ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পবিত্র হজ্বের পর আচরণগত বিষয় নিয়ে কোনো কিছু বলা হচ্ছে না --অধ্যাপক ইশাম পায়ান আহমদ

‘উদার ইসলাম’ আলোচনায় ইসলামি স্কলাররা

২৩ জুলাই, ফ্রি মালয়েশিয়া ডটকম : মুসলমানরা দিনে দিনে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের একজন অধ্যাপক ইশাম পায়ান আহমদ।

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ‘উদার ইসলাম’ নিয়ে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে ইশাম পায়ান আহমদ বলেন, ইয়েমেনে সৌদি-নেতৃত্বাধীন বোমা হামলায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর উদাসীনতার পিছনে মূলত এই মনোভাবটি কাজ করছে।

ইসলামি রেনেসাঁ ফ্রন্ট ও জি২৫ কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কিভাবে প্রার্থনা করতে পারি আজকে আমরা তা নিয়ে কথা বলছি। কিন্ত নারীরা গাড়ি চালাতে পারে কিনা কিংবা জাকাতের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কোনো কথা বলছি না।

তিনি বলেন, উদার ইসলামের ধারণা ফিরে দেখার সময় এসেছে। মুসলমানদের মধ্যে আজকে যে বিতর্ক চলছে তা সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর কোরআনের শিক্ষা থেকে অনেক দূরে রয়েছে।

তিনি বলেন, যারা মক্কায় হজ্ব করতে আসেন, তাদের অনেকেই চিন্তিত থাকে যে তাদের হজ্ব বা উমরাহ আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা।

একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আমি দেখেছি, হজ্বের অনুষ্ঠান ভালভাবে সম্পাদনের জন্য একজন হজ¦যাত্রী ৫০ হাজার রিংগিটের বিনিময় একজন আলেমকে গাইড হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘তিনি তাকে সঠিক জুতা বা বেল্ট ব্যবহার করার জন্য বলতেন।’

তিনি বলেন, ‘এটা আরো আবেগময় উচিত। ধর্মীয় কর্মকা- কিভাবে ভালভাবে করা যায় মানুষ সেসম্পর্কে কথা বলছে, কিন্তু হজ¦ সম্পাদনের পর আচরণগত পরিবর্তন সম্পর্কে কোনো কিছু বলছে না।’

ঈশাম বলেন, উদারবাদের ধারণা মুসলমানদেরকে কুরআনের আয়াত এবং তাদের অর্থকে অনুধাবন করতে সাহায্য করবে, যাতে মুসলমানরা শুধু ‘নরকের ভয়’ না করে, বরং জীবনের অর্থ সম্পর্কে ভাবতে পারে।

তিনি বলেন, শুক্রবারের জুমার নামাজের খুৎবায় মুসলমানদেরকে নরকের শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করা হয় এবং এটির একটি ফল হচ্ছে-ব্যক্তি জীবনে ধর্মের ভূমিকা বুঝার ব্যর্থতা।

তিনি আরো বলেন, অন্যদের দমন করার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা উচিত নয় এবং এটি কুরআনের সুস্পষ্ট বক্তব্য। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ