ঢাকা, শুক্রবার 16 November 2018, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিলুপ্ত ধারায় মামলা নয়: হাইকোর্ট

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিলুপ্ত ১৬ (২) ধারায় দেশের থানাগুলোতে মামলা দায়ের না করতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিভিন্ন থানায় ওই ধারায় করা কয়েকটি মামলার আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানিকালে সোমবার বিচারপতি এম. ইনায়তুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

প্রায় ২৭ বছর আগে আইনটির ১৬ ধারা বাতিল করা হলেওে এখনো অজ্ঞতাবশত বিভিন্ন থানার পুলিশ ওই ধারায় মামলা করে থাকে।

আদেশের পর ওই বেঞ্চের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইউসুফ মাহমুদ মোরশেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ ধারা ২৭ বছর আগেই বাতিল হয়েছে। কিন্তু ‘ভুলবশত’ দেশের বিভিন্ন থানায় এখনো ওই ধারায় মামলা করা হচ্ছে। যেহেতু আইনের ওই ধারার কোনো অস্তিত্বই নেই, তাই ওই ধারায় মামলা করাটা বেআইনি। তাই হাইকোর্ট ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ (২) ধারায় মামলা না করতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, বিগত দুই তিন মাস ধরে হাইকোর্টের এই বেঞ্চের বিচারপতিরা আমাকে বলেন, যেহেতু ওই ধারা আইনে নেই, তাই যেন পুলিশ আর এ ধরায় মামলা না করে। বিষয়টি পুলিশ হেকোয়ার্টারকে জনাতে বলেছিলেন।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, আমি আদালতে নজরে আসা বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানালেও কোনো কাজ হয়নি।

তাই আজ হাইকোর্ট এ বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই দুই তিন মাসে ওই ধারার অধীনে করা কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০টি মামলার আসামিরা এই বেঞ্চে জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

সরকারের এই আইন কর্মকর্তা বলেন, বিলুপ্ত ১৬ ধারায় ‘প্রিজুডিস’, অর্থাৎ অপরাধ সংগঠনের আগে গোপন সলাপরামর্শ, ষড়যন্ত্রের মতো বিষয়ের কথা বলা ছিল। বিলুপ্ত ওই ধারায় মামলা হওয়ার কারণে আদালত জামিন বিবেচনা করেন। সে কারণে অপরাধ করেও অনেকে পার পেয়ে যাচ্ছেন। আবার অপরাধ না করেও অনেককে কারাগারে কাটাতে হচ্ছে।’

জানা যায়, ১৯৯০ সালে এইচ এম এরশাদের পতনের পর তখনকার সরকারপ্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ একটি অধ্যাদেশ দিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬, ১৭ ও ১৮ ধারা বাতিল করে।

১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর সংসদে আইনের ওই সংশোধনী পাস করা হয়। এরপর ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার মধ্যে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ‘ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক’ কাজ থেকে বিরত রাখার যুক্তি দেখিয়ে ওই আইনের ১৬ ধারাটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়।

২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ওই অধ্যাদেশসহ ১২২টি অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাসের জন্য উপস্থাপন করা হলেও ১৬ ধারা পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টি সংসদের অনুমোদন পায়নি। ফলে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬, ১৭ ও ১৮ ধারা বাতিল অবস্থাতেই থেকে যায়। এসব ধারা বাতিল থাকলেও পুলিশ এখনো বিলুপ্ত ধারা ব্যবহার করে মামলা করছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকদের একটি অংশ ১৫ হাজার টাকার নূন্যতম বেতন নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে বিজিএমইএ ৫৫টি কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেয়। পরে ১৯ ডিসেম্বর ‘ষড়যন্ত্র’ বা ‘অপরাধ সংঘটনের চক্রান্তের’ অভিযোগ এনে আশুলিয়ার পুলিশ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিলুপ্ত ১৬(২) ধারায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনায় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের তৎকালীণ দপ্তর সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন তাদের অঙ্গসংগঠন গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্টের সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল থানার সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জীবনকে গ্রেপ্তারের বৈধতা চালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট একটি রুল জারি করে। পুলিশের গ্রেপ্তারের আদেশকে কেন আইনি এখতিয়ার বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ