ঢাকা, সোমবার 23 July 2018, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঢাবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর আবারো ছাত্রলীগের হামলা

স্টাফ রিপোর্টার : ‘বাড়াবাড়ি’ না করতে ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা সতর্ক করার পরদিনই আবার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের  নেতা-কর্মীরা। হামলায় বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী আহত হন বলে অভিযোগ করছে শিক্ষার্থীরা। তাদের দুই সহপাঠীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এই দুই জন হলেন কোটা আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক বেন ইয়ামিন ও সোহরাব হোসেন।
গতকাল রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বঘোষিত ছাত্র সমাবেশে এই হামলার ঘটনা ঘটে। টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশটির আয়োজন করা হয়েছিল। এ দিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে আটকদের মুক্তি ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে আগামী বুধবার সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করার কর্মসূচি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় টিএসসি রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থী ছাড়াও কোটা অন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খানের মা সালেহা বেগম, বাবা নবাই বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ নামে সমাজবিজ্ঞানের এক শিক্ষার্থীর বক্তব্য, অধিকাংশই বলেন কোটা সংস্কার আন্দোলন যৌক্তিক। কিন্তু আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। উল্টো নিপীড়িতদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। আটকদের যতদিন মুক্তি দেওয়া হবে না ততোদিন আমরা প্রতিবাদ জানাবো।
সমাবেশে রাশেদের মা বলেন, আমার বাবা সাধারণ ছাত্র। সে কোনো রাজনীতি করেনি। সে একটা চাকরির জন্য আন্দোলনে গিয়েছিলো। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সে অনেক কষ্টে আছে। আমি আপনার কাছে আমার বাবাকে ভিক্ষা চাইছি। আমি আমার বাবাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। আমি আমার বাবার মুক্তি চাই।
এসময় শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
সমাবেশ থেকে ২৫ জুলাই সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচি ঘোষণা করে দেয়া বক্তব্যে কোটা আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, কোটা আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে। এসবের বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। এ আন্দোলন যৌক্তিক। কিন্তু এখানে হামলা চালিয়ে ব্যক্তিগত বিরোধ তৈরি করা হচ্ছে। যেটি কোনোভাবে কাম্য নয়। তিনি আরও বলেন, আটকদের মুক্তি, নিরাপদ ক্যাম্পাস ও হামলাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলমান থাকবে। আগামী ২৫ জুলাই বেলা ১১টায় সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করার আহ্বান জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর ৩০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ২ জুলাই ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। রাজশাহীতে এক ছাত্রকে হাতুরিপেটা করে পা ভেঙে দেয়া হয়। গত ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার হামলা হয়। একই দিন প্রতিবাদী শিক্ষকদের এক কর্মসূচিতেও বাধা দেয় ছাত্রলীগ। আর এই ঘটনায় তীব্র সমালোচনা উঠে। এর মধ্যে শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদেরকে ‘বাড়াবাড়ি না করার’ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রোববার সকালে সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবাযদুল কাদের বলেন, আমরা কিছু অভিযোগ পেয়েছি কোটা সংস্কারের যে আন্দোলন; এ আন্দোলনে ছাত্রলীগের নামে আমরা কিছু বাড়াবাড়ির অভিযোগ পেয়েছিলাম।
জাবিতে কোটা আন্দোলনকারীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) চার দফা দাবিতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বই, খাতা ও কলম রেখে এ অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হচ্ছে- অবিলম্বে কোটা সংস্কার করে প্রজ্ঞাপন জারি করা, কোটা সংষ্কার আন্দোলনে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি, সন্ত্রাসী হামলার বিচার ও ধর্ষণের হুমকিদাতাদের গ্রেফতার করা।
অবিলম্বে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ক্যাম্পাসে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচারের দাবিতে ক্যাম্পাসে পূর্ণ দিবস কর্মসূচি পালন করছে বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ