ঢাকা, সোমবার 23 July 2018, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চুকনগরে বিষমুক্ত সবজি ও বীজ উৎপাদনে সফল এক বর্গাচাষি

খুলনা অফিস : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরে বিষমুক্ত সবজি ও বীজ উৎপাদনে সফল বর্গাচাষি সুরেশ্বর মল্লিক। কৃষি কাজ করে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছে নবদ্বীপ মল্লিক। ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষি অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনায় তারা এ সাফল্য পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দকাটি গ্রামের মৃত. সুধীর মল্লিকের ছেলে সুরেশ্বর মল্লিক। খুব ছোট বেলায় পিতৃহারা হয়ে মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে সংসারের ঘানি টেনে বড় হতে থাকে সুরেশ্বর। ভিটেমাটি ছাড়া আর নেই কোন জমি। বাধ্য হয়ে তার মায়ের পরের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে সুরেশ্বর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পাশের পর আর লেখাপড়া করতে পারেনি। পড়াশুনার ইতি টেনে মায়ের সাথে পরের জমিতে কাজ করতে শুরু করে। দরিদ্র পিতার কোন আবাদযোগ্য জমি নেই। অবশেষে জীবিকা নির্বাহের জন্য এলাকার মানুষের কাছ থেকে জমি বর্গা নিয়ে বেগুন, পেঁপে, ফুলকপি, ঢেড়শ সিমসহ বিভিন্ন প্রকার সবজির আবাদ শুরু করে। এতো অল্প বয়সে কৃষিকাজে তার সাফল্য দেখে তার পাশে এসে দাড়ায় ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নজরুল ইসলাম সার্বক্ষণিকভাবে তার কাজে সহযোগিতা করে আসছে। শুধু সুরেশ্বর না, তিনি ডুমুরিয়ায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। বর্তমানে তার দুই বিঘা জমিতে বেগুন ও দেড় বিঘা জমিতে পেঁপের আবাদ রয়েছে। সাধারণ মানুষের সবজির চাহিদা পূরনের লক্ষ্যে ও নিজেকে স্বাবলম্বী করতে তিনি কৃষি কাজকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছেন। সবজি চাষে যখন রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের মহামারি আকার ধারণ করেছে তখন কৃষি বিভাগের মরামর্শে সে বেগুন চাষে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব সার ও বালাই দমনে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে ভাল ফলন পেয়েছেন। এর ফলে তার অনেক খরচও সাশ্রয় হয়েছে।
 এখন তার ক্ষেতে প্রতিদিন ৮/১০ জন শ্রমিক কাজ করে তারাও জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। সে বিভিন্ন প্রকার সবজি ও বীজ উৎপাদন করে সংরক্ষন এবং বিতরণে কৃষি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারে ভূষিত হন।
এছাড়া উপজেলার বরাতিয়া গ্রামের বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রাপ্ত কৃষক সুভাষ মল্লিকের ছেলে নবদ্বীপ মল্লিক মাধ্যমিক পাশের পর আর পড়াশুনায় মন বসাতে পারেনি। পিতা-মাতা দুঃচিন্তায় পড়ে যায়। বেকার হয়ে পড়ে সে । অবশেষে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবার জন্য পিতার সাথে কৃষিকাজ শুরু করেন। মনেপ্রাণে পেশা হিসাবে কৃষি কাজকেই বেছে নেয়। শুরু করে বিভিন্ন প্রকার সবজির আবাদ। সেও উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষিকাজে ব্যাপক সাফল্য পায়।
 এরপর শুরু করে গাছের চারা উৎপাদন। তিনি বৃক্ষ রোপন অভিযান সফল করতে বিভিন্ন প্রকার ফলের চারা উৎপাদন করে তা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করে থাকেন। খাদ্যের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ধান উৎপাদনে তিনি একজন সফল কৃষক। বর্তমানে চুইঝাল চাষে সে বিপ্লব ঘটিয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সহযোগীতায় চুইঝালের চারা উৎপাদনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার উৎপাদিত চুই ঝালের চারা আজ দেশের বিভিন্ জেলায় যেয়ে থাকে। এব্যাপারে কৃষক সুরেশ্বর মল্লিক ও নবদ্বীপ মল্লিক জানায় ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতায় তারা এ সাফল্য পেয়েছেন। এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কৃষিতে ডুমুরিয়া উপজেলা অনেক এগিয়ে চলেছে। কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নে নিরলশভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সর্বোপরি ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নের চাষীরাও খুব আন্তরিক। তারাও আমাদের সাথে সব সময় যোগাযোগ করে থাকে। আমরাও পেশাদার কৃষকদের কৃষিকাজে সফলতার লক্ষ্যে সকল প্রকার পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা করে থাকি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ