ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বর্বরোচিত হামলা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের জলন্ত দৃষ্টান্ত

স্টাফ রিপোর্টার : আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠেছে। সর্বমহল থেকে এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। তারা বলছেন, আদালত চত্বরে পুলিশের সামনে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের সশস্ত্র এই মহড়া দেখে নাগরিক সমাজ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠিত। একজন দেশপ্রেমিক নাগরিকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা কোন অবস্থায় মেনে নেয়া যায়না। এই হামলা প্রমাণ করে দেশে কোন নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নেই। সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে এ ধরনের ঘটনা কখনোই ঘটতো না।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি: হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক এ বিজ্ঞপ্তিতে সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক এই দাবি জানান।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একটি মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে মাহমুদুর রহমান আদালতের পবিত্র চত্বরে যে ন্যাক্কারজনক হামলার শিকার হয়েছেন; তাতে পুরো দেশের মানুষ স্তম্ভিত। সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে এ ধরনের ঘটনা কখনোই ঘটতো না।
বিজ্ঞপ্তিতে মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়।
হেফাজতে ইসলাম: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এক বিবৃতিতে কুষ্টিয়ার আদলত চত্বরে আমারদেশ পত্রিকার মজলুম সম্পাদক, সাহসী কলম সৈনিক, দেশেপ্রেমিক মাহমুদুর রহমানকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ আদালতের ভিতরে অবরুদ্ধ করে রাখার পর আদালত থেকে বের হলে পুলিশের সামনেই নগ্ন হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
গতকাল দেয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, আদালত চত্বরে পুলিশের সামনে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের সশস্ত্র এই মহড়া দেখে নাগরিক সমাজ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠিত। একজন দেশপ্রেমিক নাগরিকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা কোন অবস্থায় মেনে নেয়া যায়না। এই হামলা প্রমাণ করে দেশে কোন নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নেই।
আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী বাহিনী সামনে ছাত্রলীগের সশস্ত্র মহড়া দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা সরকারের জন্য কল্যাণকর নয়। আদালাত অঙ্গনে, পুলিশ প্রহরায় মাহমুদুর রহমান রক্তাক্ত হলো। নাগরিক স্বাধীনতা, মুক্তিযোদ্ধাদের ‘সুশাসন ও মৌলিক মানবাধিকার বলতে আর কিছুই থাকল না।
তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান একজন ঈমানদার, দেশপ্রেমিক বীর, জাতির সাহসী সন্তান। তার ওপর নগ্ন হামলা ফ্যাসিবাদী শাসনের জলন্ত দৃষ্টান্ত। মহান আল্লাহর মেহেরবানিতে তিনি জীবন রক্ষা পেয়েছেন। “আমি একাই দেশের জন্য প্রাণ দেবো। ইসলামের জন্য প্রাণ দেবো” তার এই ঈমানদীপ্ত সাহসী উচ্চারণে দেশপ্রেমিক নাগরিকরা উজ্জীবিত।
তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমানের ওপর বর্বরোচিত হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। আমরা প্রশাসনের নিকট হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। এবং মহান আল্লাহর দরবারে এই জালেমদের জুলুমের হাত থেকে দেশ এবং এদেশের জনগণকে রক্ষা করার জন্য কায়মনোবাক্যে ফরিয়াদ করছি।
আইন-সালিশ কেন্দ্রের উদ্বেগ: আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রীর ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মানহানির মামলা করেন। গত রোববার মাহমুদুর রহমান আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করে স্থায়ী জামিন দেন।
গণমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসময় আদালত প্রাঙ্গণে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে আদালতের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে নিজের গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করলে লাঠি ও ইট দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে পুলিশের সহযোগিতায় তিনি যশোর এয়ারপোর্টে পৌঁছান বলে জানা যায়। আদালত প্রাঙ্গণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে এ ধরনের হামলা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আদালত চত্বরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। মাহমুদুর রহমান একজন আইনের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি। তার দোষ প্রমাণিত হলে আদালতই শাস্তি নিশ্চিত করবে। এরকম পরিস্থিতিতে আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে এ ধরনের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে আসক মনে করে। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বারবার আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এসেছে। এসব হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে, এ ধরনের হামলাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। যা রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা তৈরি করবে। আইনের শাসন ব্যহত করবে। তাই আসক এ হামলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম: সন্ত্রাসী হামলার কঠোর নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে দায়ীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। দলটি কোর্ট প্রাঙ্গণে পুলিশের উপস্থিতিতে মাহমুদুর রহমানের উপর সন্ত্রাসী হামলাকে আইনের শাসন ও জনগণের মৌলিক অধিকারের জন্য নজিরবিহীন হুমকিজনক ও ভীতিকর উল্লেখ করে এই জন্য সরকারকে দায়ী করেছে।
গতকাল সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে জমিয়ত সভাপতি আল্লামা আব্দুল মুমিন শায়েখে ইমামবাড়ি ও মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী দলের পক্ষে নিন্দা ও দাবীর কথা জানান।
বিবৃতিতে জমিয়ত সভাপতি ও মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, সরকারের উপর মহলের নির্দেশে কুষ্টিয়ার পুলিশ প্রশাসন দৃশ্যতঃ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদেরকে এই হামলার সুযোগ করে দিয়েছে। হামলার বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্য সশস্ত্র মহড়া এবং মাহমুদুর রহমানের তরফ থেকে বার বার প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া সত্ত্বেও পুলিশ কার্যকর কোন উদ্যোগ নেয়নি। বরং বিকেল বেলায় নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মাহমুদুর রহমান গাড়িতে তুলে বস্তুতঃ সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেন। এরপর সন্ত্রাসীরা হামলা শুরু করলে উপস্থিত পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। জনসাধারণের মনে পুলিশের এমন দলবাজি ভূমিকায় গভীর উদ্বেগ ও আতংক তৈরি করেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় হামলাকারী সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনও কোনভাবেই দায় এড়াতে পারে না।
জমিয়ত নেতৃদ্বয় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মাহমুদুর রহমান আদালতে বিচার চাইতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কোর্ট চত্বর থেকে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় বের হলেন। তিনি বিগত দিনে রাষ্ট্রের জ্বালানী সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একটা জাতীয় পত্রিকার সম্পাদক। তাঁর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বার বার প্রশাসনের নিরাপত্তা চেয়েও খোদ আদালত চত্বরে যদি এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়, তখন এই দেশের সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা গুরুতর ও ভয়াবহ, ভাবতেও গা শিউরে ওঠে।
জমিয়ত সভাপতি ও মহাসচিব মাহমুদুর রহমানের উপর হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবী করেন। তাঁরা সরকারের প্রতি প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দেয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, সকল জুলুম-অত্যাচার ও ফ্যাসিবাদি আচরণ পরিহার করে জনগণের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিন এবং ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করে স্বাধীনতার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সমুন্নত রাখুন। মনে রাখবেন, অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য জুলুম-অত্যাচার চালাতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিশ্বের কোন স্বৈরশাসক ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে পারেনি। সকল জালেম শাহীকে একটা সময়ে অবশ্যই বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড়াতে হয়।
ইসলামী আন্দোলনের নিন্দা: কুষ্টিয়ার আদালতে একটি মানহানির মামলায় হাজিরা দিয়ে আদালত থেকে বের হয়ে আসার সময় আদালত চত্বরে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ ও যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন। এক বিবৃতিত্বে নেতৃদ্বয় বলেন, আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে মাহমুদুর রহমান কুষ্টিয়া আদালতে হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁকে আদালত চত্বরে রক্তাক্ত করার ঘটনা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নেতৃদ্বয় বলেন, রাষ্ট্রের একজন সাধারণ মানুষেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। আদালত মাহমুদুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করে তাকে নিরাপত্তার সাথে ঢাকায় পৌঁছে দেয়ারও আদেশ দেন। কিন্তু তাকে নিরাপত্তা না দিয়ে তাঁর ওপর বর্বর হামলা করে আদালতকে অপমানিত করা হয়েছে। নেতৃদ্বয় হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বাংলাদেশ ন্যাপ: বন্ধ হওয়া দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে বিচারক জামিন দেয়ার পর সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গণে ‘ঘেরাও’ করে রাখে দীর্ঘসময়, তারপর যখন তিনি আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করতে গাড়িতে উঠেন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান "আদালত প্রাঙ্গনে একজন সম্পাদক, আদালত কর্তৃক জামিন প্রাপ্ত মাহমুদুর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও রক্তাক্ত করা কিসের ইঙ্গিত বহন করে?
এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া কুষ্টিয়ায় আদালত প্রাঙ্গণে একজন সচেতন নাগরিকের উপর সরকারী দলের নেতা-কর্মীদের সশ¯্র হামলা ও রক্তাক্ত করার মধ্য দিয়ে শাসকগোষ্ঠী কি আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি পরিদর্শন করলেন না? এভাবে কি একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায় আর ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংসের ইঙ্গিত বহন করে না? দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে যখন উন্নয়নের কথা জনগনকে শোনানো হয় তখন এই ধরনের ঘটনা কি সেই উন্নয়নের ইঙ্গিত বহন করে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে ফ্যাসীবাদী রাষ্ট্রের দিকে ধাবিত করে?
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, ৫০০ ধারার মানহানি মামলায় জামিন নিতে মাহমুদুর রহমান কুষ্টিয়ার আদালতে যান। হাজির হওয়ার পর আদালত জামিনও মঞ্জুর করেন। কিন্তু ততক্ষণে আদালত এলাকায় জমায়েত হন সরকারদলীয় স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা। তারা মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। এই ধরনের ঘটনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার ইঙ্গিতে, কিসের কারণে ঘটানো হয়েছে তা খুব দ্রুতততম সময়ে বের করতে হবে। যে বা যারাই এই ঘটনা গটিয়ে থাকুক না কেন আপাত দৃষ্টিতে তারা আ.লীগের প্রেমিক হলেও মনে রাখতে হবে তারাই আপনার ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট।
তারা বলেন, একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে জামিন প্রাপ্ত হওয়ার পরও সরকার সমর্থিত ছাত্রলীগ-যুবলীগের দ্বারা দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থেকে আদালত চত্বরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীদের নির্মম হামলায় প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানকে গুরুতর আহত করা, আর সেই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরব দর্শকের ভূমিকা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থানকে কোথায় নিয়ে গিছে এটা কি সরকার দলীয় নেতারা উপলব্ধি করতে পেছেন। মিডিয়া জগতের একজন সিনিয়র ও খ্যাতিমান সম্পাদকের ওপর এধরনের বর্বরোচিত অক্রমণ কোনো সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না। আদালত চত্বরে এই হামলা একটি জঘন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা এই ন্যক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যত প্রজন্মকে নেতিবাচক শিক্ষা দিবে। যা কারোই কাম্য নয়, কাশ্য হতে পারে না।
নেতৃদ্বয় এ হামলার ঘটনায় ধিক্কার জানিয়ে বলেন, আমরা দ্রুত হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় হতাশা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আরো বলেন, আমরা অনেকে মাহমুদুর রহমানের রক্ত দেখে অশ্রুসিক্ত হই,আবার অনেকেই দাঁত চিবিয়ে হাঁসি। আমরা অনেকে জাফর ইকবালের রক্ত দেখে প্রতিবাদ করি, আবার অনেকেই খুশি হই। আমরা অনেকে ব্লগারদের হত্যা করলে আনন্দ পাই, আবার অনেকে প্রতিবাদ করি। আমরা অনেকে হেফাজতকে মারলে আনন্দোৎসব করি,আবার অনেকে নীরবে অশ্রু নিপাত করি। এদেশে রাজনীতির নামে যে রক্তের হোলি খেলা শুরু হয়েছে, এর শেষ কোথায়?? এর উত্তর আমাদের বা জনগনের কারো কাছেই নেই। সুন্দর সম্ভাবনার এই দেশকে ধ্বংসের দায় আমরা কেউই এড়াতে পারিনা। এই বিভক্ত সমাজ, দেশ, মনন তৈরি করে আমরা কোন মৃত্যুপুরী রেখে যাচ্ছি?
তারা বলেন, একটা মানুষের ভিন্ন মতামত, মূল্যবোধ, ধর্মীয় বিশ্বাস-অবিশ্বাস থাকতেই পারে। সেজন্য যুক্তির প্রয়োগ এবং আইন আদালত আছে। এরকম পাশবিক পশুবৃত্তির দেশে কেউ নিরাপদ নই। নতুন প্রজন্ম এরকম দেশ চায়না।
সুশীল ফোরাম: আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহামুদুর রহমানের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সুশীল ফোরামের সভাপতি মোঃ জাহিদ ও সহ-সভাপতি এস.এম. শহিদুল্লাহসহ ফোরামের নেতারা বলেন এই হামলার মধ্যদিয়ে আবার প্রমানীত হল দেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার বলতে কিছুই নাই। অবিলম্বে যারা এই হামলার সাথে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন সুশীল ফোরামের সভাপতি মোঃ জাহিদ, সহ-সভাপতি এস.এম. শহিদুল্লাহ সহ ফোরামের নেতারা।
ইসলামী ঐক্য আন্দোলন: ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের ঢাকা মহানগরী আমীর মোস্তফা বশীরুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক ডা সাখাওয়াত হুসাইন এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের উপর সন্ত্রাসী হামলা সরকারের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহি:প্রকাশ। আদালত অঙ্গনে এহেন ঘটনা ভাবিয়ে তুলেছে। তারা বলেন, ছাত্রলীগকে সামলান জনগণ মাঠে নামলে পালানোর পথ পাবেন না। দেশ আজ জাহান্নামে পরিণত হয়েছে, ছাত্রলীগের দ্বারা নারীর প্রতি সহিংসতা,ছাত্র-শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ যেভাবে অপমাণিত হচ্ছে আওয়ামীলীগের মতো ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে মানুষ এটা প্রত্যাশা করে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ