ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

একজন সম্পাদকের ওপর হামলার ঘটনা

দেশে অনেক কিছুই ঘটছে যা সাধারণভাবে দূর্বোধ্য। অথচ যা ঘটার কথা তা ঘটে না, যা হবার কথা তা হয় না। এ ধরনেরই একটা ঘটনা ঘটেছে গত রোববার কুষ্টিয়া আদালতে। মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া আদালতে মানহানির মামলা হয়েছে। সেই মামলায় জামিন নিবার জন্য তিনি কুষ্টিয়া আদালতে যান। মামলাটি করেছিলেন কুষ্টিয়া ছাত্রলীগের সভাপতি। কুষ্টিয়া আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিন পেয়ে যান। জামিনের পর তিনি আদালত থেকে বের হবার পর আক্রান্ত হন। ইট-পাথরের আঘাতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তিনি যে গাড়িতে উঠছিলেন সে গাড়িটিও ভাঙচুরের শিকার হয়। জনাব মাহমুদুর রহমান দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। তার সাথে একজন সাংবাদিক নেতাও ছিলেন। সে সাংবাদিক নেতাও আহত হন। আহত মাহমুদুর রহমানের রক্তাক্ত ছবি দেশের সংবাদপত্রসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হয়। মন বলে যাদের কিছু আছে তারা সকলেই এ দৃশ্য দেখে ব্যথিত হয়েছেন। একজন সম্পাদক এবং একজন সুপরিচিত লেখক সাংবাদিক এইভাবে পুলিশের সামনে পুলিশের অবগতির মধ্যে আদালত চত্তরে আক্রান্ত হওয়ায় আমরা অপরিমেয় বিস্ময় প্রকাশ করছি।
বিস্ময় আরও এই কারণে যে, যে পরিবেশে যে অবস্থায় এই আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে তাকে আকস্মিক কোনো ঘটনা বলে মেনে নেয়া যায় না। উনি আদালতে যাওয়ার সময় থেকেই ছাত্রলীগ ও তাদের সাথীরা বিক্ষোভ প্রকাশ করছিল। জামিন পাওয়ার পর বেলা ১টা থেকে প্রায় সাড়ে ৪টা-৫টা পর্যন্ত তিনি কোর্টের ভিতরে অবরুদ্ধ ছিলেন। এ সময় ফেসবুকে তিনি তার নিরাপত্তাহীনতার কথা সবাইকে জানিয়েছিলেন। আদালতের বিচারকরাও তা জানতেন। এমনকি একজন ম্যাজিষ্ট্রেট তার পক্ষে থানার ওসিকে টেলিফোন করে মাহমুদুর রহমানের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য বলেছেন। আদালত প্রাঙ্গণে যথেষ্টসংখ্যক পুলিশ ছিল, তারাও সব বিষয় দেখেছেন এবং জানতেন। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলেও আদালত চত্তর থেকে বিক্ষোভকারীদের সরানো হয়নি এবং মাহমুদুর রহমানের নিরাপত্তার ব্যবস্থা তারা করেনি। সব শেষে পুলিশ যে গাড়ীতে তুলে মাহমুদুর রহমানকে বের করে আনার ব্যবস্থা করেন মাহমুদুর রহমান ওঠার পর সে গাড়ীটি আক্রান্ত হয়। পুলিশ তাকে রক্ষা করতে পারেননি বা করেননি। গাড়ী থেকে তাকে বের করে একজন মহিলা আইনজীবীর অফিসে আশ্রয় দেয়া হয়। সেখানেও তিনি আক্রান্ত হন।
মাহমুদুর রহমান আদালত চত্তরে আক্রান্ত হবার উপরোক্ত তথ্যবলী থেকে এটাই স্বতঃস্বিদ্ধ হয়ে উঠে যে, পুলিশের চেয়ে আক্রমণকারী ছাত্রলীগ এবং তার সাথীরা অনেক বেশি শক্তিশালী। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। পুলিশ বাহিনীকে আজ দারুণ শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হয়েছে। আমাদের এই পুলিশের চেয়ে মুষ্টিমেয় ছাত্র শক্তিশালী হতে পারে না। পুলিশ আইনের রক্ষক এবং আইনের প্রতিষ্ঠাই তাদের কাজ। গত পরশু আদালত চত্তরে যে দৃশ্য আমরা দেখলাম তা প্রমাণ করে পুলিশ আইনের রক্ষক হতে পারেননি এবং আইনের প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছেন। তাও আবার এই ব্যর্থতা আদালত চত্তরে উপস্থিত মুষ্টিমেয় ছাত্রের কাছে। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে, দেশে আইনের রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে কুষ্টিয়ার আদালত চত্তরে মাহমুদুর রহমানকে রক্ষায় পুলিশের ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে এবং যে কারণ পাওয়া যাবে তার নির্মূল ঘটাতে হবে। আর তা না পারলে ধীরে ধীরে দেশ এক নৈরাজ্যের মুখোমুখি হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ