ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

আর্তনাদ
তাসলিমা কবির

মজলুমের কান্না আমি শুনেছি বহু
দেখেছি ঝরে যেতে তার তপ্ত লহু।
বুঝেছি তার সে অব্যক্ত কথার মানে
জেনেছো কি লেখা নীরব চোখের টানে।
আমি তো দেখেই গেছি কেঁদেছি অঝোর
হয়েছে কি তাতে আর কাটেনি তো ঘোর?
দীর্ঘ এ পথে আমি হেটেছি কত
মুছেছি দুই হাতে পদ চিহ্ন শত।
পারিনি থামিয়ে দিতে যাত্রা আমার
গড়েছি বুকের মাঝে সে মস্ত খামার।
রয়েছে যাতে এক ঝাঁক পথ হারা পাখি
দিবানিশি ডেকে যায় বন্ধ যার আঁখি।
কোথায় পৌঁছে দেবো ভেবে যে হই সারা
হতাশায় খসে পড়ে এক মুঠো তারা।
আবারও বিমূর্ত শোকে চোখ হয় ভারী
পাথর দৃষ্টি তবু যে ঝরে যায় বারী।
প্রতিবাদ প্রতিরোধ যদি না ‘ক আসে
অশ্রু যে আড়ালে বসে শু চুপ থাকে ব্যথা হবে
কেঁদে যাবে আজীবন হবে না পৃথা।
জালিমেরই জাল যদি নাহি দেও ছিড়ে
তুমিও পড়ে যাবে আসামীর ভিড়ে।


ছড়া
(কোটা সংস্কার)
তাসলিমা যশোর

মুক্ত দেশের মুক্ত বাতাস
রক্ত দিয়ে কিনে
পুড়ছি আজও দিনে রাতে
পুরোন পাপের ঋণে।
পাঠশালাতে যা শিখেছি
বলবো গিয়ে কোথা
অস্ত্র রেখে কলম ধরার
শিক্ষাটাও ভোঁতা!
নরম বইয়ের পাতার ফাঁকে
স্বপ্ন যারা দেখে
জাতির মেরুদ- হয়ে
ভাগ্য খাতা লেখে।
বায়ান্ন আর একাত্তরে
যায়নি তারা হেরে
সংস্কারের প্রয়োজনে
আজকে আবার ফেরে।
রক্তে এদের বিজয় আছে
নয়’ক মরার জাতি
ভয় করে না আঁধার দেখে
চোখের তারায় বাতি।
একটু ভুলে পিছলে গেলে
সামনে তারা হাটে
পেশীর জোরে আটকিয়ে পথ
বাঁধনগুলো কাটে।
হাসি মুখে খুন ঢেলে দেয়
শির করে না নত
লাঞ্ছনা আর বেফাঁস কথা
বাড়ায় বুকের ক্ষত।
সইতে পারে তাই ভেবনা
দুর্বল এরা ভীতু
প্রতিবাদের ভদ্র ধারায়
এরা অনেক থিতু।
আজকে যাদের চামড়া দিয়ে
করছো পায়ের জুতো
ক্ষমতার ওই দাপট দেখাও
পেলেই কোনো ছুতো! তারা আবার
দাঁড়াবে বীর সাজে
পরিতাপের আগুন নিয়ে
মরবে তখন লাজে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ