ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অবৈধ হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মালয়েশিয়া প্রবাসী

সংগ্রাম ডেস্ক: বাংলাদেশী এজেন্টদের প্রতারণায় অবৈধ হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মালয়েশিয়া প্রবাসী। দেশটিতে বৈধতার আশ্বাস ও ভিসা করে দেওয়ার নামে বাংলাদেশী এসব এজেন্ট হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। আর এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী। একদিকে প্রতারণায় অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে অন্যদিকে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন পুলিশের অভিযানে চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন প্রতারিত বাংলাদেশী অভিবাসীরা। বিভিন্ন সময়ে মালয়েশিয়ার কথিত এজেন্ট দ্বারা প্রতারিত হওয়ার কারণেই অধিকাংশ বাংলাদেশি এবার বাংলাদেশের এজেন্টদের কাছে যান ভিসা করার জন্য। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে গিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি এজেন্টরা। এসব এজেন্টরা বাংলাদেশিদের ফিংগার প্রিন্ট করিয়েছে। আর ওই ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে প্রতারক বাংলাদেশি চক্রটি হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ঘুরেও কোন প্রকার ভিসা না পেয়ে বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকারের সাধারণ ক্ষমার আওতায় ট্রাভেল পাস কেটে বাড়িতে চলে যাচ্ছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। অথচ দীর্ঘদিন এজেন্টের পিছনে ঘুরে লক্ষাধিক টাকা দিয়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি। এখন টাকা ফেরত দেওয়া তো দূরে থাক টাকা চাইলে তাদেরকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
মালয়েশিয়ার কলকারখানা অধ্যুষিত এলাকা পেনাংয়ের সুলাইমান এই প্রতিবেদককে জানান, ২০১৭ সালে বাংলাদেশি এক এজেন্ট চার হাজার মালয় রিংগিতের (বাংলাদেশি টাকায় ৮০ হাজার) বিনিময়ে আমাকে শুধু একটি মাই ইজির কাগজ ধরিয়ে দেয়। দীর্ঘদিন ঘুরেও আমার ভিসা না হওয়ার কারণে আমাকে দেশে চলে যেতে হচ্ছে। আমি টাকা চাইতে গেলে আমাকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধামকি দেয়া হয়। পাহাং জেলার কুয়ান্তান এলাকায় কয়েক বাংলাদেশি এজেন্টের হাতে প্রতারিত হয়ে প্রায় দুই থেকে তিন শত বাংলাদেশি দেশে চলে গেছেন। এভাবেই হাজার হাজার বাংলাদেশী মালয়েশিয়ায় অবৈধ হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আর এজেন্ট হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। শীর্ষ নিউজ
মালয়েশিয়ায় জাল ভিসা তৈরির দায়ে বাংলাদেশির কারাদণ্ড
শীর্ষ নিউজের আরেক খবরে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় জাল ভিসা তৈরির দায়ে এক বাংলাদেশির ৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার মালয়েশিয়ার সেপাং সেশন কোর্টের বিচারক হারিৎ শামবিন মোহাম্মদ ইয়াসিন ৪১ বছর বয়সী বাংলাদেশী নাগরিক কাউছার শেখকে এ দণ্ড দেন।
বিচারক কাউছার শেখকে ১০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশও দিয়েছেন।
গত ২৭ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইমিগ্রেশন বিভাগ ও পুলিশের নেতৃত্বে মালয়েশিয়ার দেছা তুন রাজ্জাক চেরাস এপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে জাল পাসপোর্ট, বাংলাদেশ হাইকমিশনের সিল, ভিসা (স্টিকার) তৈরির মেশিন , সিআইডিবি কার্ডসহ একজন বাংলাদেশী, একজন ইন্দোনেশিয়ান ও একজন পাকিস্তানের নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, একটি পাসপোর্টের জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ রিংগিত (৬২০০-১,১০০০ টাকা) ভুয়া ভিসার জন্য ১৫০-২০০ রিংগিত (৩২০০-৪২০০ টাকা) ও সিআইডিবি কার্ডের জন্য ৩০ - ৫০ রিংগিত (টাকা ৫৫০-১১০০) নেওয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ