ঢাকা, সোমবার 23 July 2018, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫, ৯ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সোনারগাঁ : সংশয় উৎকণ্ঠা নিয়েই চলছে সব দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) থেকে জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মহাজোটের ১১ জন। আওয়ামী লীগ থেকে ৮ জন ও তাদের শরিক দল জাতীয় পার্টির ৩ জন। ২০ দলীয় জোটের ৭ জন, বিএনপির ৬ জন ও তাদের শরিক দল জামায়াতের ১ জন

রুহুল আমিন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনটিতে প্রার্থীরা সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের পাশাপাশি নতুন নতুন নেতারা মনোনয়নের জন্য গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী মহাজোটের আওয়ামীলীগ থেকে ৮ জন, তাদের শরীকদল জাতীয় পার্টির ৩ জন। ২০ দলীয় জোট থেকে বিএনপি’র ৬ জন ও জামায়াতের ১ জন। আবেগ, উৎকন্ঠা ও আতঙ্ক নিয়েই চলছে সকল দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি।
সোনারগাঁয়ের রাজনীতির ইতিহাস, স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনটিতে আওয়ামীলীগের ১৯৭০ সালে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন সাজেদ আলী মোক্তার। ১৯৭৩ সালে জাতীয় সাংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সাদস্য নির্বাচিত হন মোবারক হোসেন। এবং ১৯৮৬ সালেও সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এ আসনটি আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। পরে দলীয় কোন্দলের কারণে এ আসনটি বারবার আওয়ামী লীগের হাত ছাড়া হতে থাকে।
গত ১৯৯১, ১৯৯৬, ১৫ ফ্রেরুয়ারি প্রহসনমূলক নির্বাচন ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির অধ্যাপক রেজাউল করিম এমপি নির্বাচিত হয়েছেন এবং পরে তিনি প্রতিমন্ত্রীর হওয়ার সুযোগ লাভ করেন। এর পর থেকে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির ঘাটি হিসেবে রুপ নেয়।
২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে অংশ নিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর পর আ”লীগ বিজয়ের মুখ দেখেন। হাত ছাড়া হয়ে যায় সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির ঘাটি।
২০১৪ সালেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায়, কেন্দ্রের নির্দেশে আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোশারফ হোসেন মনোনয়ন তুলে নিলে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত হন। দ্বিতীয়বারের মতো আসনটি হাত ছাড়া হয় বিএনপির।
সম্প্রতি সোনারগাঁ উপজেলা মাঠ জড়িপে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী, কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম উৎকন্ঠা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নেতাদের উৎকন্ঠা, কে পাচ্ছেন দলের মনোনয়ন। কর্মীদের ভাবনা আমরা কার পক্ষে কাজ করবো, কে পাচ্ছেন দলের টিকেট! সুষ্ঠু নির্বাচন আদৌ কি হবে, না হবেনা, তারা কি তাদের পছন্দের নেতাকে ভোট দিতে সত্যি পারবেন ? সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এমন আতঙ্কই বিরাজ করছে।
তারপরও থেমে নেই  বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জনসেবার পাশাপাশি ব্যাপকভাবে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠক করছেন। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কর্মসূচী পালনসহ উপজেলা জুড়ে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের মাধ্যমে নিজ নিজ প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর মাধ্যমে বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় হাইকমান্ডের কাছে নিজের যোগ্যতা প্রমাণে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। এর ফলে, চরম উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের মাঝেও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সর্বত্র এখন নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে।
আওয়ামীলীগ
এ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপকমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক এএইচএম মাসুদ দুলাল, কেন্দ্রীয় উপকমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম, সাবেক জেলা ছাত্রলীগ নেতা ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া ও শিল্পপতি বজলুর রহমান।
ইতিমধ্যেই এ আসন থেকে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছেন সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, ডাঃ আবু জাফর চৌধুরী বিরু, কেন্দ্রীয় উপকমিটির আন্তর্জাতীক বিষয়ক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম ও এএইচএম মাসুদ দুলালসহ আরো কয়েকজন নেতা। তারা নির্বাচনী মাঠও চুষে বেড়াচ্ছেন। শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ডকে জনগণের দ্বারে পৌঁছিয়ে দেয়ার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা বেশ আগে থেকেই গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন কর্মসূচী পালনের পাশাপাশি উপজেলা জুড়ে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, অর্থনীতিবিদ আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া ও শিল্পপতি বজলুর রহমান মনোনয়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করলেও তাদেরকে মাঠের রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক অদক্ষতার কারণে উপজেলা আওয়ামীলীগে কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে এবং মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এক হতে পারছেনা। এ অবস্থায় শেষ পর্যন্ত যদি মহাজোটগত ভাবেই নির্বাচন হয়, তাহলে আবারোও মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টি মনোনয়ন পেয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার ২৩ জুন গণভবনে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন প্রসঙ্গে মহাজোট করার কথা স্পষ্ট ভাবে প্রকাশ করেছেন।
ফলে সোনারগাঁয়ের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা এ আসনটি জাতীয়পার্টির কাছে রাখার জন্য দলের চেয়ারম্যানের কাছে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া সোনারগাঁ আওয়ামীলীগে হাফ ডজনের মতো নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী হবার কারণে কারো উপর আস্থা রাখতে পারছেন না কেন্দ্র।
ফলে সোনারগাঁ আসনটি জাতীয়পার্টিকেই ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা বেশী বলে মনে করেছেন রাজনীতিবিদরা। আর এ ম্যাসেজ সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অনেকের কাছেও পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন তারা। ফলে এ আসনটিতে আওয়ামী রাজনীতিতে চরম উৎকন্ঠা বিরাজ করছে!
যদি মহাজোট থাকে তাহলে নারায়ণগঞ্জের-৩, সোনারগাঁ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতিককে ছাড় দেয়া হবে বলে সকলেই অবগত রয়েছেন। এতে সোনারগাঁয়ের আসনটি আবারও চলে যাবে বিগত দিনের মতো লাঙ্গলের কাছে। যার জন্য বীরামহীন ভাবে মাঠে কাজ করছেন বর্তমান এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা।
এদিকে দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আপাতত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের সকল মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আবারও বঞ্চিত হচ্ছে। এ কারনেই সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।
এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামীলীগ নেতা জানান, সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন কে পাবে আল্লাহই ভালো জানেন, মনোনয়নের নাম প্রকাশের ১ঘন্টা আগেও প্রধানমন্ত্রীর মন ঘুরে যেতে পারে , যা আগেও আমরা দেখেছি।
জাতীয় পার্টি
এ আসনে বর্তমান এমপি ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা অতি অল্প সময়ে ব্যাপক উন্নয়ণমূলক কাজ করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
তিনি ছাড়া এ আসনটিতে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরও যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ ও কেন্দ্রীয় মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক অনন্যা হুসেইন মৌসুমী।
গোলাম মসীহ ও অনন্যা হুসেইন মৌসুমী জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও তারা দীর্ঘদিন যাবৎ মাঠের রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় থাকায় মনোনয়ন দৌড়ে লিয়াকত হোসেন খোকা তাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।
এছাড়া যেহেতু আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির মহাজোটের সম্ভাবনা রয়েছে তাই জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা তার ক্লিন ইমেজ ও জনপ্রিয়তার দ্বারা আবারো এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হবেন এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিএনপি
রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় থাকা ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠের রাজনীতিতে সুবিধা করতে না পারলেও দলের মনোনয়নের প্রত্যাশায় নিজ নিজ বলয় নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
২০ দলীয় জোটের প্রধান দল বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল, নারয়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এস এম ওয়ালিউর রহমান আপেল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অধ্যাপক রেজাউল করিম এবং আজহারুল ইসলাম মান্নান দু’জনই চরম বিতর্কিত। তাদের মধ্যে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে বিএনপিকে আবারো এ আসনটি হারাতে হবে। বিএনপিকে সোনারগাঁ উপজেলার এ আসনটি আবার পুনরুদ্ধার করতে সৎ, মার্জিত, সু-শিক্ষিত ও ক্লিন ইমেজের কাউকে মনোনয়ন দিতে হবে।
জামায়াত
সোনারগাঁয়ের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উপর ভরসা করলে, তৃতীয়বারের মতো বিএনপির এ আসনটি হাতছাড়া হতে পারে। মনোনয়ন দিতে প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল করলে এবারও নারায়ণগঞ্জ-৩ এ আসনটি ২০ দলীয় জেটের হাতছাড়া হয়ে যাবে।
সোনারগাঁবাসী সবসময় সৎ, সু-শিক্ষিত ও যোগ্য লোককে স্বার্থহীন ভাবেই ভোট দেয়, তাই সোনারগাঁয়ের ভোটের রাজনীতির ইতিহাস। সোনারগাঁয়ে পেশীশক্তি ও টাকার বাহার কোন আমলেই ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারেনি। বর্তমানে সোনারগাঁবাসী আরো বেশী সচেতন।
এছাড়াও সরকার দলীয় এমপির পরিবর্তে শরীক দলের এমপি থাকার যে সুবিধা তাও আবার সোনারগাঁবাসী উপলব্ধি করেছে বর্তমান জাতীয়পার্টির এমপির মাধ্যমে। সব মিলিয়ে আওয়ামীলীগের অপশাসনের হাত থেকে মুক্তিকামী সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে জামায়াত নেতার বিকল্প নেই।  এমনটাই মনে করছেন জামায়াতের বিজ্ঞজনেরা।
রাজনৈতিক অদক্ষতার কারণে সোনারগাঁ পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে যারাই নির্বাচন করেছেন, ১টিতেও তাদের কেউই জয়ী হতে পারেনি। যেখানে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির ঘাটি মনে করা হয়। সেখানে বিএনপির স্থানীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের এমন ভরাডুবির কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে বিতর্কিত রেজাউল ও মান্নানের চরম অর্ন্তদ্বন্দ্ব।
জানা যায়, সোনারগাঁয়ে রেজাউল ও মান্নানের দ্বন্ধ নিরষন না হলে, জোটের শরীকদল জামায়াতকেই মনোনয়ন দিতে পারেন।
সোনারগাঁ আইডিয়াল কলেজের প্রিন্সিপাল জামায়াত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম নির্বাচনমূখী দল। আমরা সবসময় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুত থাকি ও কর্মসূচী দিয়ে থাকি। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল যাকে জোটের পক্ষে মনোনয়ন দিবে আমরা তার জন্যই কাজ করবো।
আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁয়ের এ আসনটিতে যেন জামায়াতকে জোট মনোনয়ন দেন। আমাদের দলের গঠনতন্ত্রে কেউ মনোনয়ন চাইতে পাড়বে না। দল যাকে জনগনের জন্য যোগ্য মনে করে  তাকেই নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দেন। জামায়াতে ইসলামী মনে করছেন সোনারগাঁয়ে জামায়াত নির্বাচন করলে জনগণ তাদের মূল্যায়ন করবে অন্য সকল দলের উপরে।
ইসলামীক দল
এদিকে সোনারগাঁয়ের এ আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতিমধ্যে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। দলের নারায়ণগঞ্জ জেলার উপদেষ্টা ও জেলা মুজাহিদ কমিটির সভাপতি মাওলানা ছানাউল্লাহ নূরী এ আসন থেকে হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচন করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ