ঢাকা, সোমবার 23 July 2018, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় দু’ হাজার কোটি টাকার তিল উৎপাদন

খুলনা অফিস: চলতি মওসুমে খুলনার তিন উপজেলায় ১৭শ’ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ হয়। যার মূল্য দুই হাজার কোটি টাকা। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও খুলনায় তিলের বাম্পার ফলন হওয়ায় তিল চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।
কৃষি দপ্তরের সূত্র মতে, এবার খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ঘোনা, আটলিয়া ও জিলেরডাঙ্গা, বটিয়াঘাটা উপজেলার হাটবাটি, হোগলবুনিয়া, ধাদুয়া, করের ডোন, ভেন্নাবুনিয়া, শোলমারি, রাঙ্গেমারি, তেঁতুলতলা ও পুঁটিমারি এবং দাকোপের পানখালি গ্রামে তিলের আবাদ হয়। মওসুমের শুরুতেই আবহাওয়া ছিল প্রতিকূলে। তবে, বৈশাখের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় তিল গাছ সতেজ হয়ে ওঠে। ফলন হয় আশাতীত।
বটিয়াঘাটা উপজেলার মাইটভাঙ্গা গ্রামের চাষি মিলন মল্লিক মঙ্গলবার উপজেলা সদরে সাপ্তাহিক হাটে তিল বিক্রি করতে আসেন। তার দেয়া তথ্য মতে, দুই বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ হয়েছে ৬ হাজার টাকা। চার মণ উৎপাদিত তিলের দাম পেয়েছেন ১০ হাজার টাকা। গতবার মণ প্রতি ১৩শ’ টাকা দরে বিক্রি হলেও এবারের দাম ২৬শ’ থেকে ২৭শ’ টাকা।
পাথুরিঘাটা গ্রামের কৃষাণী জুথিকা ম-ল আড়াই বিঘা জমিতে তিল আবাদ করে ৫ মণ উৎপাদন পেয়েছেন। তার পার্শ¦বর্তী খলিশাবুনিয়া, হোগলবুনিয়া ও হাটবাটি গ্রামে গেলবারের তুলনায় এবার উৎপাদন ভালো বলে তিনি জানান।
চর মশিয়ালি গ্রামের প্রভাত ম-ল চার বিঘা, নিহার মন্ডল চার বিঘা, জাহিদুল ইসলাম ৬ বিঘা, বিশ্বজিৎ মন্ডল ২ বিঘা জমিতে তিল আবাদ করে কাক্সিক্ষত ফল পেয়েছেন।
দেবীতলা গ্রামের বনস্পতি রায় জানান, এবারের বোরো আবাদে কৃষকের লোকসান হয়েছে। মওসুমের শুরুতেই বোরোর প্রতিমণের মূল্য ছিল ৬৭০ টাকা। মঙ্গলবারের হাটে একই বোরো জাতের ধান বিক্রি হয়েছে মণপ্রতি ৫৫০ টাকা।
বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, এখানে ১২শ’ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ হয়েছে। বিঘাপ্রতি উৎপাদন ছিল গড়ে ২ মণ। বোরোর লোকসান তিলে পুষিয়ে গেছে।
আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ জানান, দাকোপ, ডুমুরিয়া ও ফুলতলায় ৩ হাজার কোটি টাকা মূল্যের তিল উৎপাদন হয়েছে। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলায় ৪ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে এবারে তিল উৎপাদন হয়।
নড়াইল জেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় রায় জানান, কালিয়া ও নড়াইল জেলা সদরে কাক্সিক্ষত উৎপাদন হয়েছে। তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শামসুল আলম জানান, উপজেলার খৈলশাখালি, খলিলনগর, সুরুলি ও ধানদিয়া গ্রামে বাম্পার ফলন হয়েছে। এখানকার জমি উঁচু থাকায় বৃষ্টি ক্ষতি করতে পারেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ