ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রূপগঞ্জে ছোট দারোগা কালাম বেপরোয়া

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের  উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) ছোট দারোগা হিসেবে পরিচিত কালাম আহসান দীর্ঘদিন একই এলাকায় দায়িত্বে থেকে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছেন। মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার ও নিরীহদের হয়রানীর অভিযোগসহ পিস্তল ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে এশিয়ান হাইওয়েতে গাড়ী থামিয়ে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত থাকেন এই দারোগা। সূত্র জানায়, উপজেলার  ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বরত উপ-সহকারী পরিদর্শক (এ এস আই) ছোট দারোগা হিসেবে পরিচিত কালাম আহসান দীর্ঘদিন একই এলাকায় রয়েছে। ইতোমধ্যে গড়ে তুলেছেন মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা। কেন্দ্রের কার্যক্রমের সংবাদ পাচার করে ও অভিযানের নির্দেশ এলেও কোন প্রকার মাদক  উদ্ধার করতে না পারা এই সহকারী দারোগার রয়েছে একাধিক ঘুষ বাণিজ্য। রূপগঞ্জ থানার এই তদন্তকেন্দ্রে যোগদানের পর থেকেই স্থানীয় ভুমিদস্যুদের সাথে সখ্যতা করে জমি দখল, বালু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়, কাঞ্চন, ভোলাব, দাউদপুর ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক মাদক স্পট থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা গ্রহণসহ সকল অপকর্ম হয় এই অসাদু ছোট দারোগার মাধ্যমে। গ্রাম্য শালিসে বিবাদীকে হাজির করাতেও রয়েছে কালামের কুখ্যাতি। এশিয়ান হাইওয়ে (মহাসড়ক), কাঞ্চন থেকে নরসিংদী রোডে ছনপাড়া রাস্তার হানকাটা বাজার এলাকায় নিয়মিত অঘোষিক চেকপোষ্ট বসানো হয় ছোট দারোগার অধীনে। মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে নগদ অর্থ আদায়সহ সাধারন লোকজনকে হয়রানী করে আসছে। এদের মাঝে হয়রানীর ভয়ে কেউ অভিযোগ না করায় বিষয়টি অজানা থেকে যায়। এমনই এক ঘটনায় গত মাসে পূবেরগাও এলাকার মধূ মিয়ার ছেলে বালু ব্যবসায়ী সজিব মিয়ার কাছে বালিবাহী গাড়ী থামিয়ে ৩০ হাজার টাকা চায়। ওই টাকা না দেয়ায় দিনদুপুরে গাজা ব্যবসায়ী সাজিয়ে  ভোলাব ফাঁড়িতে আটক করে রাখে। এ সময় তার তার পিতা মধূ মিয়াকে ও স্থানীয় মিঠুন মিয়াকেও একই অভিযোগে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।  পরে অপর (এসআই) দারোগা সাব্বির হোসেন ঘটনাটি সাজানো বুঝতে পারলে দায়িত্বরত ইনচার্জ সেলিম মিয়ার অনুমতিতে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু  ছোট দারোগা কালাম আহসান তার জেদ মেটাতে ঘটনায় ২০দিন পর মধূ মিয়াকে পিস্তল ঠেকিয়ে মাদকের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করতে বাধ্য করতে যেয়ে ব্যর্থ হয়। এভাবে ভোলাব গ্রামের সুলতান মিয়ার ১৩ শতক বিরোধকৃত জমিটি একটি হাউজিং কোম্পানীর হয়ে দখল করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে কালাম আহসান।  হানকাটা মোড় এলাকায় মোটরসাইকেল থামিয়ে কাগজপত্র দেখার নাম করে নিয়মিত আদায় করছে টাকা। না দিলেই মারধর করে নানাভাবে হয়রানী করছে। গুতুলিয়া এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম জানান, তার আপন  বোনকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে ৩’শ ফুট সড়কে ঘুরতে গিয়েছিলেন,  বাড়িতে ফেরার পথে ভাই বোনকে প্রেমিক প্রেমিকা  অপবাদ দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করে কালাম আহসান। পরে ওই এলাকার ইউপি সদস্য এসে হেলমেট না পরায় ৬ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেয়। এভাবে হয়রানী শিকার হলেও নাম প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয়রা। ভোলাব ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান বলেন, ভোলাব ফাঁড়িতে দায়িত্বরত ছোট দারোগা কালাম আহসান সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে বেড়ান। এ বিষয়গুলো ওসি সাহেবকে জানানো হয়েছে। আশা করি ব্যবস্থা নিবেন।  অভিযুক্ত (এএসআই) কালাম আহসান বলেন, কাউকে হয়রানী করা হয়নি। তবে সজিবের ঘটনাটির সাথে আমি একা জড়িত নই। এ বিষয়ে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সেলিম মিয়া বলেন, উপজেলার গুরুত্বপূর্ন ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের অধিনে ১টি পৌরসভা ও দুটি ইউনিয়ন রয়েছে। এখানে মাদক স্পট ছিল গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বেশ কিছু।  উপ সহকারী পরিদর্শক কালাম আহসানের বিরুদ্ধে এসব ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে  উর্ধ্বতন মহলকে তা জানিয়ে তদন্তপূর্বক  ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ