ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঢাকার বাইরে বিহারীদের স্থানান্তর নয়

বাংলাদেশী বিহারী পূণর্বাসন সংসদ (বিবিআরএ) পল্লবী থানা শাখার উদ্যোগে  রোববার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১২ এর কালাপানিস্থ পূর্ব কুর্মিটোল বিহারী ক্যাম্পে পূণর্বাসনের দাবীতে এক সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে।    
মিছিল পূর্ব সমাবেশে বিবিআরএ এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক নেয়াজ আহমদ খান কালক্ষেপন না করে অবিলম্বে দেশের ক্যাম্পবাসী বিহারীদের বর্তমান ক্যাম্পের স্থানেই পূণর্বাসনের দাবী জানান। মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের ক্যাম্পের যে সকল জায়গায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ নীতিমালা ভংগ করে দুর্নীতির মাধ্যমে বহিরাগত বাঙ্গালীদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দিয়েছে তা অবিলম্বে বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিবিআরএ প্রধান পৃষ্ঠপোষক সরকারের নিকট জানতে চান যে, ১৯৪৭, ১৯৭১ এ ঘর-বাড়ী হারানো বিহারীদের আর কতবার স্থানান্তর করা হবে?
সমাবেশে বিবিআরএ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার পারভেজ ভুলু বলেন যে, বর্তমান সরকার ৭০ বছর পর আইন করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘর-জমি ফেরতের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু বিহারীদের দখল হওয়া বাড়ী-ঘর ফেরত দেওয়াতো দুরের কথা পূণর্বাসনের নামে গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জ নিতে চাচ্ছে। বিহারী নেতা ভুলু বর্তমান ক্যাম্পের স্থানেই বিহারীদের পূণর্বাসনের দাবী জানিয়েছেন।
বিবিআরএ এর পল্লবী থানা শাখার ২নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আকবর আহমদ সোহেল সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন বিহারী নেতা রিয়াজ উদ্দীন মুকুল, মোঃ করিমুল্লাহ বাবু, মোঃ আরমান, মহিলা নেত্রী মুন্নী বেগম, মোঃ ভুট্টো, শেখ আলী ইমাম পাপ্পু প্রমুখ।
নানা স্লোগান দিয়ে হাজার হাজার বিহারী কালসীর সড়ক প্রকম্পিত করে তোলে। মিছিলটি কালসী ঘুরে মুড়াপাড়া ক্যাম্প ও মেডিক্যাল ক্যাম্প হয়ে মিরপুর-১১ এর এমসিসি বিহারী ক্যাম্পের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বলা হয়,দেশের ১৩টি জেলার ৭৬টি ক্যাম্পের ৩১টিই ক্যাম্পই রাজধানীর পল্লবী ও মোহাম্মদপুরে অবস্থিত। পল্লবী ও মোহাম্মদপুর এর ক্যাম্পের জায়গা কতিপয় চিহ্নিত ভূমি দস্যুদের টার্গেটের শিকার। এরা গোপনে ও দূর্ণীতির মাধ্যমে ক্যাম্পের জায়গাকে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বরাদ্দ নীতিমালা ভঙ্গ করে প্লট বরাদ্দ নিয়েছে। সরকার বিষয়টি জানার পরেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। এদিকে রাস্তাঘাট সংস্কার ও উন্নয়ন প্রক্রিয়া জোরদার হওয়ায় একতরফা ভাবে বিহারী ক্যাম্পের বহু ঘর-বাড়ী, দোকান উচ্ছেদের সম্মুখীন হচ্ছে।তাই উচ্ছেদের পূর্বে বিহারীদের পূণর্বাসনের দাবী জানিয়ে আসলেও অজানা কারনে সরকার নিরব রয়েছে।
প্রায় ১ যুগ পূর্বে কালশী হতে মিরপুর ডিওএইচএস গামী (উত্তর-দক্ষিণ) সড়ক নির্মাণ করা হয় মিরপুর-১২ এর কুর্মিটোলা ক্যাম্প এর মধ্যস্থল ভেদ করে। সে সময়ে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ঘর বানিয়ে অস্থায়ী পূণর্বাসন করেছেন। তখন হতেই মিরপুর-১২ এর কুর্মিটোলা বিহারী ক্যাম্প পশ্চিম ও পূর্ব দু’ভাগে বিভক্ত। সম্প্রতি মিরপুর ডিওএইচ গামী সড়কটি আরও ৬০ ফিট প্রশস্থ করার কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। পূর্ব কুর্মিটোলা ক্যাম্পবাসীকে ৬০ ফিট জায়গা ছেড়ে সরে যেতে বলা হয়েছে। ১ যুগ পূর্বে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ঘর বানিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, আর এখন ঘর বানানো ছাড়াই রাস্তা প্রশস্থ করার কর্মসূচী গ্রহণ করায় অসহায় ক্যাম্পবাসী বিহারীগণ উদ্বিগ্ন, বিচলিত ও আতঙ্কিত ভাবে দিনযাপন করছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ