ঢাকা, সোমবার 23 July 2018, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মায়ের সাথে অভিমান করে নদীতে ঝাঁপ স্কুল ছাত্রের লাশ সোনারগাঁয়ে উদ্ধার

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা : নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়া স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। দু’দিন নিখোঁজ থাকার পর গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের চরকিশোরগঞ্জ এলাকার মেঘনা নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার হয়। নিহত স্কুল ছাত্রের নাম মারুফ হোসেন রিয়াদ। মায়ের সঙ্গে অভিমান করে গত বুধবার সকালে মামার বাড়ি মুন্সিগঞ্জে যায়। নিহত রিয়াদ  নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার এবিএম সামসুজ্জোহা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র।  পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার রাতে সোনারগাঁ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
 পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুছাপুর মিনারবাড়ি এলাকায় মিলন মিয়ার ছেলে স্কুল ছাত্র মারুফ হোসেন রিয়াদ তার মায়ের সঙ্গে অভিমান করে গত বুধবার সকালে মামার বাড়ি মুন্সিগঞ্জের রতনপুর চলে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে ওই দিন বিকেলে রিয়াদ মোক্তারপুর ব্রীজ থেকে স্কুল ব্যাগসহ নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।  ঘটনার খবর পেয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থাকা পুলিশ ব্রীজ এলাকা থেকে ছাত্রের ব্যবহৃত ব্যাগটি উদ্ধার করলেও স্কুল ছাত্র রিয়াদকে উদ্ধার করতে পারেনি। গত দু’দিন নিখোঁজ থাকার পর গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সোনারগাঁয়ের চরকিশোরগঞ্জ এলাকার মেঘনা নদীতে ভাসমান অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ লাশ ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম পিপিএম জানান, নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিখোঁজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা মানছেনা আলেকা: সোনারগাঁয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বাড়ির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুপক্ষের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলা চলে আসছে। থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আদালতের নিষেধাজ্ঞাও মানছে না প্রতিপক্ষ। বাড়ির সীমানা প্রাচীরের বিরোধ না মিটিয়ে বাড়ির উপর বহুতল ভবন নির্মানের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আদালতে পিটিশন জারি করা হয়েছে। আইন আদালত মানছেনা।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার নিকটবর্তী গ্রাম জয়রামপুর গ্রামের মৃত বাবর আলীর ছেলে ইমান আলী ও তার ভাই মোতালেবের স্ত্রী আলেকার মধ্যে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। আলেকা জোড়পূর্বক সীমানা প্রাচীর অতিক্রম করে ইমান আলীর বাড়িতে বিল্ডিং বানাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসনের কাছে গত ২৪মে অভিযোগ করে কোন প্রকার প্রতিকার পায়নি বাদী পক্ষ।  বাড়ির মালিক বাদী ইমান আলী জানান, গত ১১জুন পুলিশের সামনেই আলেকা ও তার দুই মেয়ে সনিয়া, রুবিনা আমাকে কিল ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। পরে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশ সীমানা নির্ধারনের আগে বাড়ি নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার কথা বলে গেলেও আলেকা স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশের কথা অমান্য করে অবধৈভাবে বাড়ির সীমানার উপর পিলার দিয়ে বিল্ডিং বানাচ্ছে।
ইমান আলী আরো জানায়, গত ১৩জুলাই আবার আলেকা অবৈধ সীমানা প্রাচীরের কাজ করলে বাধা দিতে গেলে আলেকা আমাকে ইট দিয়ে আঘাত করে ফেলে দেয়। আশপাশের লোক জন উদ্ধার করে সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। উল্টো আলেকা পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছে বলে ইমান আলী অভিযোগ করেন।
 পরে সোনারগাঁ থানায় ইমান আলী কোন বিচার না পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা হাকিম মোঃ আসাদুজ্জামানের আদালতে একটি পিটিশন জারি করে। যার নং ৩৫৯/২০০১৮।এ ব্যাপারে আলেকার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি তার নিজের বাড়িতেই বিল্ডিং নির্মাণ করছেন। ইমান আলী তার বিল্ডিং তৈরি দেখে প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ