ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রংপুরে ধর্ষণ ও সহায়তার অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীর যাবজ্জীবন

রংপুর অফিস : বোরখা পড়ে ছাত্রীনিবাসে ঢুকে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও সহায়তার অভিযোগে তাজকীর হোসেন (৩২) এবং দুলালী আকতার (২৮) নামে দুই কলেজ শিক্ষার্থীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
গত বৃহস্পতিবার রংপুরের মাননীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন টাইব্যুনাল-১ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জাবিদ হোসেন আসামীদের উপস্থিতিতে এ আদেশ প্রদান করেন। আদালত একই সাথে আসামীদের ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন।  
মামলার বিবরণে জানা গেছে, রংপুর নগরীর লালবাগ খামারপাড়া এলাকায় শাকিব টাওয়ার নামে একটি বেসরকারি ছাত্রীনিবাসে থেকে রংপুর সরকারি কলেজে বাংলা তৃতীয়বর্ষে পড়ালেখা করতেন দুলালী আকতার। কারমাইকেল কলেজে অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র তাজকীর হোসেনকে পছন্দ করতেন দুলালী। কিন্তু তাজকীর হোসেন দুলালীর বান্ধবী কারমাইকেল কলেজের বাংলা তৃতীয় বর্ষের নির্যাতিত ওই ছাত্রীর কাছে প্রেমের প্রস্তাব করে প্রত্যাখ্যাত হয়। পরবর্তীতে তাজকীর দুলালীর ওই বান্ধবীকে ধর্ষণে সহায়তার শর্তে দুলালীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে রাজী হয়।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজের ভুয়া জন্মদিন পালনের কথা বলে ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর দুপুরে দুলালী তার বান্ধবী ওই ছাত্রীকে তার কক্ষে ডেকে আনেন। শীতকালীন ছুটির কারণে ওই সময় ছাত্রীনিবাসে দুলালী ছাড়া আর কেউ ছিল না। কিছুক্ষণ পর সেখানে বোরখা পড়ে ছাত্রীর ছদ্মবেশে আসেন কারমাইকেল কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মাস্টার্স শ্রেণির ছাত্র তাজকীর হোসেন। দুজনকে কক্ষে রেখে দুলালী বাইরে বেরিয়ে এসে দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়ে পাহারা দেন। এ সুযোগে তাজকীর ওড়না দিয়ে ছাত্রীটির মুখ বেঁধে জোরপূর্বক তাঁকে ধর্ষণ করেন এবং গোপনে ওই দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করা হয়। ঘটনাটি কাউকে জানালে ভিডিও চিত্র বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখান তাজকীর। লোকলজ্জার ভয়ে ধর্ষিতা বিষয়টি কাউকে জানায়নি। পরেরদিন তাজকীর ফের ধর্ষণের প্রস্তাব করলে নির্যাতিতা ঐ ছাত্রী রংপুর কোতোয়ালী থানায় তাজকীর ও দুলালীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত তাজকীর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মাদারপুর খিয়ারছড়া এলাকার হারুন অর রশিদের পুত্র এবং দুলালী একই এলাকার খিয়ারছড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার এসআই নজরুল ইসলাম অভিযোগ তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৭ মার্চ তাজকীর ও দুলালী আকতারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ ৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকার পর মাননীয় আদালত সাক্ষ্য প্রমান বিবেচনা করে গত বৃহ¯পতিবার এ রায় প্রদান করেন। সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রফিক হাছনাইন এবং আসামী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল হক প্রামাণিক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ