ঢাকা, সোমবার 23 July 2018, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অর্ধকোটি টাকা চাঁদা ও কয়েক হাজার কেজি চাল হাতিয়ে নিয়েছে টাউটরা

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা: পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুত সমিতির অন্তর্ভূক্ত বরগুনার আমতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতায়নের নামে চাঁদা বাণিজ্যে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে স্থানীয় কয়েকজন টাউট।
উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নে সোনাখালী গ্রামের ফজলুর রহমান হাওলাদারের পুত্র সোহেল হাওলাদার ওরফে সোহেল রানা এবং হাকিম আলী প্যাদার পুত্র নান্না মিয়া ওই গ্রামের ৮’শ পরিবারের কাছ থেকে পরিবার প্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ চল্লিশ লাখ টাকা ও ঘর প্রতি তিন কেজি করে মোট ২ হাজার ৪’শ কেজি চাল উত্তোলন করেছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় মানুষের পক্ষে বরগুনার জেলা প্রশাসকের কাছে একই গ্রামের শামীম হাওলাদার লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।
বিদ্যুত সংযোগ প্রত্যাশী এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, সোহেল ও নান্না মিলে গ্রাহক বা পরিবার প্রতি লাইনের খরচ বাবদ ১ হাজার টাকা, মিটার বাবদ ১২’শ টাকা,  বৈদ্যুতিক ওয়ারিং প্রতিবেদন বাবদ ২৮’শ টাকা ও বিদ্যুতায়নের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের খাবার বাবদ ৩ কেজি করে চাল নিয়েছে উত্তোলন করেছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক মামলামাল ক্রয়ের জন্য অবধারিতভাবে গাজীপুর বাজারের  আতিকের দোকানটিকে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুত সমিতি সূত্র জানিয়েছে, সোনাখালী গ্রামের এ পর্যন্ত ৩’শ ৩৬ টি পরিবারের জন্য বিদ্যুত সংযোগের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা ও নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এ বছরের মধ্যে প্রতিটি ঘরেই বিদ্যুত সংযোগ পৌঁছে যাবে।
একই ভাবে একই ইউনিয়নের গোডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল সর্দার সেখানকার ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার লাইনের ১’শ ৫০ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রাথমিক খরচ বাবদ ১ হাজার টাকা ও ২ কেজি করে চাল আদায় করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। এছাড়া উপজেলার কুকুয়া ইউপির রায়বালা  গ্রামের রাসেল ফকির ওরফে মিরাজুল  নামের এক দালাল  ৬০ জন গ্রাহকের প্রতিজনের কাছ থেকে ৪ হাজার ৫’শ টাকা ,   আমতলী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডে  সালাম ও  কবির নামের দু’জন দালাল ৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা করে আদায় করেছেন বলে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন।
চাঁদা উত্তোলনকারী সোনাখালী গ্রামের সোহেল রানা জানিয়েছেন, পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ পাইয়ে দেয়ার জন্য তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে খরচ নিয়েছেন। বিদ্যুত সংযোগের বিভিন্ন কাজের সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নগদ টাকা ও শ্রমিকদের খাবারের জন্য চাল উত্তোলন করা হয়েছে।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুত সমিতির প্রকৌশলী জামাল বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিদ্যুত সংযোগ অনুমোদন হওয়ার পরে কাজ করার জন্য  সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এক বছর সময় পেয়ে থাকেন।
আমাদের দপ্তর থেকে গ্রাহকদের সব সময়ে জানানো হয় কাউকে ঘুষ বা চাঁদা না দেয়ার জন্য। তবে অনেকে দ্রুত সংযোগ পেতে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েন।
এ অঞ্চলের কাজে নিয়োজিত পল্লী বিদ্যুত বিভাগের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিয়ম মাফিক কাজ চলছে। আমার শ্রমিকদের খাবারের নামে কেউ চাল সংগ্রহ করলে সে প্রতারনা করেছে।
আঠারোগাছিয়া ইউপির চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ জানান, স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য শাহীন মিয়াসহ ভূক্তভোগীদের কাছ থেকে চাঁদার টাকা ও চাল উত্তোলনের অভিযোগ জেনেছি। সোহেল রানাকে তা ফেরত দিতে বলেছি।  
প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমতলী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো.মতিয়ার রহমান এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জি এম দেলওয়ার হোসেন বিদ্যুত বিভাগ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও জানিয়েছেন, “এই টাউট শ্রেণি সরকারের সাফল্য ও ভাবমূর্তি নষ্ট করতে উঠে পড়ে লেগেছে। এদেরকে এখনই প্রতিরোধ করা প্রয়োজন”  যোগাযোগ করা হলে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুত সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মনোহর কুমার বিশ্বাস এবং  বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী দিলিপকুমার সিকদার মুঠোফোনে জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. মোখলেছুর রহমান বলেছেন,  বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এরকম ঘটনা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ