ঢাকা, সোমবার 23 July 2018, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ডিজিটাল মাপযন্ত্র ব্যবহার করা হয় না : চাষীরা ঠকছে

মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা সদর সংবাদদাতা: চুয়াডাঙ্গা জোনে ২০১৬-২০১৮ অর্থ বছরে ২১ হাজার ৭১৫ বেল ও ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ২৪ হাজার ১৯৮ বেল আঁশ তুলা উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদিত তুলা চাষীরা ইউনিট কার্যালয়ে নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে গিয়ে বেশ ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে। সরকারিভাবে ডিজিটাল মাপযন্ত্র ব্যবহার করে তুলা মাপার নিয়ম থাকলেও তুলা ইউনিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান কাঁটা মাপযন্ত্র ব্যবহার করে তুলা মাপার কারণে প্রতি মণে ৪/৫ কেজি তুলা বেশী চলে যায়। ওই বেশী হওয়া তুলার টাকা ইউনিট কর্মকর্তা দুজন বেসরকারি তুলা ক্রেতাদের কাছ থেকে নিয়ে নেয়। তুলা কেনাবেচায় মণ প্রতি ৬০ টাকা প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড. আব্দুস সালামকে দিতে হয় বলে অভিযোগ করে দামুড়হুদা উপজেলার চন্দ্রবাস গ্রামের বক্কার আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম, একই গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে সাদেকুল ও মরহুম আব্দুল জলিলের ছেলে আখতার ফারুক। তবে তিনি পুরোপুরি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ডিজিটার মাপযন্ত্র দিয়ে পরবর্তীতে তুলা মাপা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও অনিয়মের মূল হোতাই অভিযুক্ত ৪ জন। তারাই এ প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত করেছে। এদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চাষীরা দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বছরের পর বছর তুলা চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।
তুলা উৎপাদন বাড়ানোর জন্য চাষীদের উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াস নিয়ে কোন সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলেই বাধসাধে প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড.আব্দুস সালাম, ১৫ বছরের অধিক এ জেলায় কর্মরত তুলা ইউনিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান এবং স্টোর কাম মাঠ কর্মী (অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবরক্ষক) শয়েন চন্দ্র বর্মন। তারা দুর্নীতি ও অনিয়ম যেনো কোন ভাবে প্রকাশ না সেদিকে খেয়াল রাখে।
দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে অভিযুক্ত চুয়াডাঙ্গা সদর ইউনিট সিরাজুল ইসলাম ও আলুকদিয়া তুলা ইউনিট কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা যথেষ্ট দায়িত্ব নিয়ে প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তার নির্দেশেই সব কাজ করে থাকি। তুলা এক বছরের আবাদ। সে কারণে এ চাষ অনেক চাষীই করতে চাইনা। অনেক চাষী বীজ, সার ও কীটনাশক ঋণ নিয়ে তুলা উঠার পর সেটাকা দিতে চায়না। তারা বিভিন্ন সমস্য দেখায়। তাছাড়া জিনারদের কাছ থেকে নেয়া ঋণের টাকা পরিশোধেরও একটা তাগাদা থাকে। এজন্য আমাদেরকে নানানভাবে ‘ব্যবস্থা’ করে চলতে হয়।  টাকা আত্মসাৎ প্রসঙ্গে স্টোর কাম মাঠ কর্মী (অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবরক্ষক) শয়েন চন্দ্র বর্মন বলেন, প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড.আব্দুস সালাম যেটা বলেন আমি সেই মোতাবেক কাজ করি। সে ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম হলেও আমার কিছুই করার নেই।
তাছাড়া এ সব সন্ধান করে কোন লাভ নেই। আমরা যা করি তার প্রমাণ করা যাবেনা। প্রতি অর্থ বছরে যশোর, ঢাকা ও মন্ত্রণালয় থেকে চুয়াডাঙ্গা তুলা উন্নয়ন বোর্ড জোন কার্যালয়ের সকল কাজ ও হিসাব-নিকাশের নিরীক্ষা করা হয়। ওই সময় ‘স্যার তাদের ম্যানেজ’ করে। সে কারনে ‘লিখে’ কিছু করা সম্ভব নয়। স্যারের সঙ্গে দেখা করেন। ১৫ বছরের অধিক এ জেলায় কর্মরত তুলা ইউনিট কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান এবং স্টোর কাম মাঠ কর্মী (অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবরক্ষক) শয়েন চন্দ্র বর্মন, চুয়াডাঙ্গা তুলা উন্নয়ন বোর্ড জোন কার্যালয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের দায় আপনার ওপরে চাপিয়েছে বলেছে, ‘স্যারের নির্দেশ ছাড়া কোন কাজই আমরা করিনা’। সেটা যদি ‘দুর্নীতি ও অনিয়ম হয় তার দায়িত্বও আমাদের নয়’।
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা ড.আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি নির্দেশ দিলেই তারা সব করবে কেনো ? আমার ওপর দায় চাপিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। আমি তো গত ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা জোনের দায়িত্ব নিয়েছি। এর আগেও ওরাই এ জোন কার্যালয়ে কর্মরত ছিলো, এখনও আছে। তারা এত দিন কি করেছে সেটা দেখা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ