ঢাকা, সোমবার 23 July 2018, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গড়ে প্রতি ৫ দিনে একজন খুন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

খুলনা অফিস : সম্প্রতি সময়ে নগরীর আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। চলতি বছরের ৪জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত দেড় মাস সময়ে ১০জন খুন হয়েছেন। যা’ গড় হিসাবে প্রতি ৫দিনে একজনের বেশী দাঁড়ায়। দীর্ঘ সময় শান্ত থাকার পর হঠাৎ করে খুনের এসকল ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে নগরবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৯ জুলাই নগরীর খালিশপুর থানাধীন বয়রা আফজালের মোড়ের এক ভাড়া বাসা থেকে যুবক শেখ ফরহাদ হোসেন আপনের (৩২) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আপন শহীদ শেখ আবু নাসের হাসপাতালের আউট সোর্সিং কর্মচারী হিসেবে ওই হাসপাতালে কাজ করতো। ১৬জুলাই নগরীর খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী পাড়িয়াডাঙ্গা গ্রামের একটি বাগানে ওমর ফারুক নামে এক পাষন্ড স্বামী তার স্ত্রী নুপুর বেগমকে (২২) পিটমোড়া দিয়ে দু’ হাত এবং কাপড় দিয়ে মুখ ও চোখ বেঁেধ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। নিহত গৃহবধূ নূপুর বেগমের এক বছর ২মাস বয়সের মো. আব্দুল্লাহ নামের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। ১১জুলাই মেহেদী হাসান (২২) নামে এক যুবককে নগরীর খুলনা সদর থানাধীন দোলখোলা এলাকায় দুষ্কৃতকারীরা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। ২জুলাই হরিণটানা থানাধীন প্রগতি স্কুল এলাকার মর্জিনা বেগমের (৩০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৫জুন নগরীর সদর থানাধীন লোয়ার যশোর রোডের আজমল প্লাজার হোটেল আজমল আবাসিক হোটেল থেকে ইনসান মোল্লা (২২) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ইনসান মোল্লা নড়াইল জেলার কালিয়া থানাধীন চাঁচুড়ী বাজার এলাকার নিজ বাড়ি থেকে প্রেমিকা তানিয়াকে নিয়ে ওই হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে কক্ষ নেয়। একই তারিখে আড়ংঘাটা থানাধীন বাইপাস সড়কের বরইতলা এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির (৫০) বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৮জুন বিকেলে দিকে বাগমারা প্রাইমারী স্কুলের কাছে ডেকে নিয়ে হাফেজ ওয়াহিদুজ্জামান ওরফে ওবায়দুলকে ছুরিকাঘাত করে দুষ্কৃতকারীরা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২জুন ঢাকায় মারা যান ওবায়দুল্লাহ। ৯জুন দৌলতপুরের দফাদার পাড়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু সম্রাট খানকে (২২) লাঠিপেটা করে হত্যা করা হয়। চুরির ঘটনা দেখে ফেলায় দুষ্কৃতকারীরা তাকে হত্যা করে। একই তারিখে খালিশপুর থানাধীন ভৈরব নদের ৭নং ঘাট এলাকা থেকে ১৬-১৭ বছরের এক অজ্ঞাত কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৪জুন খানজাহান আলী থানাধীন গিলাতলা দক্ষিণপাড়া এলাকার লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে সুজন (২১) নামে এক যুবককে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। এছাড়াও নগরীতে মারামারি, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটছে প্রায়ই।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসিচব শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। তবে এ গ্রেফতার অভিযানে কোনো নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন। সম্প্রতি চলমান মাদক বিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানান উন্নয়ন কমিটির এ নেতা।
আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি প্রসঙ্গে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া এন্ড কমিউনিটি পুলিশিং) সোনালী সেন বলেন, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি কোনোভাবেই হয়নি। যে হত্যাকান্ডগুলো ঘটেছে সেগুলো পারাবারিক বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জায়গা থেকে ঘটেছে। এরজন্য কোনোভাবেই পুলিশ বা আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়ী নয়। এসকল হত্যাকান্ড প্রতিরোধে সকলকে সামাজিক আন্দোলনে নামতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ