ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ কবে চালু হবে অনিশ্চিত

স্টাফ রিপোর্টার : দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনায় বন্ধ হয়ে গেছে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এতে করে এক মাস অন্ধকারে থাকবে দেশের উত্তরাঞ্চল। এ ঘটনায় তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রণালয়। এ ঘটনা গণমাধ্যমে আসায় সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হলে সরকার নড়েচড়ে বসে। অথচ এ ঘটনার প্রায় এক মাস অতিবাহিত হয়েছে।
 এদিকে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা সরবরাহে বাংলাদেশ তৈল ও গ্যাস করপোরেশন বা ‘পেট্রোবাংলা’র তদারকিতে ঘাটতি ছিল বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
তিনি বলেছেন, কয়লা সরবরাহে ‘পেট্রোবাংলা’র তদারকিতে ঘাটতি ছিল। তদন্ত শুরু হয়েছে। অতীতে যারাই খনিতে দায়িত্বে ছিলেন, তারাও তদন্তের আওতায় আসবেন।
গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী বলেন, পেট্রোবাংলাকে খনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বড়পুকুরিয়া খনির কোল ইয়ার্ড থেকে কয়লা ‘উধাও’ হয়ে যাওয়ার পর খনির শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে কয়লা সরবরাহ না পাওয়ায় বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন রোববার রাতে বন্ধ হয়ে যায়।
 এদিকে প্রাথমিক তদন্তে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনির ইয়ার্ডে কয়লার ঘাটতি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত দল। গতকাল সোমবার খনি পরির্দশন শেষে দিনাজপুর দুদক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বেনজীর আহমেদ একথা জানান।
তিনি বলেন, কয়লার মজুদ সংক্রান্ত কাগজপত্রে দেখলাম এক লাখ ৪৬ হাজার টন কয়লা মজুদ থাকার কথা। কিন্তু ইয়ার্ডে মজুদ দেখলাম প্রায় দুই হাজার টন। সেখানে এক লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লার ঘাটতি রয়েছে বলে জানান তিনি।
এরআগে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে দুদকের পাঁচ সদস্যের একটি দল বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে প্রবেশ করে।
সেখান থেকে বেরিয়ে দুদক উপ-পরিচালক সাংবাদিকদের জানান, দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে তারা এখানে এসেছেন এবং তদন্ত কাজ করছেন।

এরআগে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা নিয়ে দুর্নীতির খবর অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করে দুর্নীতি দমন কমিশন।
এদিকে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র এক মাসের মধ্যে উৎপাদনে যেতে পারবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম সরকার।
তিনি বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ এক মাসের মধ্যে কয়লা সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশ্বস্ত করেছে। সে থেকে আশা করা যাচ্ছে এক মাসের মধ্যে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে যেতে পারবে।
কয়লা সংকটের বিষয়টি খনি কর্তৃপক্ষ আগে জানালে রেশনিং পদ্ধতির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারতেন বলেও এই কর্মকর্তা জানান।
ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ১ লাখ ১৬ হাজার টন কয়লা খোলা বাজারে বিক্রি করে আনুমানিক ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বড় পুকরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবীব উদ্দিন আহমদ ও অন্যদের বিরুদ্ধে।
খনির কোল ইয়ার্ড থেকে কয়লা ‘উধাও’ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে কয়লা সরবরাহ না পাওয়ায় বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন রোববার রাতে বন্ধ হয়ে গেছে। ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ওই কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ থাকায় রংপুর বিভাগের আট জেলা বিদ্যুৎ সঙ্কটে পড়ায় বিকল্প পথ খুঁজছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।
 বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের কারণে উত্তরের ৪ জেলা রংপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারি, কুড়িগ্রামে একমাস বিদ্যুৎ বিভ্রাট হবে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) খালেদ মাহমুদ।
গতকাল সোমবার বিকেলে বিদ্যুৎ ভবনে সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি। তবে এ সংকট সমাধানে সিরাজগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান পিডিবি চেয়ারম্যান।
 রোববার রাত ১০টা ২০ মিনিটে জ্বালানি সংকটে পড়ে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরে দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কবে থেকে পুনরায় এটি চালু হবে তা বলতে পারেননি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ