ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে -মির্জা ফখরুল

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএফইউজে ও ডিইউজে’র উদ্যোগে কুষ্টিয়ায় আদালত চত্বরে মাহমুদুর রহমানের উপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

# আগামীকাল ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি ও সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা
স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ফোনে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, মাহমুদুর রহমানকে সেফলি বের হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছি। আমাদের দুর্ভাগ্য তারপরও পুলিশের উপস্থিতিতে যেভাবে মাহমুদুর রহমানকে হত্যার লক্ষ্যে আক্রমণ ও আহত করা হয়েছে তা ইদানীংকালের নজিরবিহীন ঘটনা। কুষ্টিয়া পুলিশের দায়িত্বে যিনি রয়েছেন তিনি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের চেয়েও খারাপ। হামলার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত কুষ্টিয়ায় আদালত প্রাঙ্গণে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ-সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল ইসলাম, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ডিইউজের সাবেক সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, দিগন্ত টিভির উপনির্বাহী পরিচালক মজিবুর রহমান মঞ্জু, ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, কৃষিবিদ শামিমুর রহমান প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগ মুক্তচিন্তার ওপর আঘাত করে চলেছে। পরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যম কর্মী যারা স্বাধীন চিন্তা করেন, তাদের ওপর আক্রমণ করে ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছে। কোনো রকম স্বাধীন মতপ্রকাশের তারা ঘোর বিরোধী। এরা ছদ্মবেশে ভিন্ন পরিচয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। যার পূর্বশর্ত হিসেবে মুক্ত গণমাধ্যম ধ্বংস করতে চায়।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যেই যুদ্ধ করা হয়েছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, আজকে তারা এই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। তারা পরিকল্পিতভাবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ধ্বংস করছে। সরকার বিরোধী মত দমন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছে। আমি আবারও মাহমুদুর রহমানের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। যারা এর জন্য দায়ী তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
সভাপতির বক্তব্যে রুহুল আমিন গাজী বলেন, মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজকের এই সমাবেশ নিছক কোনো প্রতিবাদ সমাবেশ নয়, মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ সরকার পতনের প্রতিবাদ সমাবেশ। সরকারের পেটুয়া বাহিনী ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা মাহমুদুর রহমানের ওপর এমন হামলা চালিয়েছে যে, তিনি এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে বিচার করতে হবে।
তিনি বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে এ ন্যক্কারজনক হামলার কি ব্যবস্থা নেয়া হয় তা আমরা দেখতে চাই। ওইদিন দায়িত্বে থাকা কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন ও আদলতের পরিদর্শক পুলিশ কর্মকর্তা মনির উজ জামানসহ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা নেয়া না হয়, তাহলে আমরা বুঝবো ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। আমরা বিচারকের ভূমিকাও দেখতে চাই। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
শওকত মাহমুদ বলেন, মাহমুদুর রহমান কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। এজন্য তাকে সরকারের অকথ্য নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। জেল খাটতে হয়েছে। কিন্তু এখনো সে নির্যাতন বন্ধ হয়নি। শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ সত্ত্বেও পুলিশ কেন মাহমুদুর রহমানকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলো তার বিচার করতে হবে। ন্যক্কারজনক এ হামলার যদি বিচার করা না হয় তাহলে আমাদের আন্দোলনে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।   
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, মাহমুদুর রহমান একটি আদর্শের নাম। অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। তার ওপর হামলা করে সরকার গণতান্ত্রিক আন্দোলকে থামিয়ে দিতে চায়। বাংলাদেশের কোনো মানুষই এখন আর নিরাপদ নয়। আর প্রতিবাদ নয়, গণতন্ত্র হত্যাকারী এ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, সরকার মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়ে এদেশের  পেশাজীবী মানুষের ওপর হামলা করেছে। মাহমুদুর রহমানের প্রতিফোটা রক্তের বিচার এ দেশের মানুষ করবে।
এম আব্দুল্লাহ বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতারা সন্ত্রাসী কায়দায় মাহমুদুর রহমানের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায়। ইট, পাথর ও আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারা হত্যার উদ্দেশ্যে তার গাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর চালায়। ইট দিয়ে তার মাথা ফাটিয়ে রক্তাত্ব করে। পুলিশের সামনে এ সব ঘটনা ঘটলেও তারা কোনো রকম বাধা দেয়নি। রক্তাত্ব মাহমুদুর রহমানকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যশোরে এনে চিকিৎসা দেয়া হয়। এটা জাতির জন্য লজ্জার। 
আব্দুল হাই শিকদার বলেন, মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার অর্থ হলো এ দেশের মজলুম মানুষের ওপর হামলা। মাহমুদুর রহমানের গায়ে হাত দিয়ে সরকার তার মৃত্যুর সনদে স্বাক্ষর করেছে।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, মাহমুদুর রহমানকে আদালত থেকে নিরাপদে বের হতে নির্দেশ দেয়ার পরও কেন তার ওপর হামলা হলো। এ ব্যর্থতার জন্য আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কুষ্টিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার পদত্যাগ দাবি করছি।  
শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে এখন দেশের কোনো মানুষই নিরাপদ নয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই তারা দেশের সম্মানিত নাগরিকদের গায়ে হাত তুলছে। তাদের রক্তে রক্তাক্ত হচ্ছে এ দেশের মাটি।  ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের এ দেশ মানুষের নিরাপদ বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, সমাবেশ শেষে সাংবাদিকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। 
কর্মসূচি:
সমাবেশ থেকে বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবিতে ২৫ জুলাই ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি ও সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা করেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল ১১টায় সমাবেশ শুরু হবে। এছাড়া আজ মঙ্গলবার ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করবেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ