ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নবরূপে কেসিসির লাল হাসপাতাল নতুন ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু

খুলনা অফিস : খুলনার খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক পরিবারের লক্ষাধিক সদস্যের ভরসা বেসরকারি ক্লিনিক। এখানে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) একটি হাসপাতাল থাকলেও সেটি নিজেই ছিলো অসুস্থ। জরাজীর্ণ ভবন ও অপ্রতুল চিকিৎসা সেবার কারণে হাসপাতালের ওপর ভরসা হারাচ্ছিলো মানুষ। অবশেষে শ্রমিকদের সেই ভয় দূর হয়েছে।
আড়াই বছরের প্রচেষ্টা শেষে নতুন রূপ পেয়েছে লাল হাসপাতাল। ইতোমধ্যে ৪ তলা ভিতের ওপর দেড় তলা ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। গত ১৯ জুলাই নতুন এই হাসপাতালে রোগী দেখা শুরু হয়েছে।
এর আগে ষাটের দশকে নির্মিত খালিশপুর লাল হাসপাতালে জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের দাবি ছিলো দীর্ঘদিন থেকেই। ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট ভবনের কার্নিশ ধসে পড়লে হাসপাতাল ত্যাগ করেন চিকিৎসকরা। এরপরেই টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। ওই বছরই ভবন পুননির্মাণের কাজ শুরু হয়। চলতি মাসে এই কাজ শেষ হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর খালিশপুর ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্কের পাশেই গড়ে উঠেছে নতুন এই হাসপাতাল ভবন। দেড় তলা ভবন নির্মাণেরা কাজ শেষ হয়েছে। অর্ধ সমাপ্ত ভবনেই চিকিৎসা সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছে কেসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ।
হাসপাতালে আসা অবসরপ্রাপ্ত পাটকল শ্রমিক সবুর মিয়া জানান, অসুস্থ হলে ক্লিনিকে গেলে তারা গাদি গাদি টেস্ট দেয়, ওষুধ দেয় না। লাল হাসপাতালে টেস্ট দেয় কম, ডাক্তাররা ভাল করে টিপে-টুপে দেখে। ফ্রি ওষুধও দিয়ে দেয়।
তার সঙ্গে আসা আরেক শ্রমিক ইব্রাহিম মুন্সি জানান, হাসপাতালে ডাক্তার থাকে, ওষুধও দেয় কিন্তু ভর্তি হওয়া যায় না। রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা জেনারেল হাসপাতালে নিতে হয়। এখানে রোগী ভর্তির ব্যবস্থা থাকলে সব দিক থেকে ভালো হতো।
কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আবদুল্লাহ বলেন, লাল হাসপাতাল মূলত একটি ডিসপেনসনারি। এখানে শুধু বর্হিবিভাগ রয়েছে। খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের দুই জন মেডিকেল অফিসার, দু’জন সাব এ্যাস্টিটেন্ট মেডিকেল অফিসার ও একজন কম্পাউন্ডার বহির্বিভাগে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। আগে ছোট কক্ষে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হতো। এখন নতুন ভবন হওয়ায় ভালভাবে চিকিৎসকরা রোগী দেখতে পারবেন।
তিনি জানান, লাল হাসপাতালে এ অঞ্চলের ইপিআই কন্ট্রোল রুম রয়েছে। এখানে যক্ষ্মা রোগীদের জন্য পৃথক কক্ষ ও চিকিৎসক, ফ্যামিলি প্লানিংয়ের জন্য পৃথক কক্ষ ও চিকিৎসক রয়েছে। খালিশপুর অঞ্চলের ওয়ার্ডগুলোতে যারা স্বাস্থ্য সামগ্রী বিতরণ ও ভ্যাকসিন দেয় তারাও লাল হাসপাতালে বসে কাজ সমন্বয় করে।
প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও জানান, বর্হিবিভাগে সব ধরনের রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়। বেশকিছু ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হয়। আগেও একই রকম সেবা দেয়া হতো। তবে পুনর্নিমাণের পর সেবা কার্যক্রম বৃদ্ধির বিষয়ে তারা চেষ্টা করছেন।
এ ব্যাপারে কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী খান জানান, ৪ তলা ভিতের ওপর আপাতত দেড় তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। হাসপাতালের ভেতরে ৯টি কক্ষ, রোগীদের বসার জন্য বড় জায়গা রয়েছে। লাল হাসপাতাল আধুনিকায়নে কেসিসির মোট ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ