ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা সংকটের কারণে ২ অফিসার প্রত্যাহার ও ২ কর্মকর্তা সাসপেন্ড

দেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য মজুদ না রেখে কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ ইচ্ছামতো আমলা ও দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেয়ায় কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কয়লার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

মো: আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর): দেশের উত্তর অঞ্চলের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা সংঙ্কটের কারণে দুই অফিসার প্রত্যাহার ও দুই কর্মকর্তা সাসপেন্ড। ঘটনার বিবরনে জানাযায়, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লার কারণে পার্শবর্তী এলাকায় কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। কিন্তু বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কতৃপক্ষের অবহেলার কারনে কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানীর জন্য মজুদ না রেখে খনির ডাম্পিংয়ের মজুদ কয়লা বিক্রি করে দেওয়া হয়। এ কারনে বড় পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কয়লা অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। ৩ টি ইউনিটের মধ্যে মাত্র ১ টি ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। ২টি ইউনিটের ১ টি চালু থাকলেও কয়লার অভাবে বন্ধ রয়েছে ১টি অপরটি ইউনিট টির অভার হোলিং এর কাজ চলছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কয়লা সংঙ্কটের জের ধরে ও অনিয়মের কারনে কয়লা খনির ব্যাবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো: হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ ও খনির সচিব (জিএস প্রাশাসন) আবুল কাসেম প্রধানিয়াকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন পেট্রোবাংলা। এই সব কারনে খনির মাইনিং বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত জিএম এ.টি.এস নুরুজ্জামান চৌধুরী ও ডিজিএম মো: খাদেমুল কে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। পেট্রোবাংলা জিএম (প্লানিং) মো: আইয়ুব আলী খান চৌধুরী কে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ কার্য দিবস গত ১৯ জুলাই বৃহস্পিবার বিকেলে এ আদেশ জারি করেন পেট্রোবাংলা জিএম প্রশাসন মো: মাজেদুর রহমান। প্রাপ্ত তথ্যে জানাযায় বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা নেই, কয়লা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কয়লা মজুদ না থাকায় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ করা যাচ্ছেনা। এদিকে গত ১৫ জুন থেকে খনির ভূ-গর্ভ থেকে খনিতে কয়লা উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সচিব ও খনির মাইনিং বিভাগ, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা মজুদ না রেখে বাহিরে কয়লা বিক্রি করে দিয়েছেন। এই সব কারণে জ্বালানী ও খনিজ মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে খনিজ ও জ্বালানী মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে তিনি এই আদেশ জারি করেন। অপর দিকে তাপ বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছেন চাহিদা মোতাবেক কয়লা সরবরাহ করতে পারছেনা খনি কতৃপক্ষ। কয়লা সংঙ্কটের বিষয়টি তাপ বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ আগে থেকে জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কে অবহিত করেছেন। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভূ-গর্ভের ১২১০ নং ফেসের কয়লা উত্তোলন জুলাই মাসে শেষ হয়ে যাওয়ায় ১৩১৪ ফেসে নতুন করে যন্ত্রপাতি স্থাপন করে কয়লা উত্তোলন করতে প্রায় ৩ মাস সময় লাগতে পারে।
এর পর কয়লা উত্তোলন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে খনি কতৃপক্ষ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানীর জন্য কয়লা মজুদ না রেখে খনির পুর কয়লা আমলা ও দূনীতিবাজ ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ায় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এখন  ভয়াবহ কয়লা সংঙ্কট দেখা দিয়েছে। চলতি মাসে চালু থাকা ৩ নং ইউনিটও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর দায় ভার কার? বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা বিক্রিতে অনিয়ম হয়েছে তা তদন্ত করলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে। আর এর সাথে জড়িত রয়েছে অনেক রাগো বোয়াল’রা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ