ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিজিএমইএ আইন অমান্য করে মজুরি কমাতে চাইছে

স্টাফ রিপোর্টার: গার্মেন্টস কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ আইন অমান্য করে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি কমাতে চাইছে। গত ৫ বছর পর বিজিএমইএ কিভাবে মাত্র ১৩০০ টাকা বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করতে পারে। বিজিএমইএ করা ৬ হাজার ৩৬০ টাকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিকদের মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ ও সংহতি সমাবেশ করেছে গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন।
গতকাল সোমবার বিকেল ৪টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে ১২টি শ্রমিক সংগঠনের জোট আয়োজিত সমাবেশ থেকে মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন শ্রমিক নেতারা।
জোটের সমন্বয়ক মাহবুবুর রহমান ইসমাইলের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান শ্রমিক নেতা তাসলিমা আখ্তার, বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. ইয়াসিন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের উপদেষ্টা শামীম ইমাম, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অরবিন্দ ব্যাপারী বিন্দু, গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা রাজু আহমেদ, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের কেন্দ্রীয় নেত আমেনা আক্তার, গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লব ভট্টাচার্য্য প্রমুখ।
সমাবেশে বিলস-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দীন আহমেদ বলেন, বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে মজুরি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব করা হয় এবং তাদের পক্ষ থেকে যা প্রস্তাব করা হয়েছে তা প্রকৃতপক্ষে ২০১৩ সালের নিম্নতম মজুরির চাইতে কম। মজুরি বোর্ড সরকারের একটি আইনি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান কোনভাবেই কম মজুরি বাস্তবায়ন করতে পারে না। বিজিএমইএ মালিকপক্ষের প্রস্তাবনা প্রকৃতপক্ষে শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা। এই প্রতারণার দাঁত ভাঙা জবাব দেওয়ার সময় এসেছে।
শ্রমিক নেতা শাহ আতিউল ইসলাম বলেন, ১৯৭১-এর আগে আমরা ছিলাম পশ্চিম পাকিস্তানের উপনিবেশ। ১৯৬৯ সালে নূর খাঁ কমিশন পূর্ব পাকিস্তানের শ্রমিকদের জন্য যে মজুরি নির্ধারণ করেছিল, দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় ৫০ বছর পরে এসেও স্বাধীন দেশের শ্রমিকদের জন্য তার সমপরিমাণ মজুরিও আজ আমরা নির্ধারণ করতে পারছি না। অথচ উন্নয়নের ডামাডোলে, মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার শোরগোলে হারিয়ে যাচ্ছে শ্রমিকদের আওয়াজ। ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে দলীয়করণ করে দ্বিধাবিভক্ত করে ফেলা হয়েছে। এখন সময় এসেছে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করার, গার্মেন্টস শ্রমিকরাই সেটা পারে।
নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদ বলেন, আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যখন গার্মেন্টের শ্রমিকরা বেঁচে থাকার মতো মজুরি দাবি করতে পারছে না। অথচ শিল্পের মালিকরা গর্ব করেন রপ্তানিতে তারা শীর্ষে।
সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট টিইউসি’র সভাপতি অ্যাড. মন্টু ঘোষ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি শাহ আতিউল ইসলাম, বিলস-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দীন আহমেদ, গণসংগতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, নৃবিজ্ঞানী ও লেখক রেহনুমা আহমেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নারী সংহতির সভাপতি শ্যামলী শীল, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেহজাদ এম আরেফীন, প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমন্বয়ক গোলাম মোস্তফা, ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীরসহ অন্যান্যরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ