ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পর্দা মহিলাদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি

শামসুন্নাহার নিজামী : পথে ঘাটে হিজাবীমহিলা যেমন চোখে পড়ে তেমনি খোলামেলা মহিলাও দেখা যায়। পাশ্চাত্য দেশে এগুলো কোন বিষয় নয়। যে যার রুচি  ইচ্ছামতো পোশাকতো পরবেই। ব্যক্তি স্বাধীনতা সবারই আছে কেউ খেয়াল করার বা মন্তব্য করার রেওয়াজ পাশ্চাত্য দেশে নেই। ইভটিজিং কথাটা ইংরেজি হলেও ইংরেজদের দেশে এটা অনুর মনা রকম আছে। স্কিন টাইট পোশাক যা দিয় structure সব বোঝা যায় মাথা ঢাকা হলেও উঁচু করে বিশেষ কায়দায় মাথার  স্কার্ফ পরা। চেহারায় মেকআপ, চেহারা ঢাকা নানান রকম। যাই হোক, হিজাব আরবি শব্দ। বাংলা অর্থ পর্দা, আড়াল, অন্তরাল, প্রতিবন্ধকতা, পারিভাষিক শব্দে হিজাব হচ্ছে মহিলাদের রূপ-সৌন্দর্য, অলংকার ও প্রসাধনী এবং শরীরের গঠন প্রকৃতি পর-পুরুষের দৃষ্টির আড়াল রাখা। হিজাব বা পর্দা ইসলামে ফরজ করা হয়েছে।
আল্লাহ বলেন-হে নবী! তোমার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মু’মিনদের নারীদেরকে বলে দাও তারা যেন তাদের চাদরের প্রান্ত তাদের ওপর টেনে নেয়।এটি অধিকতর উপযোগী পদ্ধতি, যাতে তাদেরকে চিনে নেয়া যায় এবং কষ্ট না দেয়া হয়।আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।  (আহযাব:৫৯)
আর হে নবী! মু’মিন মহিলাদের বলে দাও তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানগুলোর হেফাজত করে আর তাদের সাজসজ্জা না দেখায়, যা নিজে নিজে প্রকাশ হয়ে যায় তা ছাড়া। আর তারা যেন তাদের ওড়নার আঁচল দিয়ে তাদের বুক ঢেকে রাখে। তারা যেন তাদের সাজসজ্জা প্রকাশ না করে, তবে নিম্নোক্তদের সামনে ছাড়া স্বামী, বাপ, স্বামীর বাপ,নিজের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে,বোনের ছেলে, নিজের মেলামেশার মেয়েদের, নিজের মালিকানাধীনদের, অধীনস্থ পুরুষদের যাদের অন্য কোন রকম উদ্দেশ্য নেই এবং এমন শিশুদের সামনে ছাড়া যারা মেয়েদের গোপন বিষয় সম্পর্কে এখনো অজ্ঞ।  তারা যেন নিজেদের যে সৌন্দর্য তারা লুকিয়ে রেখেছে তা লোকদের সামনে প্রকাশ করে দেবার উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে। হে মু’মিনগণ! তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর কাছে তাওবা করো, আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে। (আন নূর:৩১)
কোরআন শরীফে এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন।  এগুলো মুসলমানদের জন্য ফরজ। এই দুটি সুরা- সূরা নূর এবং সূরা আহযাব মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ ইসলামী রাষ্ট্রে পর্দার এ বিধান এসেছে। যদিও কোরআন সম্পূর্ন নাযিল হওয়ার পর মুসলমানদেরকে সব পরিবেশেই ফরজ বিধান মেনে চলতে হয়। এর আগে মক্কী যুগে সুরা বনি ইসরাইলে আল্লাহ বলেন: “যিনার ধারে কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা বেহায়াপনা ও বড়ই মন্দ পথ।” (সূরা বনী ইসরাইল-৩২)
এ আয়াতে বলা হয়েছে যিনার ধারে কাছেও যেয়ো না। অর্থাৎ যিনা-ব্যভিচার হতে পারে এমন পরিবেশ পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়। সুরা বনি ইসরাইলের তৃতীয় ও চতুর্থ রুকুতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানবসমাজের সুখ শান্তি, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও সভ্যতার ভিত্তি হিসেবে যেসব মূলনীতি দরকার তা সুন্দর করে বর্ণনা করেছেন। যাতে মদিনায় হিজরত এবং ইসলামী সমাজ গঠনের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। পুত-পবিত্র সুন্দর সমাজ গড়ার জন্য অত্যন্ত জরুরী। নারী পুরুষ অবাধ মেলামেশা আধুনিক সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, পরকালে আল্লাহর কাছে জবাবদিহির অনুভূতি সাধারণ মানুষের মনে অনুপস্থিত। যার ফলে সমাজে যিনা-ব্যভিচার মহামারীর আকার ধারণ করেছে। পর্দা অর্থ শুধু নারীর শরীর কাপড় দিয়ে আবৃত করার নামই নয়। বরং আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী চলা। আল্লাহর ভয়ে আখিরাতের কঠিন দিনে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি তার নিষেধ মেনে চলা।
নারী-পুরুষের পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। এর জন্য বিয়ে শাদীর ব্যবস্থা রয়েছে বিবাহ ছাড়াই যদি পরস্পর আকৃষ্ট হয় কুরআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে সেটি ব্যভিচার। এ প্রসঙ্গে হাদীসে বলা হয়েছে: “চক্ষুদ্বয় ব্যভিচার করে, দৃষ্টি তাদের ব্যভিচার করে, হস্ত দ্বারা ব্যভিচার করে-স্পর্শ তাদের ব্যভিচার, পদদ্বয় ব্যাভিচার করে পথে চলা তাদের ব্যভিচার, কথোপকথন  জিহ্বার ব্যভিচার, কামনা-বাসনা মনের ব্যভিচার, অবশেষে যৌনাঙ্গ এর সত্যতা প্রমাণ করে।”
দৃষ্টির অনিষ্টতা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক বলেন- “হে নবী! মুমিন পুরুষদেরকে বলে দিন তাঁরা যেন নিজেদের চোখকে বাঁচিয়ে চলে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে। এটা তাদের পক্ষে পবিত্রতম নীতি। যা তারা করে আল্লাহ সে বিষয়ে পুরোপুরি অবহিত। আর হে নবী! মুমিন স্ত্রীলোকদেরকে বলুন তারা যেন নিজেদের চোখকে বাঁচিয়ে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে।” (সূরা নূর ৩০, ৩১)
কোরআন হাদীসের নির্দেশনা অত্যন্ত পরিষ্কার। মানুষের সমাজ কে সুন্দর পুত:পবিত্র রাখার জন্য এগুলোর প্রয়োগ খুব জরুরী। কিন্তু রাষ্ট্র যন্ত্র যদি ঈমানদারদের হাতে না থাকে তাহলে সমাজে এর সকল প্রয়োগ সম্ভব না। তাই এ আয়াতগুলি মদিনায় ইসলামী সমাজে এসেছিল Theoretical হিসেবে নয় বরং practically প্রয়োগের জন্য। যে সমাজে ইসলাম প্রতিষ্ঠা থাকার কারণে নারী ছিল সম্পূর্ণ নিরাপদ। আর আমাদের দেশে যদিও দাবি করা হয় মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ চলছে কিন্তু বাস্তবে নারী আক্রান্ত হচ্ছে জন সমক্ষে, সমাবেশে। নারীর ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থেই বাংলাদেশ নারী শাসিত দেশ। নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে সফল একটি দেশ। এখানেও নারী অসহায়। এ অবস্থার অবসান সবাই চায়। এবং তার জন্য কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী  রাষ্ট্র গঠনের কোন বিকল্প নেই।
“ঈমানদারগণ তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হয়ে যাও।” (আস সফ-১৪)
“তোমরা যদি আল্লাহর সাহায্য কর তাহলে তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের স্থিতি সুদূর করে দেবেন।” (মুহাম্মদ:৭)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ