ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারবিচ্ছিন্ন শিশুটি চিনতে পারছিল না বাবা-মাকে

পরিবারের সন্ধান পাওয়া বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এক শিশুর বাবা-মায়ের উচ্ছ্বাস

২৩ জুলাই, গার্ডিয়ান : অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে যেসব শিশুদের পরিবারবিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল তাদের একজন তার বাবা-মাকে চিনতে পারছিল না। মাত্র ১৫ মাস বয়সী শিশুটি পরিবার বিচ্ছিন্ন ছিল পাঁচ মাস ধরে। গত শুক্রবার তাকে হন্ডুরাসে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এতদিন সে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ছিল। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ডায়াপার পরা এই জোহানকেই  মার্কিন অভিবাসন আদালতে উপস্থিত করা হলে সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল বিশ্ব জুড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে অনুমতিবিহীনভাবে প্রবেশ করার জন্য যেসব অভিবাসীদের আটক করা হয়েছে তাদেরকে আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার করার পাশাপাশি তাদের শিশু সন্তানদের পরিবারবিছিন্ন করা হচ্ছিল। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, অভিভাকদের কাছ থেকে পৃথক করে দিলে শিশুদের দেখার জন্য মরিয়া ওই অভিভবাকরা প্রত্যাবাসিত হওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন। পরিবার বিচ্ছিন্ন করে ফেলা প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের কাছ থেকে বিছিন্ন করে ফেলার ওই প্রক্রিয়ার কারণে মার্কো অ্যান্তোনিয়ো মুনোজ নামের হন্ডুরাসের একজন বন্দি গত মে মাসে জেলের ভেতরেই আত্মহত্যা করেছিলেন।

হন্ডুরাসের জোহান নামের যে শিশুটি পাঁচ মাস ধরে পরিবার বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে বাবা-মাকে চিনতে পারছিল না সে তার বাবার সঙ্গে ছিল। শিশুটির বাবা রোল্যান্ডো অ্যান্তোনিও  দারিদ্রের হাত থেকে মুক্তি পেতে হন্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন। টেক্সাস সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পেছেনে থেকে যায় শিশুটির মা  অ্যাদালিসিয়া মন্টেসিনোস। গর্ভবতী হওয়ায় তিনি হন্ডুরাসেই থেকে যান। পরিকল্পনা ছিল, রোল্যান্ডো যুক্তরাষ্ট্রের থাকার ব্যবস্থা করতে পারলে তিনিও সেখানে যাবেন।

৩৭ বছর বয়সী রোল্যান্ডো অ্যান্তোনিও বুয়েসো কাসটিলো ছেলেকে নিয়ে তিনি হন্ডুরাস থেকে পাড়ি জমান মেক্সিকো। মেক্সিকোর রিও গ্র্যান্ডে নদী পার হয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। নদীতে ভাসমান থাকা অবস্থাতেই মার্কিন সীমান্ত প্রহরীরা তাদের দেখতে পায় এবং থামিয়ে জানতে চায় তারা কোথায় যাচ্ছে। রোল্যান্ডোর উত্তর ছিল খুব সোজা। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা আমেরিকান স্বপ্ন খুঁজতে যাচ্ছি!’ কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া অতটা সরল ছিল না। তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। বাবা ছেলেকে ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে রাখা হয়। তিনি জানিয়েছেন, ডিটেনশন সেন্টারে ছেলেকে গোসল করাবার জন্য তাকে তিন দিন ধরে অনুরোধ করতে হয়েছে। তিনি ধরে নিয়েছিলেন ছেলেকে সহ তাকে প্রত্যর্পণ করা হবে। কিন্তু পঞ্চম দিনে মার্কিন কর্মকর্তারা তাকে তার ছেলের কাছ থেকে পৃথক করে ফেলে। ২২ দিন কারাবাস শেষে তাকে প্রত্যর্পণ করা হয় আর জানিয়ে দেওয়া হয়। তার ছেলেকে হন্ডুরাসে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

প্রায় পাঁচ মাস বিচ্ছিন থাকার পর গত শুক্রবার বাবার কাছে ফিরেছে আবার ছেলে। এই দীর্ঘ সময় বিছিন্ন থাকার কারণে ছোট্ট জোহান প্রথমে তার বাবা-মাকে চিনতে পারছিল না। হন্ডুরাসে যখন রোল্যান্ডো ও মন্টেসিনোস তাদের ছেলেকে ফেরত পেলেন, তখন তাদের চিনতে না পেরে কয়েদে উঠছিল জোহান। মন্টেসিনো অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আমি তার প্রথম জন্মদিন উদযাপন করতে পারলাম না। আমি তার প্রথম হাঁটতে শুরু করা দেখতে পারলাম না। এগুলো এমন সব স্মৃতি যা সব মায়েদের কাছে অমূল্য।’ রোল্যান্ডো মন্তব্য করেছেন, ‘মার্কিন কর্তৃপক্ষ এতটা নির্দয় হবে তা আমি ভাবতে পারিনি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ