক কেন পাকিস্তানের কোন প্রধানমন্ত্রীই যে মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেন না বা আগামী দিনেও পারবেন না সেকথা মাথায় রেখেই তারা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এই ধারণাটা সাধারণ মানুষেদের মধ্যে বদ্ধমূল তারপরও বিষয়টিকে প্রতিদ্বন্দ্বি রাজনৈতিক দলগুলো খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাচ্ছে না বরং এই বৃহত ত্রয়ী শক্তি আপাত নির্বাচনে বিজয়কেই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।
বৈশি^ক রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের পাকিস্তান রাষ্ট্রটিকে প্রতিকী ও আধাগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র মনে করা হয়। কারণ, স্বাধীনতা পরবর্তীতে পাকিস্তানের গণতন্ত্র যথাযথভাবে বিকশিত হয়নি। দেশটিতে বারবার সামরিক শাসন এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও পাকিস্তানের জাতীয় রাজনীতি এবং নির্বাচন নিয়ে বৃহৎ শক্তিগুলোর ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসবাদী হামলা তাদের অতীতের সকল অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে। একথা সর্বজনবিদিত যে, পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও সন্ত্রাসবাদ এই ত্রয়ী শক্তি পাকিস্তানের রাজনীতির নিয়ন্ত্রক শক্তি। সম্প্রতি এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিচার বিভাগ। যা সার্বিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ফলে দেশটির জাতীয় রাজনীতি আগের তুলনায় জটিলতর হয়েছে তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তারা ইতোমধ্যেই রাজনীতি ও রাজনীতিকদের ওপর ছড়ি ঘোড়াতে শুরু করেছেন এবং বিচারবিভাগীয় ব্যবস্থাপনায় রাজনীতিকদের গায়ে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে তাদের রাজনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা শুরু হয়েছে। আদালতের রায়ের কারণেই প্রধানমন্ত্রী মিয়া নওয়াজ শরীফ পদচ্যুত হয়েছেন এবং এখন দন্ডিত হয়ে মেয়ে মরিয়ম সহ কারাগারে অন্তরীণ হয়েছে। যা অনেকের কাছেই বিচারবিভাগীয় সামরিক শাসন হিসেবে মনে করছেন। যা পাকিস্তানীদের জন্য মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়।
গত বছরের জুলাই মাসে দেশটির সুপ্রীম কোর্ট লন্ডলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ পাচারের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী মিয়া নওয়াজ শরীফকে বরখাস্ত করেন। মূলত পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারী সামনে রেখে মি. শরীফের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। গত ৬ জুলাই দেশটির দুর্নীতি দমন আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে ১০ বছর এবং তার মেয়ে মরিয়মকে ৭ বছরের কারাদন্ড দেয় এবং জুলাই প্রধানমন্তীর জামাতাকে গ্রেফতার করে ১ বছরে কারাদন্ড দেয়া হয়।
নওয়াজ শরীফ এবং তার মেয়ে মরিয়ম লন্ডন থেকে ফেরার সময় ১৩ জুলাই লাহোর বিমানবন্দরে গ্রেফতার হয়েছেন। এটি আশ্চর্যজনক নয় যে , মিয়া নওয়াজ শরীফ ও তার দলের ক্রমহ্রাস জনপ্রিয়তার প্রেক্ষাপটে তার এই অপ্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার সুযোগ করে দিয়েছিল। কারণ, দলটির ইচ্ছা ছিল নওয়াজ শরীফ ও তার মেয়ে মরিয়মের প্রত্যাবর্তনের দিনে লাহোর বিমানবন্দরে একটা বড় ধরণের শো ডাউন করে তাদের শাক্তি-সামর্থ জানান দেয়া। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি নওয়াজ ও তার দলের জন্য মোটেই অনুকুল ছিল না। কারণ, নওয়াজ শরীফ অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর দলের নেতৃত্বে গ্রহণ করেছেন তার ছোট ভাই মিয়া শাহবাজ শরীফ। তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমত হিমসিম খাচ্ছেন।
তাকে নানাবিধ প্রতিকুলতা মোকাবেলা করেই সামনের দিকে এগুতে হচ্ছে। দলের অনেক নেতাই নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন। অনেকে গ্রেফতারীও বরণ করেছেন। এমনকি তারা সামরিক ও বিচারবিভাগীয় বৈরিতারও সম্পূখীন হয়েছেন। আদালতে দন্ডিত হওয়ার কারণে মরিয়মও পার্টির শীর্ষপদ গ্রহণ করতে পারছেন না। দলের এই বিপদসঙ্কুল অবস্থায় নির্বাচনে সাফল্য নিয়ে খোদ শাহবাজ শরীফ সন্দিহান হয়ে পড়েছেন। মুসলিম লীগ (নওয়াজ) যদি আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের শক্তি-সামর্থের যথাযথ প্রমাণ দিতে না পারে তাহলে দলটির ভবিষ্যৎ যে খুব একটা সুখকর হবে না তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
এর আগে চলতি বছরের ১৪ জুন আদালতের নির্দেশ অমান্য এবং উপস্থিত থেকে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে ব্যর্থ হওয়ায় সেদেশের সুপ্রীম কোর্ট পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোর্শারফকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে। ২০১৩ সালে পাকিস্তানের পেশাওয়ার হাইকোর্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফকে আজীবনের জন্য নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, মি. পারভেজ মোশাররফ অল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (এজিএমএল) প্রধান এবং তিনি এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে আছেন। তিনি সুপ্রীম কোর্টে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ চেয়ে আবেদন করলেও আদালতে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। ফলে তিনি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না।
আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট ও পিপিপির কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলী জারদারি এখনও দুর্নীতির অভিযোগমুক্ত হতে পারেন নি। চলতি বছরের ৫ জুলাই তার একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্চের চেয়ারম্যান ও খ্যাতিমান হোসাইন লাবাই গ্রেফতার হন। ফেডারেল ইনভেষ্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) তার বিরুদ্ধে বিলিয়ন বিলিয়ন রুপী লন্ডারিং এর অভিযোগ আনে।
লাবাইয়ের অনাকাঙ্খিত গ্রেফতারের পর ২৯ বছর বয়স্ক পিপিপি’র চেয়ারপারসন বিলওয়াল ভুট্টো জারদারী বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখী হন। তিনি আসন্ন নির্বাচনে করাচী থেকে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় খুব একটা সুবিধা করতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে না।
পাকিস্তানের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে আদালতের রায় আসন্ন নির্বাচনে কি প্রভাব পড়বে তা নিয়ে কুটনৈতিক বিশেষজ্ঞগণ বেশ গলদঘর্ম। তবে তা যে নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। তবে সার্বিক পরিস্থিতি কোন দলকেই এগিয়ে রাখেনি বরং একটা অনাকাঙ্খিত অনিশ্চয়তার মধ্যেই সবকিছুই আবর্তিত হচ্ছে। মূলত নওয়াজ-ইমরান কেউই আদালতের নজরদারি থেকে মুক্ত নন। পারভেজ মোশাররফও আদালতের দন্ড মাথায় নিয়ে এখন ফেরার জীবন যাপন করছেন। তাই আন্তর্জাতিক মহল পাকিস্তানে গণতন্ত্রের মৃত্যুঘন্টা বাজানোরই ইঙ্গিত দিচ্ছেন। নওয়াজ শরীফ সামরিক বাহিনীকে এজন্য দোষারোপ করছেন। বিবাদমান পক্ষগুলো রাষ্ট্রের মধ্যে রাষ্ট্র সৃষ্টির অভিযোগও করছেন বেশ জোড়ালো ভাবেই।
মজার বিষয়টি হচ্ছে আদালতে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তিনি এখনও দন্ডিত হননি। তাই মি.খানকে আগামী দিনে পাকিস্তানের প্রধানন্ত্রী বলে ধারণা করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, এ বিষয়ে সামরিক বাহিনী তাকে পুরোপুরি সহযোগিতা করবে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন। আর প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কোয়ালিশন সরকার গঠনেরও কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ইমরান খান পিপিপি’র কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলী জারদারির সাথে যেকোন ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। অপর দিকে পারিবারিক প্রতিদ্বন্দ্বী নওয়াজ ও জারদারীর সাথে ঐক্য গঠনের সম্ভাবনাও আপাতত দেখা যাচ্ছে না। ফলে পাকিস্তানের আসন্ন নির্বাচন পাক জনগণের জন্য খুব একটা সুখস্মৃতি বয়ে আনবে বলে মনে হয় না।
এদিকে আসন্ন নির্বাচনে সেনা মোতায়েন ও সেনাবাহিনীর অভিসারদের ম্যাজিষ্ট্রেসী ক্ষমতা দেয়ার বিষয় নিয়ে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। তা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল। আসন্ন নির্বাচনে আরেকটি বড় সমস্যা হলো গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও হুমকির বিষয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংস্থা (আইপিআই) নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর নানা ধরনের হুমকী, নির্যাতন ও অপহরণের বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। এমনকি তারা নিউজ চ্যানেলগুলো বন্ধেরও আশঙ্কা করছেন। যা পুরো নির্বাচন পরিস্থিতির ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পাকিস্তানের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসাবাদী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা। তারা ইতোমধ্যেই কয়েকটি নির্বাচনী জনসভায় হামলা চালিয়ে বেশ কিছু লোককে হতাহত করেছেন। আর এ ধরনের সন্ত্রাসবাদী হামলা আরও হবে বলে আশঙ্কাও করা হচ্ছে। গত ১২ জুন পেশোয়ারে এক আত্মঘাতি বোমা হামলা ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির প্রার্থী হারুন বিলরও রয়েছেন। ১৩ জুলাই কোয়েটায় আত্মঘাতি বোমা বিষ্ফোরণে ১২৮ জনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদীদের এসব হামলা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পাকিস্তানের নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা মারাত্মক বিপদসঙ্কুল পথেই অগ্রসর হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোও দলের ও দেশের জন্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা অবস্থা থেকে উত্তরণের কথা ভাবলেও তার কোন কুলকিনারা বের করতে পারছেন না বরং একটা অনাকাঙ্খিত উৎকন্ঠার মধ্যেই রয়েছেন।
পাকিস্তানের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে প্রায় এগার কোটি ভোটার ভোট দানের অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা আগামী ২৫ জুলাই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচকরা জাতীয় পরিষদের ২৭২ জন সদস্য সরাসরি নির্বাচিত করবেন। মূলত পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ৩৪২। অবশিষ্ট ৭০ টি আসন নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত। ১০৭টি রাজনৈতিক দলের ৩৪৫৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় পরিষদে সংখ্যা গরিষ্ঠতার জন্য ১৭২টি আসন বিজয় লাভ করতে হবে।
আসলে সামরিক বাহিনী, বিচারবিভাগ ও সন্ত্রাসবাদীদের ত্রিমুখী চাপের মুখেই পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে কোন দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, না সার্বিক পরিিিস্থতি একটি জুলন্ত পার্ল্টামেন্টের দিকে অগ্রসর হচ্ছে তা এখন নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে দক্ষিণ এশিয়ার এই পারমানবিক শক্তিধর দেশটির ক্ষমতা শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর শান্তিপূর্ণ হয় কি না তাই এখন দেখার বিষয়ে। বিশ^ তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। [ ইংরেজী থেকে ভাষান্তর ]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ