ঢাকা, মঙ্গলবার 24 July 2018, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫, ১০ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

২৬ মাস স্কুলের প্রাপ্য অংশ ও বোনাস পায়নি তারা

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা: বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ ‘ভেগাই হালদার পাবলিক একাডেমী’র ৩০জন শিক্ষক কর্মচারী ২৬মাস যাবত স্কুলের প্রাপ্য অংশের বেতন ভাতা ও বোনাস না পেয়ে অর্থকষ্টে জীবন যাপন করছেন। বিদ্যালয়ের প্রাপ্য বেতন ভাতার অংশ পেতে সাধারণ শিক্ষক ও কর্মচারিরা আন্দোলনে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, বিদ্যালয়ে ২৩জন শিক্ষক, ৫জন কর্মচারী ও চুক্তিভিত্তিক ১জন শিক্ষক, ১জন কর্মচারীসহ মোট ৩০জন শিক্ষক কর্মচারী গত ২৬মাস যাবত স্কুলের প্রাপ্য বেতন ভাতা অংশের কোন টাকা পাচ্ছেন না। এমনকি বছরের দু’টি ঈদ ও পূজায়ও তারা স্কুলের প্রাপ্য বোনাস থেকেও বঞ্চিত হয়ে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও বিমাতাসুলভ আচরণের কারণে স্কুলের প্রাপ্য বেতন ভাতার অংশ ও বোনাস থেকে বঞ্চিত রয়েছেন শিক্ষক ও কর্মচারিরা। ৯৯বছরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ে ২০১৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত শিক্ষক কর্মচারীরা স্কুলের বেতন ভাতার অংশের টাকা হাতে পেলেও ওই বছরের এপ্রিল মাস থেকে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত ২৮ মাস বেতন ভাতার প্রাপ্য অংশ ও বোনাস থেকে বঞ্চিত রয়েছেন তারা। এরমধ্যে প্রধান শিক্ষক যতীন্দ্র নাথ মিস্ত্রী ও তার আস্থাভাজন কয়েকজন শিক্ষক সভাপতির কাছ থেকে রেজুলেশনে স্বাক্ষর করিয়ে অনৈতিকভাবে নিজেদের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করেছেন। প্রধান শিক্ষক যতীন্ত্র নাথ মিস্ত্রী নিজের জন্য ৪৫শ টাকা থেকে আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ৯হাজার টাকা পর্যন্ত সুবিদা আদায় করে নিয়েছেন। রেজুলেশনের ব্যাপারে তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক রেজুলেশন লিখে তাতে শুধু সদস্যদের স্বাক্ষর আদায় করা হয়। ওই রেজুলেশন পড়ার ও জানার সুযোগ থাকেনা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদেরও। সুবিধা বঞ্চিত সাধারণ শিক্ষকেরা সভাপতির মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা প্রদানের বিরোধিতা করলেও প্রধান শিক্ষক ‘সুবিধা দেয়া শিক্ষকদের’ “অভিজ্ঞতার আলোকে” সুযোগ দেয়া হয়েছে জানিয়ে অন্য শিক্ষকদের বিদায় দেন। কর্তৃপক্ষের বিমাতা সুলভ আচরণের কারণে ১২জন শিক্ষক চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। দীর্ঘ দিন চুক্তি ভিত্তিক কাজ করেও কোন আর্থিক সুবিধা না পেয়ে সাবেক শিক্ষক সুধীর রঞ্জন কর ও কর্মচারী শ্যামল চন্দ্র বাড়ৈ কাজে ইস্তেফা দিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। তবে তাদের প্রাপ্য অর্থ আজও দেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। এদিকে বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষক, প্রধান শিক্ষকের বিশেষ আস্থাভাজন হয়ে সুবিধা নেয়া কতিপয় শিক্ষক স্কুলের সাধারণ বঞ্চিত শিক্ষকেরা এখন একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ