ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তামিম-সাকিবকে জয়ের কৃতিত্ব দিলেন মাশরাফি

স্পোর্টস রিপোর্টার : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ের জয়ের মূল ভিত্তিটা গড়ে দিয়েছেন তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। আর অধিনায়ক মাশরাফির বোলিংই দলকে জয় এনে দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে নায়ক যদি হন সাকিব-তামিম। তাহলে বোলিংয়ে অবশ্যই মাশরাফি বিন মুর্তজা। সেই সঙ্গে মুশফিক আর মোস্তাফিজুর রহমানের অবদান আছে এই জয়ে। এক যুগ আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে খেলা ম্যাচটাতে মাশরাফি ছাড়াও খেলেছেন তামিম, সাকিব ও মুশফিক। ২০০৭ সালে তরুণ তামিম ৩৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এবার নিজের অভিজ্ঞতা ঠিকই কাজে লাগিয়েছেন। উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে খেললেন ১৩০ রানের দারুণ এক ইনিংস। সাকিবকে অবশ্য ৩ রানের আক্ষেপ নিয়ে ৯৭ রানে ফিরতে হয়েছে। শেষ দিকে উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ৩০ রানের টর্নেডো ইনিংস খেললে বাংলাদেশ ২৭৯ রানের পুঁজি পায়। মাশরাফি মনে করেন জয়ের ভিত গড়ে দিতে সাকিব-তামিমের জুটিটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে মুশফিকের ইনিংসের প্রশংসা করতেও ভুল করেননি। মাশরাফি বলেন, ‘তামিম ও সাকিব খুবই ভালো খেলেছে। ওরা শুরুটা ভালো না করলে ইনিংসটা এত বড় হতো না। শেষের দিকে মুশফিকের ছোট্ট ইনিংসটি দুর্দান্ত ছিল।’ ২০০৭ সালে এই গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে মাশরাফি সাধারণ ক্রিকেটার হিসেবে খেললেও ২০১৮ সালে খেলছেন অধিনায়ক হয়ে। এক যুগ আগে ব্যাট হাতে অবদান রেখেছিলেন, এবার রাখলেন বল হাতে। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬৭ রানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার একই ভেন্যুতে স্বাগতিকদের হারালো ৪৮ রানে। দুই ম্যাচের দু’টিতে জিতে গায়ানা মাঠের প্রশংসা করতে ভুল করলেন না মাশরাফি। এই মাঠকে পয়মন্ত  ভেন্যু মনে করেন তিনি, ‘আমি এখনো ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের স্মৃতি স্মরণ করতে পারি। আমার মনে হয় এখানকার উইকেট আমাদের হয়ে কথা বলে। এই ম্যাচে শুরুতে ব্যাটিং করা কঠিন ছিল। আমরা জানতাম ভালো বল করলে ২৮০ রান তাড়া করা প্রতিপক্ষের জন্য সবসময় কঠিন।’ টেস্ট সিরিজে ওমন বাজে হারের পর ‘ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক’ মাশরাফির কারণেই টিম বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ওয়ানডে সিরিজ শুরু হওয়ার আগে মাশরাফির কাছ থেকে এমন কিছুর প্রত্যাশা করেছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। প্রত্যাশা অনুযায়ী আরও একবার চমক দেখালেন মাশরাফি। এই ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে সতীর্থদের কী বলেছিলেন? মাশরাফির উত্তর, ‘বিশেষ কিছু বলার ছিল না। শুধু মন থেকে নিজের দেশের জন্য খেলা এবং পেছনে যা হয় তা ভুলে নতুন উদ্যোমে শুরু করা দরকার ছিল। শুরুটা ভালো করলে কাজ সহজ হয়ে যায়, সেটা মাথায় ছিল। আমরা যেটা চেয়েছিলাম সেটাই হয়েছে। আশা করি এখান থেকে আমরা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারব।’ ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে গেইল ও লুইসকে নিয়ে পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন ওয়ানডে অধিনায়ক। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিস্ফোরক দুই ব্যাটসম্যানকে দ্রুত বিদায় করাতেই ফলাফল নিজেদের পক্ষে এসেছে বলে মনে করছেন মাশরাফি, ‘আমরা গেইল ও লুইসকে দ্রুত ফেরাতে চেয়েছি, সেটাই করতে  পেরেছি। পরবর্তীতে আমরা ওদের ক্রমাগত চাপের মধ্যে রেখেছি এবং ফলাফল আমাদের পক্ষে এসেছে।’ ২৮০ রান ডিফেন্ড করতে নেমে শুরুর ওভারেই বল হাতে তুলে নিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। অন্যপ্রান্তে এনেছিলেন অফস্পিনার মেহেদি মিরাজকে। উইন্ডিজের দুই বাঁহাতি ওপেনার ক্রিস গেইল ও এভিন লুইসকে শুরুতেই ফেরানোর পরিকল্পনা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। মাশরাফি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছিলাম যে শুরুতে যদি ভালো বোলিং করতে পারি তাহলে এই উইকেটে ২৮০ রান অনেক বেশি। আমাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল গেইল-লুইসকে যত আগে আউট করা যায়। সেটা করতে পেরেছি। এরপর চাপটা ধরে রাখতেও সক্ষম হয়েছি।’ এসময় নিজের বোলিং নিয়েও কথা বলতে হয় বাংলাদেশ দলের অধিনায়ককে। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে বোলিং করিনি। এমনকি অনুশীলনও করা সম্ভব হয়নি। হাটু এখন ঠিক আছে। কাজগুলো সবসময়ই কঠিন। তবে আমি মাঠের সময়টা পুরোপুরি উপভোগ করি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ