ঢাকা, সোমবার 23 July 2018, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার জ্বর ও প্রচণ্ড ব্যথা কোনভাবে কমছে না

স্টাফ রিপোর্টার: তিন সিটি কর্পোরেশনে ধানের শীষের প্রার্থীর এজেন্টদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল রোববার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী এলাকায় ধানের শীষের এজেন্টদের সাদা পোশাকধারী কর্তৃক তুলে নেয়ার পর অস্বীকার করার ধুম শুরু হয়েছে। রাজশাহীতে যাদেরকে এজেন্ট মনোনীত করা হয়েছে তাদের কারো নামেই কোনো মামলা নেই। অথচ গোয়েন্দা পুলিশ এজেন্টদের নির্বিচারে আটক করে ১৫/২০ ঘন্টা পর তাদের নামে মিথ্যা মামলা-বানোয়াট মামলা সাজিয়ে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। একই রকম সিলেট ও বরিশালে। উদ্দেশ্য একটাই ভোটারদেরকে ভয় পাইয়ে দেয়া। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার জ্বর ও প্রচণ্ড ব্যথা। কোনভাবেই কমছে না। তিনি এখনো গুরুতর অসুস্থ।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, হাফেজ আবদুল মালেক, শাহ মো. নেসারুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, তিন সিটিতে পুলিশি অভিযানের নামে জনমনে আতঙ্ক’ সৃষ্টি করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, একতরফা নির্বাচন করতে সরকারের নির্দেশে পুলিশ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি করছে। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারনায় ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা বাঁধা প্রদান করছে। তিনি বলেন, বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গণগ্রেপ্তার, বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্য হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনায় বাঁধা দেয়া হচ্ছে। ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনী আচরণ ভঙ্গ করে চলেছে। এসব কী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নমুনা?
রিজভী বলেন, আসন্ন তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে গত দু’তিন দিনে জনসমর্থনহীন নৌকা মার্কার প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা খুলনা-গাজীপুরের সন্ত্রাসের আবহে নতুন মডেলের ভোট জালিয়াতির আসল রুপে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে রাতদিন গণগ্রেফতার শুরু করেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে ধানের শীষের আবেদন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আওয়ামী চেতনায় সাজানো প্রশাসন নির্বাচনী এলাকাগুলোতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ইউরোপে মধ্যযুগীয় ‘ডাইনী শিকার’ এর ন্যায় অভিযানে নেমেছে। খুলনা ও গাজীপুরের স্টাইল গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে ক্রমাগত হত্যা করার স্টাইল। সেই স্টাইল ৩০ জুলাই তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এখনও বলবৎ রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বেআইনীভাবে জয়ী হতে চাচ্ছে বলেই বেপরোয়া গ্রেফতার, গণগ্রেফতারসহ এক আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার জন্য গণতন্ত্র মূমুর্ষ হয়ে পড়ে এবং তাতে অবৈধ ক্ষমতার মালিকদের ক্ষমতা সীমাহীনভাবে বেড়ে গিয়ে এক ভয়ঙ্কর অনাচারের রাজত্ব তৈরি হয়। সেজন্য বিরোধী রাজনৈতিক দল, মত, বিশ্বাসসহ সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকাকে এক ভীতিকর সঙ্কটের মধ্যে নিপতিত হয়।
তিনি বলেন, বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আমাদের প্রতিনিধিদল গেছেন ইসিতে। এখন যেসব অভিযোগ তা স্থানীয়ভাবে বলছেন, আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে বলছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলো পাওয়ার পরেও তারা নির্বিকার, নিশ্চুপ। একটা ভারী পাথরের মতো তারা নিশ্চল হয়ে পড়ে আছে। মনে হয় চমকপ্রদ ঘুমের বড়ি খেয়ে নিদ্রামগ্ন থাকেন এই নির্বাচন কমিশন। আমরা বলতে চাই, ইসির এই নিবর দর্শকের ভুমিকা জনগণের কাছে অনাকাঙ্খিত ও অপ্রত্যাশিত। শুধু নিবর নয়, সরকারের অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করছে তারা। ভোট সন্ত্রাসকে মহিমান্বিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ও নির্বাচন কমিশনের কর্তকর্তাদের বক্তব্য অভিন্ন।
বরিশালে ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী একেএম শহীদুল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর মহানগর সেক্রেটারি জহিরুদ্দিন মো. বাবর, রাজশাহীর মাইনুল ইসলাম হারু, খন্দকার ওয়ায়েস করনী ডায়মন্ড, ইফতিয়ার মাহমুদ বাবু, শিবলী, হাফিজুল ইসলাম আপেলের গ্রেফতারের ঘটনার নিন্দা জানান তিনি।
শনিবার খালেদা জিয়ার সাথে তার স্বজন ও আইনজীবীদের সাক্ষাতের প্রসঙ্গ টেনে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আমরা যতটুকু জেনেছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখনো গুরুতর অসুস্থ। তার জ্বর ও শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা কোনভাবে কমছে না। অসুস্থতার কারণে তিনি নিচের তলায় নেমে দর্শনাথীদের সাথে দেখা করতে পারছেন না। গতকাল তার স্বজন ও আইনজীবীরা উপরে গিয়ে এটা প্রত্যক্ষভাবে দেখে এসেছেন। তিনি বলেন, দেশনেত্রী মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। তার হাঁটা-চলা করতে কষ্ট হয়। কারাগারে অবর্ণনীয় কষ্টে রাখার জন্য তার অসুস্থতা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা আবারো তাকে অবিলম্বে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, বিশ্বের বরণ্যে অনেক নেতৃবৃন্দ আমরা দেখেছি, উন্নয়ন করেছেন জাতির অনেক অবদান রেখেছেন। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় থাকতে স্বদলীয় চামচাদের দ্বারা সারা দেশের মানুষের পকেট কেটে, দোকানদারদের পকেট কেটে উন্নয়নের জন্য বা বিভিন্ন কীর্তির জন্য যে সংবর্ধনা দেয়া হলো ঢাকা শহরবাসীকে এক ভয়ংকর হয়রানি ও নিপীড়নের মধ্যে রেখে, যন্ত্রণা দিয়ে। গোটা ঢাকা শহরকে কালকে রুদ্ধশ্বাসে পরিণত করে এই যে আধিখ্যাতা সংবর্ধনার- এটা জন্য মানুষের হৃদয়ে যে ঘৃণার সঞ্চার হয়েছে। এটা আমি আওয়ামী নেতৃবৃন্দকে বলব- একটু দেখার চেষ্টা করুন। আপনাদের গোয়েন্দা সংস্থাকে বলুন-তারা যেন সত্যিকার অর্থে একটা জরিপ করে আসল রিপোর্টটা যেন প্রধানমন্ত্রীকে দেন। তাহলে কালকে (শনিবার) যে জনযন্ত্রণা, জীবন যন্ত্রণা দিয়ে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যে সংবর্ধনা নিলেন- এই আধিখ্যাতা সাধারণ মানুষ কীভাবে নিয়েছে সেটা তিনি ভালো করে বুঝতে পারবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ