ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জীবন যুদ্ধে হার নামানা সৈনিক রিপন ইসলাম ও রিপন মিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায়

রংপুর : জীবন যুদ্ধের অদম্য সৈনিক রিপন ইসলাম ও রিপন মিয়া  -সংগ্রাম

রংপুর অফিস : চোখের আলো না থাকলেও অন্তরের আলোয় আলোকিত হতে চায় জীবন যুদ্ধে হার নামানা জীবন সৈনিক ওরা দু’জন রিপন ইসলাম ও রিপন মিয়া। দুইজনের নামই রিপন। দৃষ্টিহীনতা দমাতে পারেনি তাঁদের। 

এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় মোহাম্মদ রিপন ইসলাম এবং মোহাম্মদ রিপন মিয়া কৃতিত্বের সাথে উর্ত্তীণ হয়েছেন তাঁরা। তাঁদের স্বপ্ন এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে পাস করে দেশ গঠনে অংশিদার হ'তে সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার। তবে সে স্বপ্ন পূরণের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে দারীদ্র্যতা।

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী গ্রামের রুস্তম আলীর পুত্র মোহাম্মদ রিপন ইসলাম। সে রংপুর সদর উপজেলার চকইসবপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। মানবিক বিভাগে পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৩ পয়েন্ট ৭৬ পেয়েছেন রিপন ইসলাম। সে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ব্লাই- স্কুলের তত্বাবধান স্থানীয় হাইস্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করে। এরপর চকইসবপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। বাবা একজন কৃষক। কৃষি কাজ করে দারীদ্র্যতার কষাঘাতে সংসার চালান। চার ভাইয়ের মধ্যে রিপন দ্বিতীয়। বাবার আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহায়তায় লেখাপড়া চালিয়ে যায় সে। সেখান থেকে এতদূর আসা । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। সেখান থেকে পাস করে সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার প্রত্যাশা। তবে অর্থিক সঙ্গতি না থাকায় স্বপ্ন পুরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

রিপন ইসলামের মতো রিপন মিয়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার আশা প্রকাশ করে। সেও চকইসবপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এবারে এইচ এস সি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৩ পয়েন্ট ৩৩ পেয়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার রাজবল্লভ গ্রামের নয়া মিয়ার পূত্র রিপন ইসলাম। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট সে। বাবা মুদি দোকানি। অনেক কষ্টে সংসার চালান। সে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত চন্দনপাট ব্লাই- স্কুলের তত্বাবধান স্থানীয় হাইস্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে। রিপন মিয়া তার উচ্ছ্বাস ব্যক্ত করে জানান, চোখের আলো না থাকলেও অন্তরের আলোয় এগিয়ে যেতে চান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করে জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করতে পারলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা হতে চায় সে। দৃষ্টিহীন এ দুই যুবকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না সে আশায় আগামী দিনের পথ চেয়ে আছে ওরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ